Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ছয় বছর ধরে খাঁচায় বন্দি ৯ বছর বয়সী শীলা

মারমুখী আচরণ করায় বারান্দায় একটি খাঁচা তৈরি করে শীলাকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০২১, ১০:০৩ পিএম

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার পূর্বফুল কাউন্নার গ্রামের এক শিশুকে ছয় বছর ধরে খাঁচায় আটকে রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিশুটির নাম শীলা দাস (৯)। মেয়েটি হাঁটতে পারে না, হামাগুড়ি দিয়ে চলে। আশপাশের লোকজনকে মারধর করে, কামড়ে দেয় বলে তাকে খাঁচার বন্দী করে রাখা হয়েছে। তিন বছর বয়সে শীলার শারীরিক সমস্যার বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারার পর থেকে তাকে খাঁচাবন্দী করে রেখেছেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শীলার দুই ভাই। সে মেজ। বড় ভাই স্থানীয় বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী। আর ছোট ভাইয়ের বয়স দুই বছর। বাবা একটি সেলুনে কাজ করেন। মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য একাধিকবার ভারতে নেওয়া হয়েছে। তবে অবস্থার উন্নতি হয়নি। মারমুখী আচরণ করায় বারান্দায় একটি খাঁচা তৈরি করে শীলাকে সেখানে আটকে রাখা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শীলাদের বাড়িটি টিনের, মেঝে মাটির। ঘরের সামনে মাটির বারান্দার এক কোণে মোটা জাল দিয়ে ঘিরে রাখা খাঁচায় শীলার বাস। খাঁচার পাশেই রান্নাঘরে মা চন্দনা শীল কাজ করেন আর মেয়ের দেখভাল করেন।

শিশুটির মা চন্দনা শীল বলেন, “চিকিৎসার জন্য মেয়েকে ভারতে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে জানতে পারি, সে প্রতিবন্ধী। মেয়ে নিজে নিজে কিছুই করতে পারে না। হাতে তেমন টাকাপয়সা নেই, মেয়েকে তাই এখন চিকিৎসা করাতে পারি না।”

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান কাজী শরীফুল ইসলাম বলেন, “শিশুটির পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল। আমি তাকে একটি ভাতার কার্ড করে দিয়েছি। এ ছাড়া যখন যে সহায়তা করা সম্ভব, তা করি। কিন্তু ভাতার পরিমাণ খুব বেশি না। শিশুটির চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা আমার পক্ষে সম্ভব না।”

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটির মস্তিষ্কের বিকাশ ঠিকমতো হয়নি। এ বিষয়ে আমাদের নিউরো বিশেষজ্ঞের চিকিৎসাসেবা নিতে পারলে ভালো হতো। শিশুটি হাসপাতালের রোগীকল্যাণ সমিতি বা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে সহায়তা পেতে পারে। খাঁচায় মধ্যে থাকার বিষয়টি অমানবিক। সমাজসেবার অধীনে এ ধরনের শিশুদের থাকার ব্যবস্থা আছে, সেখানে রাখা যেতে পারে।”

কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “শিশুটি আসলে বাবা-মা'র কাছে বোঝা নয়। বাবা-মা তাদের বারান্দায় শিশুটি যাতে নিরাপদে থাকে এজন্য খাঁচা নয় আসলে তাকে নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে আটকে রাখে এবং সেখানে মা-বাবা তার দেখভাল করে খাবার খাইয়ে দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “সরকারিভাবে বা সমাজসেবায় এরকম প্রতিবন্ধী শিশুদের রাখার ব্যবস্থা নেই কালুখালিতে। শিশুটি পিতা-মাতা ছাড়া থাকতে পারেনা এজন্য এই শিশুটিকে দূরে কোথাও রাখা যাচ্ছে না। শিশুটির একটি প্রতিবন্ধী কার্ড এর ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছ। এ ছাড়া তার যদি চিকিৎসার জন্য অর্থের প্রয়োজন হয় তার ব্যবস্থা আমরা ভবিষ্যতে করব।”  

About

Popular Links