Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের হলেও থাকতে পারবেন না বিবাহিত ছাত্রীরা!

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করেই এ নিয়ম করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২০ ডিসেম্বর ২০২১, ০১:৪৮ পিএম

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমা খাতুন ভাসানী হল কর্তৃপক্ষ হঠাৎ করে বিবাহিত ছাত্রীদের সিট ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছে। আচমকা হল প্রশাসনের এ ধরনের সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলেমা খাতুন ভাসানী হল শিক্ষার্থীরা জানান, গত ১১ ডিসেম্বর হলের প্রাধ্যক্ষ নোটিশ বোর্ডে বিবাহিত শিক্ষার্থীদের হল ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘হলের নিয়ম অনুযায়ী বিবাহিত ছাত্রীদের হলে থেকে অধ্যয়নের সুযোগ নেই। এ অবস্থায় আগামী ৩০ জানুয়ারির মধ্যে বিবাহিত ছাত্রীদের সিট ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ দেওয়া হলো।’’

নোটিশে আরও জানানো হয়, কোনো ছাত্রী বিবাহিত হলে অবিলম্বে হল কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। না জানালে নিয়ম ভঙ্গের কারণে জরিমানাসহ সিট বাতিল করা হবে।


আরও পড়ুন- ঢাবির হলে থাকতে পারবেন না অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীরা


এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে হল কর্তৃপক্ষ জানায়, হলে সিটের জন্য এবার অনেক বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন। তখন দেখা যায়, হলে অনেক বিবাহিত ছাত্রী রয়েছেন। তারা সিট বরাদ্দ নিয়ে হলে নিয়মিত থাকেনও না। সিট ফাঁকা পড়ে থাকে। আবার কেউ কেউ সিটে অতিথিদের উঠিয়ে রেখেছেন। তাই তাদের সিট বরাদ্দ বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

হল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিবাহিত এক শিক্ষার্থী জানান, বিবাহিত-অবিবাহিত সবারই হলে থাকার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের আইন অবিলম্বে বাতিল করা উচিত। হলে অনেক বিবাহিত শিক্ষার্থী রয়েছেন।


আরও পড়ুন- বিবাহিত হওয়া কি অপরাধ, প্রশ্ন ঢাবি ছাত্রীদের


আলেমা খাতুন ভাসানী হলের  আবাসিক ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, অনেক মেয়েই আছেন, যাদের পড়াশোনা চলাকালেই বিয়ে হয়। বিয়ে হলেও তারা হলে থেকেই নিয়মিত লেখাপড়া চালিয়ে যান। এ ধরনের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ায় বিবাহিত মেয়েদের লেখাপড়ায় সমস্যা হবে। হলে নিরাপদে কম খরচে থেকে লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়া যায়। কিন্তু বাইরে থাকতে খরচ যেমন বেশি, নিরাপত্তাটাও অনেক কম। তাই বিবাহিত মেয়েদের হল ছাড়ার যে সিদ্ধান্ত কর্তৃপক্ষ দিয়েছে, তা আরেকবার ভেবে দেখা প্রয়োজন।

আলেমা খাতুন ভাসানী হলের প্রাধ্যক্ষ রোকসানা হক জানান, নিয়মটি নতুন করে বা হঠাৎ করে আসেনি। হল প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই এ নিয়ম রয়েছে। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুসরণ করেই এখানে এ নিয়ম করা হয়েছে। প্রয়োজনের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়মটি প্রয়োগ করা হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্রীদের পাঁচটি হলে আসন বণ্টন–সম্পর্কিত নীতিমালার একটি ধারায় বিবাহিত এবং  অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের সিট বাতিলের নিয়মটি বেশ আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। বিবাহিত ও অন্তঃসত্ত্বা ছাত্রীদের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের এ নিয়মের বাতিলের দাবিসহ মঙ্গলবার (১৪ ডিসেম্বর) উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামান বরাবর দেওয়া এক আবেদনে চার দফা দাবি জানিয়েছেন ঢাবির পাঁচ ছাত্রী হলের ছাত্রী প্রতিনিধিরা। শুক্রবার (১৭ ডিসেম্বর) নিময়টির বাতিল চেয়ে সংবাদ সম্মেলনও করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের ছাত্রীরা।

About

Popular Links