Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গবেষণা: করোনাভাইরাস থেকে সেরে ওঠা অর্ধেকের বেশি মানুষ ‘লং কোভিডে’ ভুগেছেন

প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুরা কোভিডের সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পর ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন

আপডেট : ১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৪:৫৭ পিএম

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে বিশ্বব্যাপী প্রায় ২২ কোটি ৬০ লাখ মানুষ করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি মানুষ কোভিড-পরবর্তী উপসর্গ অনুভব করেছেন বলে সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে। 

সাধারণত সুস্থ হওয়ার ছয় মাস পর্যন্ত অনুভূত এই উপসর্গ “লং কোভিড” বা দীর্ঘ কোভিড নামেও পরিচিত।  

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটির এক গবেষক দল এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছে।  

গবেষকরা, ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৫১ জন টিকা নেয়নি এমন ব্যক্তির ওপরে সমীক্ষা চালিয়েছেন। এদের মধ্যে সবাই ২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২১ সালের মার্চের মধ্যে কোভিড সংক্রমণ থেকে সুস্থ হয়েছেন। 

গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশুরা কোভিডের সংক্রমণ থেকে সেরে ওঠার পর ছয় মাস বা তারও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগেছেন।  

যা রোগীর সাধারণ সুস্থতা, গতিশীলতা বা অঙ্গের কার্যকারিতাকে প্রভাবিত করেছে। অর্থাৎ, বেঁচে থাকা দুই জনের মধ্যে একজন লং কোভিড উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।  

লং কোভিডে আক্রান্ত ব্যক্তিরা দীর্ঘ সময়ের জন্য ওজন হ্রাস, ক্লান্তি, জ্বর, ব্যথা অনুভব করেছেন।  

এছাড়া, কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ফেরা প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজনের কর্মক্ষমতা কমেছে বলে জানিয়েছেন তারা।  

এবং দশজনের মধ্যে ছয়জনের চেস্ট ইমেজিং অ্যাবনর্মালিটি এবং এক-চতুর্থাংশ রোগীর শ্বাসকষ্ট ছিল। বুকে ব্যথা, ধড়ফড়ানির মতো সমস্যাও দেখা দিয়েছে।  

এই দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোর জন্য কী কারণ দায়ী তা এখনও পুরোপুরি বোঝা যায়নি। তবে গবেষকরা বিশ্বাস করেন, ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট ইমিউন সিস্টেম ওভারড্রাইভ, দীর্ঘস্থায়ী সংক্রমণ, পুণরায় সংক্রমণ বা অ্যান্টিবডির উৎপাদন বৃদ্ধির কারণে এমন হতে পারে।  

কোভিড থেকে বেঁচে ফেরা অনেকের জীবনমান উন্নয়নে চিকিৎসকের প্রাথমিক হস্তক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।  

আগামী দিনগুলোতে মানসিক সমস্যা যেমন- হতাশা, উদ্বেগ এবং ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডারের রোগী আরও বাড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।  

বিশেষজ্ঞরা লং কোভিড থেকে ভালো থাকতে বিশেষ কিছু পরামর্শও দিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে-  

ক্লান্তি এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রণ করা  

অতিরিক্ত পরিশ্রম করবেন না। ধীরে ধীরে কাজ এবং স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসুন। এমন কাজ করবেন না যা আপনার ওপর চাপ বাড়ায়। দিনের যে সময়ে আপনার সবচেয়ে বেশি শক্তি থাকে, সেই সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো করে ফেলুন।  

ফুসফুস শক্তিশালী করা, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং যোগাসন করাও জরুরি। এমন কোনো কাজ করবেন না যা আপনাকে দুর্বল ও ক্লান্ত করে তোলে।  

ব্যথা এবং ব্যথার উপসর্গ উপশম করা

ভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট প্রদাহ কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে পারে। এ ক্ষেত্রে ওয়ার্ম/কোল্ড কম্প্রেস বা ঠান্ডা/গরম কিছুর ছ্যাঁক লাগালে ব্যথা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।  

মস্তিষ্ক এবং স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা 

বলা হয়, ভাইরাল সংক্রমণ মস্তিষ্কে প্রভাব ফেলতে পারে। এটি মানসিক এবং স্মৃতিশক্তির সমস্যাও সৃষ্টি করতে পারে। তবে তা সাময়িক।  

এক্ষেত্রে, প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো নোট করা শুরু করতে পারেন। কাজগুলো ভাগ করে নিন এবং অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সম্পন্ন করুন।  

গন্ধ এবং স্বাদ ফিরে পেতে  

যদিও বেশিরভাগ মানুষ ৬-৮ সপ্তাহের মধ্যে তাদের স্বাদ এবং গন্ধের অনুভূতি ফিরে পায়। তাও, গন্ধের অনুভূতি ফিরে পেতে আপনি “স্মেল ট্রেইনিং” বা গন্ধের প্রশিক্ষণ এবং অ্যারোমাথেরাপি করতে পারেন।  

কোভিড-পরবর্তী স্ক্রিনিং, ডাক্তারের চেকআপ এবং পরীক্ষাগুলো আপনার স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এবং সঠিক যত্ন পেতে সহায়ক। তাই দ্রুত সুস্থ হওয়ার জন্য একটি ভাল খাদ্য তালিকাও আবশ্যক।

About

Popular Links