Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

তৃতীয় দফায় বাড়ল কুয়েট ছুটির মেয়াদ

শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৯:৪৯ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) চলমান ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত করা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি হলগুলো খুলে দিয়ে ৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরুর কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের ৭৮তম (জরুরি) সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কুয়েটের জনসংযোগ ও তথ্য শাখার সেকশন অফিসার মো. রবিউল ইসলাম ঢাকা ট্রিবিউনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। 

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতিতে ৭৭তম সিন্ডিকেট সভায় ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত (দ্বিতীয় দফায়) কুয়েট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত ছিল। সে ধারাবাহিকতায় ২৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টায় সিন্ডিকেটের ৭৮তম জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

এতে সভাপতিত্ব করেন কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী সাজ্জাদ হোসেন। সভায় ৭ জানুয়ারি হলগুলো খুলে দেওয়া এবং ৯ জানুয়ারি থেকে ক্লাস শুরুর সিদ্ধান্ত হয়। 

মো. রবিউল ইসলাম আরও বলেন, শিক্ষক সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানিয়েছে।

কুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের প্রফেসর ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর পর সৃষ্ট পরিস্থিতিতে ২ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৭৬তম জরুরি সভায় ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং ৭৭তম সভায় তা ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

গত ৩০ নভেম্বর কুয়েটের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ সেলিম হোসেন (৩৮) ক্যাম্পাস সংলগ্ন বাসায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এরপর, ১ ডিসেম্বর ময়নাতদন্ত ছাড়াই তার মরদেহ কুষ্টিয়ায় তার গ্রামে দাফন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অভিযোগ, ছাত্রলীগের কুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজানের নেতৃত্বে সংগঠনটির কয়েকজন কর্মী অধ্যাপক সেলিমকে তার অফিসে আটকে রেখে মানসিকভাবে নির্যাতনের কয়েক ঘণ্টা পর তিনি মারা যান।

এ সময় তাকে গালিগালাজ, লাঞ্ছনা করার পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন সহকর্মীরা।

ঘটনার পর গত ৩ ডিসেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয় কুয়েট ক্যাম্পাস। ওই দিন বিকেল ৪টার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও ছাত্রাবাস খালি করতে বলা হয়।

এছাড়া পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে ১০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।

কিন্তু প্যানেল সময়মতো তদন্ত শেষ করতে পারেনি। পরে তদন্ত সংস্থার সুপারিশ বিবেচনা করে ২৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত বন্ধের মেয়াদ বাড়ায় কুয়েট।

এদিকে, মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটনের জন্য দাফনের ১৫ দিন পর ১৫ ডিসেম্বর সকালে সেলিম হোসেনের মরদেহ কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বাগুলাট ইউনিয়নের বাঁশগ্রাম কবরস্থান থেকে উত্তোলন করা হয়। এরপর মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য মরদেহ রাজধানীতে পাঠানো হয়। ১৬ ডিসেম্বর রাতে মরদেহ ওই একই কবরে দাফন করা হয়।



About

Popular Links