Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তিন ভাই-ই চান চেয়ারম্যান হতে, পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড়!

তিন ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করলেও নির্বাচনের দিন বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষসহ প্রার্থীরা

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৪৮ পিএম

রংপুরের বদরগঞ্জ ও গঙ্গাচড়া উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন আগামী ২৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে বদরগঞ্জের কালুপাড়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন আপন তিন ভাইসহ ৬ জন প্রার্থী। তিন ভাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করলেও নির্বাচনের দিন বড় ধরনের সহিংসতার আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষসহ প্রার্থীরা।

তিন সহদোর প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কালো টাকা ছড়িয়ে ভোট কেনা, সন্ত্রাসী ভাড়া করে ভোটারদের হুমকি দেওয়াসহ নানান ধরনের অভিযোগ করছেন। একইভাবে আওয়ামী লীগ প্রার্থীও ভোটকেন্দ্র দখলসহ নানান আশঙ্কার কথা বলেছেন। পাল্টাপাল্টি এসব বক্তব্য নিয়ে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কর্মকর্তারাও একই আশঙ্কা করছেন।

সরজমিনে দেখা যায়, কালুপাড়া ইউনিয়নে এবার চেয়ারম্যান পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদন্দ্বিতা করছেন তিন সহোদর বর্তমান চেয়ারম্যান সাবেক শিবির নেতা শহিদুল ইসলাম তার বড়ভাই একরামুল হক সরকার দুলু ও মেজো ভাই মোতালেব হোসেন দুদু। এছাড়াও আওয়ামী লীগ প্রার্থী আব্দুল মান্নান, ইসলামী আন্দোলনের আব্দুল হালিম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আশরাফুল ইসলাম সংগ্রাম প্রতিদ্বন্দিতা করছে। এ ইউনিয়নে মোট ভোটার ১৪ হাজার ৯৮২জন।

আওয়ামী লীগ প্রার্থী এম এ মান্নান অভিযোগ করে বলেন, “বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জামায়াত শিবিরের চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও ক্যাডার। সে তার ছেলের নেতৃত্বে গড়ে তুলেছে সন্ত্রাসী বাহিনী। তার বিরুদ্ধাচারণ করলেই সন্ত্রাসী লেলিয়ে দিয়ে গুরতর আহত করা হয়।”

তিনি অভিযোগ করেন, শহিদুল ইসলাম মানিক তার নিজের ভাই মোতালেব হোসেন দুদু’র ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে কুপিয়ে আহত করেছে। ফলে তার একটি পা কেটে ফেলতে হয়েছে। এছাড়াও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নগদ অর্থ বিতরণ করছেন এবং তাকে ভোট দেওয়ার জন্য নানানভাবে হুমকি দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এদিকে একই ইউনিয়নে তিন সহদোর চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। তিন ভাই দিন রাত নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন। বড় ভাই একরামুল হক দুলু জানান, তিনি এলাকার মানুষের সুখে দুঃখে সবসময় ছিলেন, সে কারণে জনগণের চাপে তিনি চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়েছেন। অপর দুই ভাইয়ের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, তারা জনবিচ্ছিন্ন এবং কালো টাকা দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন।

আরেক ভাই মোতালেব হোসেন দুদু অভিযোগ করেন, তার জনপ্রিয়তায় বর্তমান চেয়ারম্যান তার ভাই মানিক ক্ষুব্ধ হয়েই তার ওপর হামলা চালিয়েছে। পা কেটে ফেলায় তিনি ভ্যানে করে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন।

তিন সহদোরের সবচেয়ে ছোট বর্তমান চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মানিক জানান, তার দুই ভাই তাকে পরাজিত করার জন্যই অন্য প্রার্থীদের প্ররোচনায় নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। তিনি দাবি করেন, কালুপাড়া ইউনিয়নে মোট ভোটারের ৬০% ভোট তিনি পাবেন আর ৪০% ভোট অন্য প্রার্থীরা পাবেন, তিনি আবারও জয়ী হবেন।

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন বদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে আয়োজিত এক সভায় সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করা হলে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে পর্যাপ্ত সংখ্যক অস্ত্রধারী পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে। এছাড়াও কোনো ঘটনার খবর পেলে ১৫ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর জন্য ষ্ট্রাইকিং ফোর্স কাজ করবে।

About

Popular Links