Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

টঙ্গী সেতু বন্ধ, তীব্র যানজটে জনদুর্ভোগ চরমে

সেতুতে প্রায় ৫ ফুট দীর্ঘ ও তিন ফুট প্রশস্ত হয়ে পলেস্তরা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০২১, ০৩:৩৬ পিএম

গাজীপুরের টঙ্গীতে তুরাগ নদীর ওপর টঙ্গী সেতু দিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় দু’দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে লেগে আছে ভয়াবহ যানজট।

সেতুতে প্রায় ৫ ফুট দীর্ঘ ও তিন ফুট প্রশস্ত হয়ে পলেস্তরা খসে পড়ে রড বেরিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি চিহ্নিত হওয়ার পর ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচিত হওয়ায় সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এর ফলে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রী ও বাসগুলোকে যানজটের কারণে ঢাকায় প্রবেশ ও বের হতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে আগামী ১০দিনের মধ্যেই মহাসড়কের তুরাগ সেতুর ভাঙা অংশ চলাচল উপযুক্ত করা হবে বলে জানান বিআরটিএ প্রকল্পের (সেতু বিভাগের) পরিচালক মহিরুল ইসলাম। 

বুধবার (১০ নভেম্বর) রাত ১০টার পর থেকে বিআরটিএ কর্তৃপক্ষ সেতুটি পরিদর্শন করে ঝুকিপুর্ণ বিবেচনায় ওই মহাসড়কে যানচলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপরই থেকে সৃষ্টি হয় যানজটের। যানজটে অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে মহাসড়কের আশেপাশে ঢাকা-টঙ্গী-কালিগঞ্জ-ঘোড়াশালসহ ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কগুলোর যাত্রীরা।

ঢাকা থেকে বের হয়ে টঙ্গীতে প্রবেশ করা যানবাহনগুলো ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে আটকে থাকছে। টঙ্গী স্টেশন রোড থেকে ঢাকা অভিমুখী লেনের সকল প্রকার যানবাহন সড়কে বাঁশ ও অন্যান্য উপকরণ ফেলে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। টঙ্গী স্টেশন রোড হয়ে ইউটার্ন নিয়ে বিকল্প পথে রাজধানী প্রবেশ করলেও দীর্ঘ যানজটে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনগুলোর।

জামালপুরের নান্দিনা থেকে সপরিবারে যমুনা এক্সপ্রেসযোগে জয়দেবপুর জংশনে নামেন নজরুল ইসলাম। তিনি জানা, টঙ্গী সেতুর খবর আগেই পেয়েছেন। তাই জয়দেবপুর নেমে রিক্সাযোগে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বিকল্প সড়কে টঙ্গী পৌঁছান। তার গন্তব্য আব্দুল্লাহপুর।

ময়মনসিংহের ড্রিমলেন্ড পরিবহনের চালাক জসিম উদ্দিন বলেন, “এ মহাসড়কে গত ৩ বছরেরও বেশি সময় ধরে বিআরটিএ প্রকল্পের উন্নয়ন কাজের ধীরগতির কারনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে এ কাজ চলতে এখন শুরু হয়েছে সেতু মেরামতের। সড়কটিই এখন চলাচলকারী যাত্রী ও বাস চালকদের যন্ত্রনার কারণ মনে হচ্ছে।”

পেঁয়াজ ও অন্যান্য খাদ্যোপকরণ ভ্যানযোগে টঙ্গী সেতু পার হওয়ার চেষ্টা করছিলেন জসীম উদ্দিন। সেতুর কাছেই বাঁশ দিয়ে বাঁধ দেওয়ায় অন্যান্যদের মতো তিনিও আটকে যান। এরপর কুলি দিয়ে বস্তাগুলো মাথায় বহন করে সেতু পার করছেন। তিনি বলেন, “উপায় না থাকায় ব্রিজের ওপারে আব্দুল্লাহপুর থেকে আরেকটি ভ্যানে বস্তাগুলো উঠাতে হবে।”

সরেজমিন দেখা গেছে, টঙ্গী সেতু সড়কের ঢাকা অভিমুখী লেনটি ফাঁকা। উল্টো লেনটিতে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দাঁড়িয়ে আছে। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পর পর ৪/৫ফুট করে এগিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা থেকে আসা পিকাপভ্যানের চালক রমজান আলী যাবেন ময়মনসিংহে। তিনি জানান, সেতু পার হতে তার সময় লেগেছে তিন ঘন্টা।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আব্দুল্লাহ্ আল-মামুন বলেন, “এমনিতেই এক লেন তার ওপর যানবাহনের চাপ। আমরা উত্তরবঙ্গের যানবাহনকে সরাসরি টঙ্গী বাজার বেইলি ব্রীজ দিয়ে ঢাকায় নিচ্ছি। আর ঢাকার গাড়িগুলো কামারপাড়া সড়ক দিয়ে গাজীপুরে প্রবেশ করছে। ফলে ইউটার্নে কিছুটা সময় লাগলেও এতে কিছুটা সুফল পাচ্ছি আমরা। যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ সদস্যরাও সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে কাজ করছে। তবে সাধারণ মানুষ যাতে দুর্ভোগে না পড়েন সেই চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

বিআরটিএ প্রকল্পের (সেতু বিভাগের) পরিচালক মহিরুল ইসলাম জানান, সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা শনিবার (১৩ নভেম্বর) দিনের কোনো এক সময় সেতুটি পরিদর্শনে টঙ্গীতে যাবেন। পরে তাদের মতামত নিয়ে ৮/১০দিনের মধ্যে ভাঙা অংশে ঢালাই/মেরামত করে যানবাহনের জন্য খুলে দেওয়া হবে। তখন নতুন এ যানজট সমস্যা থাকবে না।

About

Popular Links