Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বনানীর এফআর টাওয়ারের নকশা জালিয়াতি মামলায় বিচার শুরু

দুদকের করা মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন খাদেমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২১, ০৫:১৩ পিএম

নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে রাজধানীর বনানীর এফআর টাওয়ারের ১৬ থেকে ২৩ তলা ভবন নির্মাণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান মো. হুমায়ুন খাদেমসহ চারজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেছেন আদালত। এর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মামলার বিচার শুরু হলো।

সোমবার (১৮ অক্টোবর) আসামিদের উপস্থিতিতে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক কামাল হোসেন এ অভিযোগ গঠন করেন। আগামী ১৫ নভেম্বর মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ঠিক করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী শাহিনুর ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অপর আসামিরা হলেন- রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ইজারা গ্রহীতা সৈয়দ মো. হোসাইন ইমাম ফারুক (এস এম এইচ আই ফারুক), রূপায়ন হাউজিং এস্টেট লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (বর্তমান চেয়ারম্যান) লিয়াকত আলী খান মুকুল ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী সাইদুর রহমান।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন। পাঁচ আসামির মধ্যে রাজউকের সাবেক অথরাইজড অফিসার সৈয়দ মকবুল আহমেদ মারা যাওয়ায় আদালত তাকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

মামলার অভিযোগপত্রে বলা হয়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে ইমারত বিধিমালা লঙ্ঘন এবং নকশা জালিয়াতির মাধ্যমে ১৮ তলাবিশিষ্ট এফ আর টাওয়ার নির্মাণ করেন। এস এম এইচ আই ফারুক ১৯৯০ সালে ১৫ তলা ভবন নির্মাণের জন্য রাজউকের অনুমোদন পান। পরে তিনি ১৯৯৬ সালে ১৮ তলা ভবন নির্মাণের অনুমোদন চেয়ে সংশোধিত নকশা অনুমোদনের জন্য আবেদন করেন। সংশোধিত নকশা ইমারত বিধিমালা অনুযায়ী না হওয়ায় এবং প্রস্তাবিত ভবনের উচ্চতা বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিধিনিষেধ অনুযায়ী অনুমোদনযোগ্য না বিধায় সেই আবেদন প্রথমে গৃহীত হয়নি। কিন্তু পরে এক মাসের মধ্যেই সংশোধিত ওই নকশা অনুমোদন করা হয়, যা অবৈধভাবে করা হয়েছে এবং এ কাজে অবৈধ লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে বলা হয়।

পরে জমির মালিক ১৮ তলা ভবন নির্মাণের জন্য আবাসন প্রতিষ্ঠান রূপায়ন গ্রুপের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। রূপায়ন অবৈধ নকশার ভিত্তিতেই ওই জায়গায় ১৮ তলা ভবন নির্মাণ করে। ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসারে ভবনের দুই পাশে যে পরিমাণ জায়গা রাখার কথা তা–ও রাখা হয়নি। পার্কিংয়ের জায়গার ক্ষেত্রেও রাখা হয়েছে নির্দিষ্ট পরিমাণের এক–তৃতীয়াংশ জায়গা। আবাসিক ভবন হিসেবে অনুমোদন নেওয়া হলেও পুরো ভবনটি ব্যবহার করা হয়েছে বাণিজ্যিক কাজে।

২০১৯ সালের ২৮ মার্চ দুপুরে বনানীর ১৭ নম্বর রোডের এফআর টাওয়ারে আগুন লাগে। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর ফায়ার সার্ভিসসহ নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কয়েকটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ২৭ জন নিহত এবং ৭০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। পরবর্তীতে রাজউকের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান জানান রাজউকের অনুমোদিত নকশা লঙ্ঘন করে বনানীর ওই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও দুদকের উপপরিচালক আবু বকর সিদ্দিক আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এর আগে ২০১৮ সালের ২৫ জুন উপপরিচালক মো. আবুবকর সিদ্দিক বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। যেখানে দণ্ডবিধির চারটি ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন-১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

About

Popular Links