Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'বকশিস' কম পেয়ে অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলা সেই হাসপাতাল কর্মচারী গ্রেপ্তার

 বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব

আপডেট : ১১ নভেম্বর ২০২১, ০১:৩৯ পিএম

৫০ টাকা “বকশিস” কম দেওয়ায় অক্সিজেন মাস্ক খুলে বিকাশ চন্দ্র কর্মকার (১৭) নামে স্কুলছাত্রকে হত্যার অভিযোগে পলাতক বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের খণ্ডকালীন কর্মচারী আসাদুজ্জামান মীর ধলুকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার (১১ নভেম্বর) ভোরে রাজধানীর আবদুল্লাহপুর থেকে র‌্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে।কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সোহরাব হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, মৃত বিকাশ চন্দ্র গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার পুটিমারী গ্রামের বিশু চন্দ্র কর্মকারের ছেলে। সে স্থানীয় একটি স্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ত। সংসারে অভাবের কারণে বিকাশ লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি ওয়ার্কশপে কাজ করত। মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে সাইকেলে বাড়ি ফিরছিল সে।এসময় একটি মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগলে মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তাকে প্রথমে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর রাত ১০টার দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

সেখানে অক্সিজেনসহ বিকাশকে তৃতীয়তলায় সার্জারি বিভাগে নেওয়া হয়। ট্রলি বহনকারী হাসপাতালের কর্মচারী আসাদুজ্জামান দুলু বেডে পৌঁছে দেওয়ার পর ২০০ টাকা বকশিস দাবি করে। বিকাশের বাবা ১৫০ টাকা দিলে দুলু আরও ৫০ টাকার জন্য বাগ-বিতণ্ডা শুরু করে। টাকা না পেয়ে ক্ষুব্ধ দুলু অক্সিজেন মাস্ক খুলে ফেলে। তাকে মাস্ক লাগাতে অনুরোধ করলে সে অস্বীকৃতি জানায়। বাধ্য হয়ে নিজেরা মাস্ক লাগানোর চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকাশ মারা যায়। চিকিৎসক এসে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। এ সময় রোগীর লোকজন দুলুর ওপর চড়াও হলে কর্তব্যরত আনসারদের সহযোগিতায় সে পালিয়ে যায়।

শজিমেকের উপ-পরিচালক ডা. আবদুল ওয়াদুদ জানান, এ ঘটনায় জরুরি বিভাগের একজন মেডিকেল অফিসারের নেতৃত্বে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা ৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে। অভিযোগের সত্যতা পেলে খণ্ডকালীন কর্মচারী দুলুর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ছিলিমপুর মেডিকেল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) শামিম হোসেন জানান, রোগী মারা যাওয়ার পর উত্তেজনা দেখা দেয়। তখন তারা তৃতীয়তলায় গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এর আগেই অভিযুক্ত কর্মচারী পালিয়ে যায়।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম রেজা জানান, বকশিস কম দেওয়ায় হাসপাতালের খণ্ডকালীন কর্মচারী এ অপরাধ করেছেন। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About

Popular Links