Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'বখশিস' কম পেয়ে খুলে ফেলা হলো অক্সিজেন মাস্ক, স্কুলছাত্রের মৃত্যু

মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে

আপডেট : ১০ নভেম্বর ২০২১, ০১:২৮ পিএম

পঞ্চাশ টাকা বখশিস কম দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে বিকাশ চন্দ্র (১৭) নামে এক স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (৯ নভেম্বর) রাতে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটেছে। পরে আনসারদের সহযোগিতায় আসাদুজ্জামান দুলু নামে ওই কর্মচারী পালিয়ে যায়।

বুধবার (১০ নভেম্বর) সকালে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মৃত বিকাশ চন্দ্র গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের বিশু চন্দ্র কর্মকারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়তো। সংসারে অভাবের কারণে বিকাশ লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল সে।এসময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তাকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১০টার দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে অক্সিজেনসহ বিকাশকে তৃতীয়তলায় সার্জারি বিভাগে নেওয়া হয়। ট্রলি বহনকারী হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান দুলু বেডে পৌঁছে দেওয়ার পর ২০০ টাকা বখশিস দাবি করে। বিকাশের বাবা ১৫০ টাকা দিলে দুলু আরও ৫০ টাকার জন্য বাকবিতণ্ডা শুরু করে। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ দুলু অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে। তাকে মাস্ক লাগাতে অনুরোধ করলে সে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে নিজেরা মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশ মারা যায়। চিকিৎসক এসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় রোগীর লোকজন দুলুর ওপর চড়াও হলে কর্তব্যরত আনসারদের সহযোগিতায় সে পালিয়ে যায়।

শজিমেকের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় জরুরি বিভাগের একজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে খণ্ডকালীন কর্মচারী দুলুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হোসেন জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন তারা তৃতীয়তলায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগেই অভিযুক্ত কর্মচারী পালিয়ে যায়। মৃত স্কুল ছাত্র বিকাশের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। 

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, বখশিস কম দেওয়ায় হাসপাতালের খণ্ডকালীন কর্মচারী এ অপরাধ করেছেন। মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে; অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About

Popular Links