Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

স্টাডি সেন্টারের টিউশন ফি ৪০ লাখ টাকা!

দেশে এক বছর পড়া শেষে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করা যাবে, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এমনটাই বলেছে ইউসিবি

আপডেট : ২২ নভেম্বর ২০২১, ০৯:৫৯ পিএম

স্টাডি সেন্টারের আড়ালে “মোনাশ কলেজে”র নামে শাখা ক্যাম্পাস চালাচ্ছে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি)। এতে বিভিন্ন বিষয়ে ডিপ্লোমাসহ তিন বছরের জন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি নেওয়া হয়েছে। আর এর জন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিন বছরে জন্য ৪০ লাখ টাকা করে শুধু টিউশন ফি নিচ্ছে তারা। 

দেশে এক বছর পড়া শেষে সরাসরি অস্ট্রেলিয়া বা মালয়েশিয়ায় গিয়ে মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দ্বিতীয় বর্ষে লেখাপড়া করা যাবে, ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের এমনটাই বলেছে ইউসিবি। অনলাইন গণমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে।

শুধু তাই নয় এক বছর লেখাপড়া করিয়ে ক্রেডিট ট্রান্সফারের প্রলোভন কিংবা প্রথম বছরের পরীক্ষায় কোনো শিক্ষার্থী যদি উত্তীর্ণ না হন, তবে মোনাশে ভর্তি না করিয়ে তাকে বিশ্বের “অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে” ভর্তির অফারও দিয়েছে তারা।

যদিও এসব বিষয়ে ইউজিসির কাছ থেকে কোনো অনুমোদন নেয়নি ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ। এতে বোঝা যায়, মোনাশ স্টাডি সেন্টারের নামে ইউসিবি মূলত বাংলাদেশে বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদনহীন শাখা ক্যাম্পাস পরিচালনা করছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ৪২ জন শিক্ষার্থীও ভর্তি নিয়েছে।

জানতে চাইলে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষ জানায়, স্টাডি সেন্টারের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদেরকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রম ও পরীক্ষার জন্য সহায়তা করা হয়। স্টাডি সেন্টার কোনো পাঠ্যক্রমও নির্ধারণ করে না।

ইউসিবি’র মিডিয়া রিলেশনস থেকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে, শিক্ষার্থীরা এক বছর পর মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ে যেতে না পারলেও, তাদের অন্য কোনো আন্তর্জাতিক অথবা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ করা দেওয়া হবে। তবে এক বছরের পড়ালেখা করার পর পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে বিশ্বের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন প্রক্রিয়ায় তারা ভর্তির সুযোগ করে দেবে, তা নিয়ে বিস্তারিত জানায়নি ইউসিবি। এতে করে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নেওয়া বিপুল পরিমাণ টিউশন ফি, কিংবা তাদের শিক্ষাজীবন ঝুঁকিতে পড়ল কি-না, এমন প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয়নি প্রতিষ্ঠানটি।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) বলছে, কোনো স্টাডি সেন্টারের এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলানোর এখতিয়ার নেই। দ্রুত বন্ধ করে দিয়ে এই স্টাডি সেন্টারের বিরুদ্ধে সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। এ ধরনের অনুমোদনহীন অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম পরিচালনাকারী স্টাডি সেন্টারের শিক্ষার্থীরা ঝুঁকিতে পড়লে তার কোনো দায় নেবে না ইউজিসি।

বাংলাদেশে বসেই সরাসরি মোনাশ কলেজে ভর্তি হওয়া যাচ্ছে কি-না, জানতে চাইলে ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি) জানায়, তাদের প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা একবার মোনাশের চূড়ান্ত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে, তারা নিশ্চিতভাবে মোনাশ ইউনিভার্সিটি অস্ট্রেলিয়া বা মোনাশ ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ায় ভর্তির সুযোগ পাবেন।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মো. আলমগীর বলেন, “সার্বিকভাবে বিষয়টি নিয়ে ইউজিসি বিব্রত। ২০১৪ সালের বিধিমালাটি চূড়ান্ত হওয়ার আগে স্টাডি সেন্টার সংক্রান্ত কার্যক্রম চালাতে প্রকৃতপক্ষে আগ্রহী না ইউজিসি। বর্তমানে মন্ত্রণালয় একটি স্টাডি সেন্টার খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এর অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম খোলার অনুমতি বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী কেবল ইউজিসি দিতে পারে। কিন্তু ইউজিসি তাদের এ ধরনের অনুমতি দেয়নি। তারা যদি শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে থাকে, সেটা ইউজিসির অজ্ঞাতে হচ্ছে। ইউজিসি এর দায়ভার নেবে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি মনে করি, এক্ষেত্রে সরকারের দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, শিক্ষার্থীদের স্বার্থে। যেহেতু তাদের অ্যাকাডেমিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমোদন নেই, সেহেতু অবৈধ কর্মকাণ্ড দ্রুত বন্ধ করতে সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া উচিত।”

বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির চেয়ারম্যান শেখ কবির হোসেন বলেন, “আমরা আগেই বলেছিলাম, স্টাডি সেন্টারের অনুমোদন দিলে সার্টিফিকেট বাণিজ্য হবে।”

 

 

About

Popular Links