Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এ বছরও হচ্ছে না বান্দরবানের রাজপূণ্যাহ মেলা

২০১৯ সালে অজ্ঞাত কারণে ঐতিহ্যবাহী এ মেলার আয়োজন না হলেও রাজ কর আদায় করা হয় এবং ২০২০ সালেও এ মেলা আয়োজিত হয়নি

আপডেট : ০২ মার্চ ২০২২, ১২:১২ পিএম

দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগে সাধারণত প্রতি বছর ডিসেম্বরে বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী রাজ কর আদায়ের উৎসব রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন করা হতো। তবে গত বছর এ মেলার আয়োজন করা সম্ভব হয়নি। 

রাজ পরিবার সূত্র জানিয়েছে, গতবারের মতো এ বছরেও রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন হবে না।

ঐতিহ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাঙ্গামাটিকে চাকমা সার্কেল, বান্দরবানকে বোমাং সার্কেল এবং খাগড়াছড়িকে মং সার্কেল হিসাবে গণ্য করা হয়। প্রায় ১৭৬৪ বর্গমাইল এলাকার বান্দরবানের ৯৫টি, রাঙামাটির রাজস্থলী ও কাপ্তাই উপজেলার ১৪টি মৌজা নিয়ে বান্দরবান বোমাং সার্কেল। ২০০ বছরের ঐতিহ্য অনুসারে বোমাং সার্কেলের পক্ষ থেকে বছরে একবার এ মেলা আয়োজন করা হয়।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে অজ্ঞাত কারণে বান্দরবানের বোমাং রাজ পরিবার জেলার ঐতিহ্যবাহী এ মেলার আয়োজন না করলেও রাজ কর আদায় করে এবং ২০২০ সালে রাজপূণ্যাহের আয়োজন করা হয়নি।

বোমাং রাজ পরিবার সূত্রে জানা যায়, বান্দরবান শহরের স্থানীয় রাজার মাঠে প্রতি বছর ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে তিন দিনব্যাপী রাজ মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। কিন্তু করোনাভাইরাস ও দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণ গত বছরের মতো এবারও রাজপূণ্যাহ মেলার আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বোমাং রাজা।

সূত্র আরও জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলাকে তিনটি সার্কেলে বিভক্ত করে খাজনা আদায় করা হতো। ১৮৬৬ সাল পর্যন্ত চাকমা রাজা পার্বত্য এলাকা শাসন করতো। ১৮৬৭ সালে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ অঞ্চলের মারমা অধ্যুষিত এলাকাকে বোমাং সার্কেল, ১৮৭০ সালে রামগড় ও মাইনি উপত্যকার এলাকাকে নিয়ে মং সার্কেল গঠিত হয়।

প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী এ মেলাকে ঘিরে জেলার ১১টি ক্ষুত্র নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যমণ্ডিত মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এ সময় পর্যটকসহ দেশি-বিদেশি লক্ষাধিক মানুষ ভিড় জমানোয় পর্যটন শহর বান্দরবান পরিণত হয় পাহাড়ি-বাঙালিদের মিলন মেলায়। আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রবীণ নেতা হিসাবে বোমাং রাজার আর্শীবাদ পাওয়ার জন্য তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে পাহাড়িরা রাজ দরবারে এসে ভিড় জমান।

বান্দরবান শহরের বাসিন্দা সাইদুল ইসলাম জানান, রাজপূন্যার আয়োজন না থাকার কারণে জেলার মানুষ তাদের ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ভুলতে বসেছে। এ ঐতিহ্য সবার ধরে রাখা উচিত।

বান্দরবানের বোমাং রাজা  উচ প্রু চৌধুরীর সহকারী অং ঝাই খ্যায়াং জানান, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ও দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বোমাং রাজা মহোদয় মেলার আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

About

Popular Links