Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

রংপুরের দুই উপজেলায় ১৯ ইউনিয়নের ১২টিতে হারল আওয়ামী লীগ

মনোনয়ন বাণিজ্য, দলীয় কোন্দল, দুর্নীতি, জনগণের পাশে না থাকা, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়নের কারণেই এমনটি হয়েছে বলে মনে করেন দলের অনেকেই

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২১, ১০:১৬ পিএম

রংপুরের গঙ্গাচড়া ও বদরগঞ্জ উপজেলার ১৯টি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ভরাডুবি হয়েছে। মাত্র ৭টি ইউনিয়নে জয় এবং ১২টিতে শোচনীয় পরাজয় হয়েছে দলটির। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মনোনয়ন বাণিজ্য আর দলীয় কোন্দলের কারণেই এমনটি হয়েছে।

নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক অবস্থার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। এজন্য উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের স্থানীয় পর্যায়ের দুর্নীতি, জনগণের পাশে না থেকে পকেট ভারি করা, তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীদের অবমূল্যায়নসহ বিভিন্ন বিষয়কে দায়ী করেছেন নেতাকর্মীরা।

সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চারটিতে আওয়ামী লীগ, তিনটিতে জাতীয় পার্টি, একটিতে বিএনপি এবং একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন।

আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জানান, গঙ্গাচড়া উপজেলার ৯টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগ জিততে পারত। কিন্তু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলামের মধ্যে প্রার্থী চূড়ান্ত করতে দ্বিমত সৃষ্টি হওয়ায় যোগ্য প্রার্থীরা মনোনয়ন পাননি। এছাড়া জেলার দুই শীর্ষ নেতা উপজেলার দুই নেতার সমর্থক হওয়ায় একজন সরাসরি উপজেলা সভাপতির পক্ষ নেন, ফলে দলের ভেতর কোন্দল দেখা দেয়। 

তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অভিযোগ  করেছেন, উপজেলার এক নেতার কারণে একটি ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থী জয়ী হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী আত্মীয় হওয়ায় সেখানে ছাত্রলীগের এক তরুণ নেতাকে মনোনয়ন দেওয়ায় আওয়ামী লীগ হেরেছে।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জাসেম বিন জুম্মমন জানান, গঙ্গাচড়ায় প্রার্থী নির্বাচন ঠিক না হওয়ায় পাঁচটি ইউনিয়নে আমাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। যোগ্য প্রার্থী দেওয়া গেলে ৯টি ইউনিয়নেই আমরা জয়ী হতাম।

এদিকে, বদরগঞ্জ উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র তিনটিতে জয় পেয়েছে আওয়ামী লীগ। বাকি সাতটি ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের অভিযোগ, প্রার্থী নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি, মনোনয়ন বাণিজ্যের কারণে এ ভরাডুবি ঘটেছে।

এ ব্যাপারে বদরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক টুটুল চৌধুরীর সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। আর দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের ভরাডুবির ব্যাপারে জেলা দলটির জেলা পর্যায়ের কোনো নেতাই মন্তব্য করতে রাজি হননি।

About

Popular Links