Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এমপিওর দাবিতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটকে শিক্ষকদের অবস্থান

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত দেশের বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে কর্মরত সাড়ে ৫ হাজার নন-এমপিও শিক্ষককে এমপিওভুক্তির দাবি জানান তারা

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ পিএম

গাজীপুরের বোর্ড বাজারে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এমপিওভুক্তির দাবিতে দেশের বিভিন্ন কলেজের নন-এমপিও শিক্ষকরা মানববন্ধন ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। বাংলাদেশ বে-সরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা এ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণাও দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (৩০ নভেম্বর) সকাল থেকে সন্ধ্যার পর পর্যন্ত তারা এ কর্মসূচি পালন করে।

আন্দোলনরত শিক্ষকরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত দেশের বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজের নন-এমপিও অনার্স মাস্টার্স পর্বের শিক্ষক-শিক্ষিকারা জড়ো হয়ে সকাল ১০টার দিকে মানববন্ধন ও সমাবেশ কর্মসূচি শুরু করেন। এ সময় তারা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত দেশের বিভিন্ন ডিগ্রি কলেজে কর্মরত সাড়ে ৫ হাজার নন-এমপিও অনার্স-মাস্টার্সের শিক্ষককে এমপিওভুক্তির দাবি জানান। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে অবস্থান করেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

বাংলাদেশ বে-সরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সারাদেশের বিভিন্ন কলেজে অনার্স-মাস্টার্সের নন-এমপিও প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক রয়েছেন। বে-সরকারি কলেজগুলোদে বিধি মোতাবেক নিয়োগপ্রাপ্ত ওই শিক্ষকদের জনবলে অন্তর্ভুক্তি না থাকার অজুহাতে দীর্ঘ ২৯ বছর থেকে এমপিওর বাইরে রাখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ বেতন দেওয়ার কথা থাকলেও অধিকাংশ কলেজ কর্তৃপক্ষ তা দিচ্ছে না। অথচ একই প্রক্রিয়ায় নিয়োগ পেয়ে সদ্য জাতীয়করণ হওয়া কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকরা ক্যাডার/নন-ক্যাডারভুক্ত হয়েছেন। অন্যদিকে, মাস্টাসের্র সমমান বা কামিল শ্রেণির শিক্ষকরাও এমপিওভুক্ত হয়েছেন। অথচ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকরা এনটিআরসিএ সনদধারী হয়েও জনবল ও এমপিও নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারছেন না, যা চরম বৈষম্য এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী।

ফেডারেশনের সভাপতি হারুন-অর-রশিদ বলেন, ‘‘দীর্ঘ ২৯ বছর থেকে পেশাগত দাবি আদায়ের জন্য শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করার পরও আমরা সরকারি বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। বর্তমান শিক্ষাবান্ধব সরকারের মাধ্যমে শিক্ষা সেক্টরে অনেক বৈষম্য কমেছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় উচ্চশিক্ষাদানে নিয়োজিত সারাদেশের মাত্র সাড়ে ৫ হাজার শিক্ষক এখনও এমপিওভুক্তির বাইরে রয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও শিক্ষামন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনার মাধ্যমে প্রচলিত জনবল কাঠামো সংশোধন করে এমপিওভুক্তি চাই, বেঁচে থাকার সুযোগ চাই।’’

এ বিষয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মশিউর রহমান বলেন, ‘‘শিক্ষকদের এ আন্দোলন সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। কারণ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি অনার্স ক্লাসের শিক্ষক নিয়োগের সময় শর্তই থাকে যে তাদের বেতন-ভাতা প্রচলিত কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষ দেবে। তারপরও বেতন-ভাতা? এমপিওভুক্তির জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানে এসে আন্দোলন করা অযৌক্তিক। তারপরও শিক্ষামন্ত্রী বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে যাচ্ছেন।’’

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, আন্দোলনরত শিক্ষকরা সন্ধ্যার পর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের গেটে অবস্থান করছিলেন। তারা শিক্ষামন্ত্রীর আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত এ অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন।

About

Popular Links