Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জাবিতে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু

ক্লাস শুরুর প্রথম দিনেই হয়েছে ৫টি মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০২১, ০৭:৫৩ পিএম

প্রায় ১৯ মাস বন্ধ থাকার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সব অনুষদ ও বিভাগে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সশরীর ক্লাস ও পরীক্ষা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন পর সশরীরে ক্লাস শুরু হওয়ায় উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরাও। নানা আয়োজনে শিক্ষার্থীদেরও বরণ করে নিয়েছে বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলো।

বৃহস্পতিবার (২১ অক্টোবর) সকাল থেকে জাবিতে সশরীরে ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হয়।

এদিন সকাল থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভাগ ও ইনস্টিটিউটগুলোতে ক্লাস করার জন্য আসতে শুরু করেন। শিক্ষার্থীদের ফুল আর চকলেট দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। একাডেমিক ভবনে ঢোকার সময় তাদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ এবং হাত স্যানিটাইজ করা হয়। 

এছাড়া করোনাভাইরাস প্রতিরোধে প্রত্যেক অনুষদের সামনে বসানো হয়েছে বেসিন, সঙ্গে হ্যান্ডওয়াশ।

সশরীরে ক্লাস ফেরার অনুভূতি জানিয়ে স্নাতকোত্তর পর্বের শিক্ষার্থী শহীদুল মিয়া বলেন, “অবশেষে বহুল প্রতিক্ষার পর ক্লাস শুরু হলো। আজ থেকে সশরীরে ক্লাস করতে পারব ভেবেই আনন্দ লাগছে। চিরচেনা আবাসিক হলে উঠে ফিরে যেন প্রাণ ফিরে পেয়েছি। মাস্টার্সের শিক্ষার্থী হওয়ায় আর অল্প কিছুদিন বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকতে পারব।”

শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ক্লাসরুমে ফিরতে পেরে আনন্দিত শিক্ষকরাও।

জাবির ভুগোল ও পরিবেশ বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নজরুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীরা আমাদের প্রাণ। তারা না থাকলে আমাদের মূল্য কোথায়? তাদের ছাড়া এতদিন থাকাটা আমাদের জন্য অনেক কষ্টের। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা খুব শিগগিরই আমাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব বলে আশা করি।”

তবে সশরীরে ক্লাস শুরু হলেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিত ছিল তুলনামূলক কম। সামাজিক দূরত্ব মেনে ক্লাসগুলোতে বসেছেন তারা। সবার মুখেই ছিল মাস্ক। যদিও এই উচ্ছ্বাসের বিপরীত চিত্রও দেখা গেছে অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে। কোনো কোনো বিভাগ শ্রেণিকক্ষ সংকটের অজুহাত দেখিয়ে অনলাইনেই ক্লাস নিয়েছে। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের কোনো ক্লাসরুম সংকট ছিল না।

কলা ও মানবিকী অনুষদের ডিন মোজাম্মেল হক বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেমন উল্লাস আছে, তাদের দেখে আমাদের মধ্যেও এক ধরনের আনন্দ তৈরি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের সরাসরি দেখতে পারাটাই ভালো লাগার বিষয়। শিক্ষার্থী ছাড়া শিক্ষক হচ্ছে নির্জীব মানুষের মতো। শিক্ষার্থীরা থাকায় আমাদের ভিতরের যে অভিব্যক্তি আছে তা প্রকাশ করার রাস্তা প্রশস্ত হয়েছে।”

ক্লাস শুরুর প্রথম দিনেই হয়েছে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস শুরুর প্রথম দিনে “দেশব্যাপী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অপতৎপরতা ও নৃশংসতার” প্রতিবাদ জানিয়ে মাববন্ধন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদ, বাংলা বিভাগ এবং বঙ্গবন্ধু কর্মকর্তা পরিষদ।

মাববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলম সারাদেশে চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, “এই জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সকলকে রুখে দাড়াতে হবে। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেন দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারেন।”

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল হাসান, ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও শিক্ষকরা।

এছাড়া হলে ওঠার অনুমতি চেয়ে ও সশরীরে ক্লাস চালুর দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা। 

এদিন দুপুর সাড়ে ১২টায় শহীদ মিনার পাদদেশে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। মানববন্ধন শেষে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক ভবনে সামনে গিয়ে সমাবেশ করে।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, “শতভাগ আবাসিক ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও আমরা কেন হলে থাকা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ ১ বছর ৯ মাস বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম থেকে দূরে আছি কিন্তু বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া সত্ত্বেও আমাদের হলে ওঠার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, সশরীরে ক্লাস করার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই সিদ্ধান্তকে আমরা মেনে নিতে পারব না।”

প্রসঙ্গত, এর আগে ১১ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হল খুলে দেয় জাবি কর্তৃপক্ষ। সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের ফুল, মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। এক ডোজ টিকা নেওয়ার শর্তে শিক্ষার্থীরা আবাসিক হলে ওঠার সুযোগ পেয়েছেন।

About

Popular Links