Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু সম্পর্কে বাংলাদেশে আরও আলোচনা হওয়া উচিত

আজকের পৃথিবী বহুভাবে ঋণী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর কাছে। বিজ্ঞান একটি ধারাবাহিকতা। তিনি যতদূর তার কাজকে এগিয়ে এনেছেন পরের বিজ্ঞানীরা তার সম্প্রসারণ করেছেন। ১৯৩৭ সালের আজকের দিন ২৩ নভেম্বর প্রয়াত হন এই মহান 

আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৮ পিএম

ভারতবর্ষে বিজ্ঞান চর্চার জনক হিসেবে বিবেচিত হন বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু। ১৯৩৭ সালের আজকের দিন ২৩ নভেম্বর প্রয়াত হন এই মহান। তার জন্ম আমাদের জনপদ ঢাকার অদূরের বিক্রমপুরে। এই দিনে তার কীর্তি নিয়ে ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে কথা বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, বাংলাদেশে বিজ্ঞান চর্চায় অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইব্রাহীম।

জগদীশ চন্দ্র বসুকে উনবিংশ শতকের শেষ থেকে বিংশ শতকের বিজ্ঞানে আমরা সক্রিয় দেখতে পাই। তিনি প্রধানত ছিলেন পদার্থবিদ। পরে তাকে দেখি উদ্ভিদ বিজ্ঞানের সঙ্গে পদার্থ বিজ্ঞানের সম্পর্ক স্থাপনকারী হিসেবে।

প্রথমে তিনি ছিলেন বেতার প্রযুক্তি নিয়ে উৎসাহী। একই সময়ে পৃথিবীতে অনেকেই এ কাজ করছিলেন। জার্মানিতে এ কাজ করছিলেন বিজ্ঞানী হেনরিখ হার্টজ। ইতালিতে বিজ্ঞানী মার্কোনি এ নিয়ে গবেষণা করছিলেন। বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসু কলকাতার প্রেসিডেন্সি কলেজে অনেক প্রতিকূলতার ভেতর অভিনবভাবে কাজটি করছিলেন। তার মনোযোগ ছিল শক্তিশালী বেতার তৈরিতে। তবে একটি কথা বলতে হবে, তা হলো- সেসময় বাণিজ্যিক কারণেই প্রথম বেতার যন্ত্রের উদ্ভাবন নিয়ে কাজ হচ্ছিল। সবাই ভাবছিলেন কীভাবে টেলিগ্রাফ যন্ত্রের উত্তরণ ঘটানো যায়। গভীর সমুদ্রে জাহাজের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সেসময় অনাবিস্কৃত ছিল। তাই অনেক বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক এ কাজে রত ছিলেন। রেডিও আবিস্কারে ইতিহাসে মার্কোনি যেভাবে আলোচিত হয়েছেন ততটা অখ্যাত ছিলেন আমাদের জগদীশ চন্দ্র বসু।

বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর আরেক কীর্তি তার উদ্ভিদ বিষয়ক গবেষণা। বিভিন্ন উত্তেজনায় উদ্ভিদের সাড়া দেওয়ার প্রকৃতি ও পরিমাণ নিয়ে তিনি বহু গবেষণা করেছেন। যেমন- স্পর্শ করলে লজ্জাবতী উদ্ভিদের সাড়া দেওয়া। এই জন্য তিনি অত্যন্ত সংবেদশীল অনেক যন্ত্র উদ্ভাবন করেছিলেন।  

জগদীশ চন্দ্র বসু ছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ব্যক্তিগত বন্ধু। তার লেখার হাত ছিল অসাধারণ। সেটি বাংলা, ইংরেজি দুই ভাষাতেই। তিনি মাতৃভাষায় বিজ্ঞানচর্চায় অনবদ্য ভূমিকা রাখেন। তার লিখিত “অব্যক্ত” বইটি যারা পড়েছেন তারা তা অনুভব করতে পারবেন।

রবীন্দ্রনাথ বিখ্যাত ইলেক্ট্রিশিয়ান জার্নালে জগদীশ বসুর বৈজ্ঞানিক রচনাগুলো নিয়মিত পাঠ করতেন। তাদের দুজনের অনেক পত্র বিনিময়ে এসবের আলোচনা দেখা যায়।

আজকের পৃথিবী বহুভাবে ঋণী বিজ্ঞানী জগদীশ চন্দ্র বসুর কাছে। বিজ্ঞান একটি ধারাবাহিকতা। তিনি যতদূর তার কাজকে এগিয়ে এনেছেন পরের বিজ্ঞানীরা তার সম্প্রসারণ করেছেন। তার অবদান অবিস্মরণীয় তাই।

তিনি জন্মেছিলেন আমাদের রাঢ়িখালে। কিন্তু বিজ্ঞান চর্চা করেছেন কলকাতায় এবং বিদেশে। বিজ্ঞানী সত্যেন বোস যেভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেছেন তিনি তা করেননি। জগদীশ চন্দ্র বসুর জন্মভূমি বাংলাদেশে আজকের তারুণ্যের মাঝে তার সম্পর্কে আরও আলোচনা হওয়া উচিত। আমাদের বিভিন্ন বিজ্ঞান ক্লাবে তাকে নিয়ে কাজ হচ্ছে। এর আরো বিস্তৃতির প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি।

অনুলিখন : হাসান শাওন

About

Popular Links