Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শ্বশুরকে বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি

শামীমের স্ত্রী জানান, তার কোনো ভাই নেই। শামীম বাবাকে দেখভাল করেন। তাই শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন

আপডেট : ০২ নভেম্বর ২০২১, ০৬:১২ পিএম

মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরকে নিজ বাবা সাজিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে অফিস সহায়ক (পিয়ন) পদে দাপটের সঙ্গে চাকরি করছেন শামীম হোসেন নামে এক ব্যক্তি। বিষয়টি জানাজানি হলে ওই কার্যালয়ের কর্মরতদের মধ্যে নানা গুঞ্জনের সৃষ্টি হয়েছে। প্রতারণার মাধ্যমে সরকারি চাকরি নেওয়ায় তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বগুড়ার কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের মাধববাঁকা গ্রামের মো. শামীম হোসেন আদালতে মহুরির কাজ করতেন। তিনি সোনাতলা উপজেলার জোড়গাছার বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার মেয়ে ফেনসি খাতুনকে বিয়ে করেন। ফেনসি খাতুন বাবার মুক্তিযোদ্ধা কোটায় অফিস সহায়ক পদে চাকরি করেন। তিনি বর্তমানে দুপচাঁচিয়া উপজেলা মৎস্য অফিসে কর্মরত। বিয়ের পর মাধ্যমিক পাশ শামীম হোসেন শ্বশুর পক্ষের সহযোগিতায় তার মাধ্যমিক সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্রে পিতা মৃত করমতুল্লাহর স্থলে শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়ার নাম স্থাপন করেন। এমনকি পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্টও নিজের অনুকূলে নেন। এরপর তিনি মহুরির পেশা ছেড়ে সোনা মিয়ার ছেলে সেজে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে অফিস সহায়কের চাকরি পান। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত।

শামীমের স্ত্রী ফেনসি খাতুন জানান, তার কোনো ভাই নেই। শামীম বাবাকে দেখভাল করেন। তাই শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অভিযুক্তের শ্বশুর বীর মুক্তিযোদ্ধা সোনা মিয়া এই প্রতিবেদককে বলেন, “এতে আপনাদের কি? যা ইচ্ছা করেন।”

যদিও অফিস সহায়ক শামীম হোসেন এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছেন তবে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কাহালু উপজেলার নারহট্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রুহুল আমিন তালুকদার বেলাল বলেন, “শামীম হোসেন ৮ নাম্বার ওয়ার্ডের মাধববাঁকা গ্রামের মৃত করমতুল্লাহর ছেলে। শুনেছি, শামীম তার বাবার নামের স্থলে মুক্তিযোদ্ধা শ্বশুরের নাম বসিয়ে সরকারি চাকরি করছেন।”

এ ব্যাপারে দুপচাঁচিয়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত সহকারি প্রকৌশলী সাকিউল ইসলাম জানান, তিনি অফিস সহায়ক শামীম হোসেনের বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন। শামীম প্রধান প্রকৌশলীর মাধ্যমে চাকরি পেয়েছেন। তাই তার কিছু করণীয় নেই। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হবে।

বগুড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, শ্বশুরকে বাবা দেখিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নিয়ে থাকলে অপরাধ করেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন।

About

Popular Links