Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

২৯ বছরে দেশে ২৩ সাংবাদিক হত্যা

নিহত সাংবাদিকদের পরিবারগুলো বিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন

আপডেট : ০৩ নভেম্বর ২০২১, ০৪:১০ পিএম

১৯৯২ সাল থেকে দেশে কমপক্ষে ২৩ জন সাংবাদিককে হত্যা করা হয়েছে। যার মধ্যে মাত্র ৩টি ক্ষেত্রে অপরাধীদের বিচার হয়েছে।

সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস) অনুসারে, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর বিচার পেতে ১৬ থেকে ২৫ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। ২০০১ ও ২০০২ সালে নিহত অন্তত তিনটি মামলা বিভিন্ন কারণে তুলে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ নভেম্বর) জাতিসংঘ স্বীকৃত “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি অবসানের” আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইএমকে সেন্টারে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নিউএজ পত্রিকার সাংবাদিক মো. মুক্তাদির রশীদের সঞ্চালনায় “সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং হুমকি মোকাবিলা” শীর্ষক এক আলোচনায় এ সব তথ্য জানানো হয়েছে।

ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের স্টাফ রিপোর্টার জাইমা ইসলাম বলেন, “নিহত অনেক সাংবাদিকই তাদের পেশাগত কাজের জন্য নিহত হয়েছেন এবং কিন্তু তাদের পরিবারগুলো বিশ বছরেরও বেশি সময় বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন। কিছুক্ষেত্রে, বিচার এতোটাই বিলম্বিত হয়েছে যে একপর্যায়ে পরিবারের পক্ষে মামলার পরিস্থিতি জানাও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

জেলা প্রশাসনের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করার কারণে নির্যাতিত মো. আরিফুল ইসলাম রিগান অভিযোগ করেন, তিনি এখন পর্যন্ত বিচার পাননি।

একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষের সময় নিহত সাংবাদিক বোরহান উদ্দিন মুজাক্কিরের ভাই ও লেখক মো. ফখরুদ্দিন বলেন, সংঘর্ষের সময় সহিংসতা নথিভুক্ত করার সাহস দেখিয়েছিলেন বলে তার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।

লেখক ফখরুদ্দিন বলেন, “স্থানীয় প্রশাসনের আশ্বাস অনুযায়ী আমরা শান্তিপূর্ণ ন্যায়বিচার পাব এই আশা নিয়ে আছি। কিন্তু অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আসলে আর কিছু করার নেই।”

“এ দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে সাংবাদিকরা নিজেরাই যথাসাধ্য চেষ্টা করছেন কি-না’ এ প্রশ্ন করেন ইউনিভার্সিটি অব ওয়েস্টার্ন সিডনি’র হিউম্যানিটারিয়ান অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ-এর অ্যাডজান্ট ফেলো ড. মুবাশার হাসান।

বার্তা সংস্থা এএফপি’র ঢাকা ব্যুরো প্রধান শফিকুল আলম সাংবাদিকদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য তাদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলার গুরুত্বের ওপর আলোকপাত করেন।

এ সময়  সাংবাদিকদের হয়রানির ঘটনায় “ফলোআপ রিপোর্টিংয়ের” প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন দৈনিক প্রথম আলো’র জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক এবং দ্য “ফ্রি প্রেস অ্যাওয়ার্ড ২০২১” বিজয়ী রোজিনা ইসলাম।

গবেষক ও কর্মী রেজাউর রহমান লেনিন এবং যমুনা টিভির ইব্রাহিম খলিলও এ বিষয়ে তাদের উদ্বেগ ও মতামত তুলে ধরেন।

উল্লেখ্য, এ বছর, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অপরাধের দায়মুক্তি অবসানের আন্তর্জাতিক দিবসে শুধুমাত্র সাংবাদিক হত্যাই নয়, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হুমকির তদন্ত ও বিচারের ক্ষেত্রে প্রসিকিউটরিয়াল পরিষেবাগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।

About

Popular Links