Saturday, June 15, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আমিনবাজার ট্রাক স্ট্যান্ড: সিন্ডিকেটের মুনাফা, ভোগান্তিতে চালকরা

দোকানের আকারের ওপর নির্ভর করে ইজারাদার হাফিজ উদ্দিন প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ টাকা অর্থাৎ, প্রতি মাসে ৩০ থেকে ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছেন

আপডেট : ২৪ নভেম্বর ২০২১, ১০:৪৫ পিএম

১৯৯৬ সালে একটি আধুনিক দ্বিতল টার্মিনালে পরিণত করার লক্ষ্যে রাজধানীর উপকণ্ঠ সাভারের আমিনবাজার ট্রাক স্ট্যান্ডটি নির্মাণ করা হলেও গত ২৫ বছরেও এর দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। ট্রাক স্ট্যান্ডের জমি এখন অন্যরা বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করছে, ফলে উপকার হয়নি ট্রাক চালকদেরও।

আমিনবাজার ট্রাক স্ট্যান্ড সম্পর্কে এক চালক অভিযোগ করে বলেন, “আমরা ট্রাকচালকরাও মানুষ, কিন্তু এখানে আমাদের সঙ্গে পশুর মতো আচরণ করা হয়। টার্মিনালটি এত বড় এলাকাজুড়ে, অথচ আমাদের জন্য একটি টয়লেট নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন জায়গায়, এমনকি ট্রাকের নিচেও প্রাকৃতিক কাজ সারতে হয়।”

সম্প্রতি আমিনবাজার ট্রাক টার্মিনাল পরিদর্শন করে দেখা যায়, ট্রাক শ্রমিকদের জন্য কোনো টয়লেট বা বিশ্রামাগার না থাকলেও সেখানে প্রায় ১০০টি দোকান, ২০০টি এক্সাভেটর এবং বাস অবৈধভাবে পার্ক করা রয়েছে।

একাধিক দোকানদারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দোকানের আকারের ওপর নির্ভর করে ইজারাদার হাফিজ উদ্দিনকে প্রতিদিন ১০ থেকে ৩০ টাকা করে দিতে হয়। অর্থাৎ, হাফিজ এভাবে প্রতি মাসে ৩০ হাজার থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

এছাড়া, হাফিজ অবৈধভাবে পার্ক করা প্রতিটি বাস এবং এক্সকাভেটর থেকে থেকে ৪০ টাকা করে পান। অর্থাৎ মাস শেষে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা আয় করেন।

তবে সরকার হাফিজের এই আয় থেকে একটি পয়সাও পাচ্ছে না। কারণ, ইজারা চুক্তি অনুসারে একটি পার্ক করা ট্রাকের ক্ষেত্রে সরকার ২৪ ঘণ্টার জন্য ৪০ টাকা পাওয়ার দাবি রাখে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজ দোকান ও অবৈধ পার্কিং থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কথা স্বীকার করেছেন। আগের ইজারাদার বশির উদ্দিন একই ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে তিনি দাবি করেন।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের চেষ্টা করে হাফিজ বলেন, “ডিএনসিসি এ বছর আমাকে ৪২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় লিজ দিয়েছে। টার্মিনালে প্রতিদিন ৯০ থেকে ১০০টি ট্রাক পার্ক করা হয়। আমি শুধুমাত্র ট্রাক থেকে টোল আদায়ের মাধ্যমে এই অর্থ পরিশোধ করতে সক্ষম হব না।”

এদিকে, ট্রাক স্ট্যান্ড কমিটির সভাপতি আব্দুল জলিল বলেন, “টার্মিনালে জায়গা থাকায় এক হাজার ২০০ ট্রাক অনায়াসে পার্কিং করা যেতো। অথচ তা না করে ইজারাদার মোটা টাকা উপার্জন করছে। জায়গার অভাবে এখন মাত্র ৫০০ থেকে ৭০০ ট্রাক পার্ক করা যায়। ফলে, ২ হাজার ট্রাক মহাসড়কের পাশে পার্ক করা হয়, যা দুর্ঘটনা এবং যানজটের সৃষ্টি করে।”

টার্মিনালটি স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং ইজারাদারদের ব্যবসার কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এমনকি ডিএনসিসির কিছু কর্মকর্তাও এতে জড়িত বলে আব্দুল জলিল দাবি করেন। এ বিষয়ে ডিএনসিসির নিষ্ক্রিয়তার নিন্দা জানিয়েছেন ট্রাক মালিক ও সংশ্লিষ্টরা।

তবে, ডিএনসিসি বলছে, সীমানা ছাড়াই ছয় একর জমি থাকায়, আমরা অন্যদের জমির মালিকানা দাবি করতে বাধা দেওয়া বা কোনো কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারি না।

আমিনবাজার টার্মিনালের তিন-চতুর্থাংশ স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নেতাদের একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি রুস্তম আলী খান অভিযোগ করেছিলেন।

About

Popular Links