Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বদি পত্নী: আমার স্বামী ইয়াবা ব্যবসায়ী প্রমাণ নেই

‘দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আমার স্বামী বলে দিয়েছেন, তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ী নন’

আপডেট : ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০২:০৪ পিএম

কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য শাহীন আকতার বলেছেন, ‘আমার স্বামী ও সাবেক সাংসদ আবদুর রহমান বদি ইয়াবা ব্যবসায়ী নয়। ইয়াবার তালিকায় তাকে পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দেখানো হলেও এর কোন প্রমাণ নেই।’ কক্সবাজারের ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণ প্রসঙ্গে কথা বলার সময় প্রতিবেদকের কাছে এমনটি দাবি করেন তিনি।

এমপি শাহিন আকতার বলেন, ‘মাদক নিয়ে হচ্ছে আমি প্রথম যুদ্ধ করেছি। আমি সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর আমার প্রথম কাজ শুরু করি মাদক বিরোধী কার্যক্রম নিয়ে। এ কারণে এখন আত্মসমর্পণ করছে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা। আমরা ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বলে দিয়েছি- আপনারা যারা আত্মসমর্পণ করবেন, চলে আসেন। আত্মসমর্পই করে ফেলুন। এই পর্যন্ত ৪০/৫০ জনের মত ইয়াবা ব্যবসায়ী আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির জন্য জমা হয়েছে। আপনারা এখনও বিশ্বাস করেন না। বিশ্বাস না করলে আমাদের করার কি আছে বলুন?’

ইয়াবা গডফাদারদের তালিকায় পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আপনার স্বামী আব্দুর রহমান বদির নাম রয়েছে? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, ‘কেউ কি প্রমাণ দিতে পেরেছেন? আপনারা কেউ প্রমাণ করতে পেরেছেন। দশম জাতীয় সংসদ অধিবেশনে আমার স্বামী বলে দিয়েছেন, তিনি ইয়াবা ব্যবসায়ী নন। কই, সাংবাদিক বলেন, মিডিয়া বলেন, কেউ কি প্রমাণ দিতে পেরেছেন? কেন একজন জনপ্রতিনিধিকে ইয়াবা ব্যবসায়ী বলবে?’

তালিকায় স্বামী বদির নাম ভুলবশত উঠেছে উল্লেখ করে বদি পত্নী শাহিন আকতার আরও বলেন, ‘সরকারের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, মাননীয় মন্ত্রীরা বলে দিলেন না? তার বিরুদ্ধে ইয়াবা ব্যবসার কোন প্রমাণ নেই। এরপরও কেন আপনারা এভাবে করছেন।’ 

গত ২০১৮ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণার পর দেশব্যাপী একযোগে মাদক বিরোধী সাঁড়াশী অভিযান শুরু করে আইনশৃংখলা বাহিনী। সে সময়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের করা তালিকায় কক্সবাজারে ১১৫১ জন ইয়াবা ব্যবসায়ীকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এরমধ্যে শুধুমাত্র টেকনাফে রয়েছে ৯১২ জনের নাম। উক্ত তালিকায় ৭৩ জন শীর্ষ মাদক কারবারি বা পৃষ্ঠপোষক রয়েছে। তালিকায় বদিসহ তার পরিবারের ২৬ জন রয়েছে। একইভাবে টেকনাফ, উখিয়া ও কক্সবাজারের আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ অনেক রাজনৈতিক নেতার নাম রয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইয়াবার প্রবেশদ্বার হিসাবে খ্যাত টেকনাফেও শুরু হয় মাদক বিরোধী এ বিশেষ অভিযান। শুরুতে ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এ অভিযানকে তেমন একটা পাত্তা না দিলেও পরবর্তীতে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীর গ্রেফতার ও বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটতে থাকলে নড়েচড়ে বসে সীমান্তের শীর্ষ ইয়াবা কারবারীরা। এরপর চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিতে শুরু করে। 

উল্লেখ্য, আবদুর রহমান বদি ২০০৮ এবং ২০১৪ সালে পর পর দুই বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি জেলা ছাড়িয়ে আলোচিত হয়ে উঠেন পুরো দেশজুড়ে। এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকারের নীতি নির্ধারক মহল তাকে মনোনয়ন না দিয়ে তার স্ত্রী শাহিন আকতারকে মনোনয়ন দিয়েছেন এবং তিনি সাংসদ নির্বাচিতও হয়েছেন।


About

Popular Links