Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিপৎসীমার ওপরে নদীর পানি, দুই জেলায় বন্যা

আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও আশপাশের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে, এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৩, ০৯:০৯ পিএম

তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে উঠে যাওয়ার জেরে নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদীতেও পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এসব তথ্য জানিয়েছে।

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সোমেশ্বরী, সুরমা আর পুরাতন সুরমা নদীর কিছু পয়েন্টে পানি বৃদ্ধির কারণে লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার কিছু এলাকা স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

এতে বলা হয়, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি  স্থিতিশীল থাকলেও বাড়ছে পদ্মা নদীর পানি। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ওই নদ-নদীগুলোর পানি সমতল বৃদ্ধি পেতে পারে।

এছাড়া দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কুশিয়ারা, মনু-খোয়াই ছাড়া প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি  বাড়ছে। ফলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার চলমান বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হতে পারে।

তবে কিছুটা আশার বাণীও রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও আশপাশের উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কমে আসতে পারে। এতে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস থাকায় আগামী ৪৮ ঘণ্টায় উত্তরাঞ্চলের তিস্তা, ধরলা, দুধকুমার নদীর পানি সময়বিশেষে দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে।

আগামী ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি ডালিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলার কিছু নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, তাদের পর্যবেক্ষণাধীন পানি সমতল স্টেশন আছে ১০৯টি। এরমধ্যে পানি বেড়েছে ৭৩টি স্টেশনের, কমেছে ৩৫টির, আর অপরিবর্তিত আছে একটির। এদিকে বিপৎসীমার ওপরে উঠেছে তিনটি স্টেশনের পানি, এতে বন্যা কবলিত হয়েছে দুই জেলা।

সুনামগঞ্জের সুরমা নদীর পানি এখন বিপৎসীমার ১৬ মিটার ওপর দিয়ে বইছে। একইভাবে নেত্রকোনার কমলাকান্দার সোমেশ্বরী নদীর পানি ২৪ মিটার এবং সুনামগঞ্জের দিরাই স্টেশনের পুরাতন সুরমা নদীর পানি বিপৎসীমার তিন মিটার ওপর দিয়ে বইছে।

গত ২৩ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে ৩১৫ মিলিমিটার। এছাড়া জাফলংয়ে ২৪৫, পঞ্চগড়ে ২৩০, ছাতকে ২১৮, জারিয়াজাঞ্জাইলে ১৭৫, সুনামগঞ্জে ১৭০, লালাখালে ১৫১, দুর্গাপুরে ১০৯, গাইবান্ধায় ১০২, রোহানপুরে ৯২, মহেশখালীতে ৯০, কানাইঘাটে ৭৮, সিরাজগঞ্জ ও দিনাজপুরে ৬০ এবং ডালিয়া পয়েন্টে ৫৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা পার্থ প্রতিম বড়ুয়া বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আমরা যে পূর্বাভাস দিয়েছি তাতে আর বৃষ্টি যদি না বাড়ে তাহলে এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতি আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে উন্নতি ঘটবে। তবে বৃষ্টি বাড়লে আরও কিছু এলাকা বন্যা কবলিত হয়ে পড়তে পারে বলে তিনি জানান।

About

Popular Links