Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

আফ্রিকার বাজারে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের অপার সম্ভাবনা

‘এশিয়ার পরে আফ্রিকান দেশগুলো এই শতাব্দীতে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে’

আপডেট : ০৪ নভেম্বর ২০২১, ১১:১০ পিএম

কোভিড-১৯ মহামারি ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উত্তর আমেরিকায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি মন্থর করে দেওয়ায় অনেকেই বাংলাদেশের পরবর্তী রপ্তানি বাজার হিসেবে আফ্রিকা মহাদেশে সুযোগ খোঁজার পরামর্শ দিচ্ছেন।

বাংলাদেশে অবস্থিত উগান্ডার দূতাবাসের অনারারি কনসাল এবং বাংলাদেশ কনস্যুলার কোরের ভাইস-প্রেসিডেন্ট আবুল হোসেন সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালেও একই অভিমত ব্যক্ত করেন।

আবুল হোসেন বলেন, “এশিয়ার পরে আফ্রিকান দেশগুলো এই শতাব্দীতে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করবে। বাংলাদেশি ব্যবসায়ীদের উচিত ১০০ কোটি জনসংখ্যার ক্রমবর্ধমান আফ্রিকান বাজারগুলোতে বিনিয়োগ করা।” 

বছরের পর বছর গৃহযুদ্ধ, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, দুর্ভিক্ষ এবং অর্থনৈতিক দুর্নীতির পর আফ্রিকার বেশ কয়েকটি দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে।

বতসোয়ানা, নামিবিয়া, মালাউই, ঘানা, মরক্কো, কেনিয়া, তানজানিয়া এবং উগান্ডার মতো দেশগুলোতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে। এবং সেখানে ব্যবসায়িক পরিবেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে বলে মনে করেন ফজিলা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আবুল হোসেন।

আফ্রিকার ক্রমবর্ধমান বাজারের দিকে নজর রেখে ভারত, চীন এবং নেপালের মতো দেশগুলো সেখানে বিভিন্ন প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে।

সেখানে বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য, ওষুধ, পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক এবং আইটি পণ্যের বাজার খোঁজা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

উগান্ডার এই অনারারি কনসাল বলেন, "শাকসবজি ও ধান চাষের জন্য উপযোগী বিস্তীর্ণ এলাকা এবং পণ্য বিক্রির জন্য একটি সম্ভাব্য বাজার থাকায় কৃষি উৎপাদনকারীরা আফ্রিকায় বিনিয়োগ করতে চায়। বাংলাদেশিদের অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমাদের ব্যাংকিং খাত থেকে একটি নির্দেশিকা প্রয়োজন। বাংলাদেশিরা বিদেশে ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। প্রায় ৩০০টির মতো স্থানীয় সংস্থা, বিশেষ করে কৃষি এবং পোশাক খাতে আফ্রিকান দেশগুলোতে বিনিয়োগে আগ্রহী।" 

তিনি বলেন, “কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ে অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে এবং বাংলাদেশের উচিত নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করা “

আফ্রিকার রপ্তানিকারকরা ইউরোপীয় ইউনিয়ন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডিয়ান এবং অস্ট্রেলিয়ার বাজারে বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা ভোগ করতে পারে বলেও জানান তিনি।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, কোভিড-১৯ মহামারির কারণে ইউরোপীয় দেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক মন্দা হওয়ায় বাংলাদেশের উচিত নতুন বাজার খোঁজা করা এবং নিজেদের রপ্তানির সুযোগ সমৃদ্ধ করা।

বাংলাদেশ-আফ্রিকা ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আমিন হেলালী বলেন, " আফ্রিকায় বিনিয়োগের জন্য আমাদের সঙ্গে অনেকেই যোগাযোগ করেছে। অনেক বাংলাদেশি বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যেই আফ্রিকার বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থ বিনিয়োগ করেছেন। এই বিনিয়োগকারীদের বেশিরভাগই সেখানকার প্রবাসী। বাংলাদেশ থেকে টাকা নিয়ে আফ্রিকায় কেউ বিনিয়োগ করেননি।”

বাংলাদেশ ব্যাংকও ভাবছে

আফ্রিকায় বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক এখন পর্যন্ত ১০০টিরও বেশি আবেদন এসেছে, যেখান থেকে ইতোমধ্যে ছয়টিকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

আফ্রিকায় বিনিয়োগ করতে আগ্রহী সংস্থাগুলোর আবেদন যাচাই করে দেখছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্যাকেটজাত কৃষি-পণ্য এবং তৈরি খাবারের চাহিদা আফ্রিকাতে বেশি।

বাংলাদেশের ব্র্যাক, প্রাণ এবং স্কয়ারের তৈরি খাবারের প্রতি আফ্রিকার দেশগুলোতে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

আফ্রিকান গ্রোথ অ্যান্ড অপারচুনিটি অ্যাক্টের আওতায় (আগোয়া) আফ্রিকায় তৈরি পণ্যগুলোর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত প্রবেশের সুবিধা নিতে পোশাক প্রস্তুতকারকদের আফ্রিকায় কারখানা স্থাপন করতে হবে।

পোশাক খাতে আফ্রিকায় বিনোয়োগের ক্ষেত্রে ডিবিএল গ্রুপকে সবুজ সংকেত দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারক ডিবিএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ জব্বার জানান, তারা তাদের উৎপাদন ইউনিট আফ্রিকার একটি দেশে স্থানান্তরিত করেছে।

তিনি বলেন, "আমরা এই বছর আমাদের ইথিওপিয়ান কারখানায় উৎপাদন শুরু করেছি। আমরা এই মাসেই প্রথম চালান পাঠাবো। প্রতি বছর ইথিওপিয়ান প্ল্যান্ট থেকে ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার মূল্যের গার্মেন্টস পণ্য রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।"

দশ দিশা গ্রুপের পরিচালক আমিন হেলালী জানান, তারা ২০১১ সালে ধান এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণ চাষের জন্য ২০ হাজার হেক্টর জমি পাওয়ার জন্য উগান্ডার একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তিতে সম্মত হন।

বাংলাদেশের প্রশাসনের অনুমোদন না পাওয়ায় সেটি এখনও সম্পাদন করা হয়নি।

বাণিজ্য বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশি সংস্থাগুলো অন্যান্য এশিয়ান দেশগুলোর আগেই আফ্রিকায় বিনিয়োগের জন্য প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছিল। তবে এক্ষেত্রে এখনও তারা অনেক পিছিয়ে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের মতে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক ভবিষ্যদ্বাণী করেছে যে, বিশ্বব্যাপী উন্নত দেশগুলোতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ক্রমেই মন্থর হবে, যার ফলে ভোগ্যপণ্যের ব্যবহার কমবে।

এফবিসিসিআই এবং বিজিএমইএ সূত্র জানায়, তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, প্লাস্টিক পণ্য, সিরামিক রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের নতুন বাজার খোঁজা উচিত।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে অর্থনৈতিক মন্দার পটভূমিতে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সি (বায়রা) নেতারাও নতুন শ্রম-নিয়োগকারী দেশ হিসেবে আফ্রিকান দেশগুলো দেখতে পারেন।

About

Popular Links