Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বগুড়ার রেইনবো হাসপাতালে অবহেলার কারণে নবজাতিকার মৃত্যুর অভিযোগ

বগুড়া শহরের কলোনী এলাকার রেইনবো কমিউনিটি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কয়েকদিন আগে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল

আপডেট : ২০ নভেম্বর ২০২১, ০৯:১০ এএম

বগুড়া শহরের কলোনী এলাকার রেইনবো কমিউনিটি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কয়েকদিন আগে এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুতে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। সেই একই হাসপাতালে এবার অবহেলার কারণে এক নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

অক্সিজেনের অভাবে হাসপাতালের তৃতীয়তলায় বেবি কেয়ার ইউনিটে শুক্রবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে চারদিন বয়সী এক কন্যা শিশু মারা যায়। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, ফুসফুসের সমস্যায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

কন্যা শিশুটির বাবা এবং বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার চন্দনবাইশার ঘুঘুমারি গ্রামের বাসিন্দা বিজিবি সদস্য সোহেল রানা জানান, গত ১৬ নভেম্বর শেরপুর উপজেলার একটি ক্লিনিকে তার স্ত্রী শান্তি আকতার কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। ফুসফুসের সমস্যা দেখা দেওয়ায় তাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে বাচ্চাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিইউ) না থাকায় তাকে গত বুধবার (১৭ নভেম্বর) রাতে রেইনবো হসপিটালে নিয়ে আসেন। সেখানে ডা. একে বসাকের তত্ত্বাবধানে ভর্তি করা হয়। 

বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) রাতে শিশুটির অক্সিজেন হঠাৎ নেমে আসলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দীর্ঘক্ষণ পর অক্সিজেন সরবরাহ করেন এবং পুনরায় অক্সিজেন বন্ধ হবে না বলে মৌখিকভাবে অঙ্গীকার করেন। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে অক্সিজেন দেওয়া অবস্থায় শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক ছিল। পরে রাতের মতো হঠাৎ অক্সিজেন শেষ হয়ে যায়। তখন কর্তব্যরত নার্স ও স্টাফদের বারবার অক্সিজেন দিতে অনুরোধ জানানো হয়। তারা প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা পর অক্সিজেন দিতে আসেন। ততক্ষণে শিশু কন্যা মারা যায়। তার দাবি, কর্তব্যরতদের অবহেলায় তার মেয়ে মারা গেছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে রেইনবো কমিউনিটি হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার রূপক হাসান জানান, তাদের অক্সিজেনের পর্যাপ্ত মজুত ছিল। ফুসফুসের সমস্যাজনিত কারণে শিশুটি মারা গেছে।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট রাতে এ হাসপাতালে পায়ুপথে ফোঁড়া অপারেশন করাতে এসে মশিউর রহমান মিলু (৫০) নামে এক ব্যবসায়ী মারা যান। তিনি বগুড়া শহরের সুলতানগঞ্জপাড়ার মৃত আবদুস সালামের ছেলে ও লিভার ব্রাদার্সের ডিস্ট্রিবিউটর ছিলেন। এ সময় রোগীর স্বজনদের মাঝে উত্তেজনা দেখা দিলে ডাক্তার ও নার্স পালিয়ে যান। মৃত রোগির স্বজনরা আইনের আশ্রয় না নেওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সে যাত্রায় রক্ষা পান। এখন এ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় জনগণের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বগুড়ার বনানি পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাজ্জাদুর রহমান জানান, জরুরি সেবা  ‘‘৯৯৯’’ এ কল পেয়ে তারা হাসপাতালে আসেন। ভুক্তভোগী পরিবারকে লিখিত অভিযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ করলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

About

Popular Links