Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগ থেকে মেয়র আব্বাসকে অব্যাহতি

‘আমি একজন মুসলমান একজন আল্লাহ-ওয়ালা লোকের কথা শুনে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। এর জন্য আমাকে নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যে শাস্তি আমি সহ্য করতে পারছি না’

আপডেট : ২৬ নভেম্বর ২০২১, ১০:০৯ পিএম

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তির অভিযোগে রাজশাহী জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য পদ থেকে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক পদ থেকেও তাকে স্থায়ী বহিষ্কার করতে কেন্দ্রে সুপারিশ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে জেলা আওয়ামী লীগের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে এ কথা জানান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াদুদ দারা। এ সময় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অনিল সরকারের সভাপতিত্বে জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে শুক্রবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে লাইভে এসে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নিয়ে কটূক্তির কথা স্বীকার করেছেন। লাইভে তিনি জানান, কাটাখালী মাদ্রাসার বড় হুজুরের আপত্তির কারণে তিনি রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়কের কাটাখালী পৌরসভা গেট নির্মাণস্থলে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন।

তিনি বলেন, “আমি একজন মুসলমান একজন আল্লাহ-ওয়ালা লোকের কথা শুনে আমি আমার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছি। এর জন্য আমাকে নানা ধরনের শাস্তি দেওয়া হচ্ছে। যে শাস্তি আমি সহ্য করতে পারছি না।”

তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনার পর থেকে আমার পরিবারকে ফাঁসানোর জন্য ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। ছোট একটি ভুলের কারণে আমার বিরুদ্ধে এত ষড়যন্ত্র কেনো করা হচ্ছে তা আমি আগামীতে ফেসবুক লাইভে এসে এর পেছনের গুরুত্বপূর্ণ কারণ তুলে ধরব।”

এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল নির্মাণকে কেন্দ্র করে কটূক্তির প্রতিবাদে কাটাখালী পৌরসভার মেয়র আব্বাস আলীর শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং কুশপুত্তলিকা দাহ করেছেন রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাকর্মীরা। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মহানগরীর আলুপট্টি মোড় থেকে এই বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়।

মিছিলটি মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সাহেব বাজার জিরো পয়েন্টে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে মেয়র আব্বাসের কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। এ সময় রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি রকি কুমার ঘোষ, বর্তমান সভাপতি নূর মোহাম্মদ সিয়াম, সাধারণ সম্পাদক ডা. সিরাজুল মবিন সবুজ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাসান রেজা, সাংগঠনিক সম্পাদক রাসিক দত্ত উপস্থিত ছিলেন।  

এছাড়া মেয়র আব্বাস আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন কাটাখালী পৌরসভার কাউন্সিলররা। শুক্রবার সকালে পৌর ভবনে সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন তারা। কাউন্সিলররা বলেন, “বছরে সাড়ে তিন কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়। এখন তহবিলে এক কাপ চা খাওয়ার টাকাও নেই। সব লুটেপুটে খেয়েছেন মেয়র।”

তিন নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মঞ্জুর রহমান বলেন, “মেয়র আব্বাস আলী কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রায়ই অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। জোরপূর্বক সভা ও অন্যান্য কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করতেন। গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ অন্যান্য যাবতীয় কাজ মেয়র তার আত্মীয়-স্বজন ও পছন্দের লোকজনকে দিতেন। তার আত্মীয়-স্বজনের মধ্যে চারজনের নামে লাইসেন্স আছে এই পৌরসভায়। মেয়র তাদের নামে কাজ নিয়ে নিজেই করতেন। অন্য ঠিকাদারদের লাইসেন্স করতে দিতেন না।”

উল্লেখ্য, এর আগে মঙ্গলবার সকালে ফেসবুকে ১ মিনিট ৫১ সেকেন্ডের একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। অডিওতে মেয়র আব্বাসকে বলতে শোনা যায়, “আমাদের যে অংশটা হাইওয়েতে, সিটি গেট আমার অংশে। ফার্মকে দিয়েছি তারা বিদেশি স্টাইলে সাজিয়ে দেবে, ফুটপাত, সাইকেল লেন টোটাল আমার অংশটা। কিন্তু একটু থেমে গেছি গেটটা নিয়ে। একটু চেঞ্জ করতে হচ্ছে, যে ম্যুরালটা দিয়েছে বঙ্গবন্ধুর। এটা ইসলামি শরিয়ত অনুপাতে সঠিক নয়। এ জন্য আমি ওটা থুব না। সব করবো, যা কিছু আছে। খালি শেষ মাথাতে যেটা ওটা।”

আব্বাস আলীকে অডিওতে আরও বলতে শোনা যায়, “আমি দেখতে পাচ্ছি, আমাকে যেভাবে বুঝাইল, ম্যুরালটা দিলে ঠিক হবে না। আমার পাপ হবে। এটা কেন দেব, দেব না। আমি তো কানা না, আমাকে যেভাবে বোঝাইছে, তাতে আমার মনে হয়েছে যে ম্যুরালটা হলে আমার ভুল হবে। এ জন্য চেঞ্জ করছি। এই খবরটাও যদি আবার যায়, তাহলে আমার রাজনীতির বারোটা বাজবে, আরে যে বঙ্গবন্ধু ম্যুরাল দিতে চাচ্ছে না। তাহলে বঙ্গবন্ধুকে খুশি করতে গিয়ে আল্লাহকে নারাজ করব নাকি। এটা নিয়ে রাজনীতি করবে শিউর। রাজনীতি করলে কিছু করার নাই। তাই বলে মানুষকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে আল্লাহকে অসন্তুষ্ট করা যাবে না তো।” অডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।

ইতোমধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মেয়র আব্বাসের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আর উপজেলা আওয়ামী লীগ আব্বাসকে পৌর আওয়ামী লীগের আহ্বায়কের পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে।

About

Popular Links