Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারী পর্যটক ধর্ষণ: নিজেদের ভিন্ন বক্তব্যে অনড় র‌্যাব-পুলিশ

র‌্যাব জানায়, ধর্ষণ মামলার মূল আসামি আশিকের সঙ্গে ভূক্তভোগী নারীর দুইদিন আগে পরিচয় হয়। আশিক ও তার সহযোগীরা তাদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে

আপডেট : ২৯ ডিসেম্বর ২০২১, ০২:০৫ পিএম

কক্সবাজারে স্বামী-সন্তান নিয়ে বেড়াতে এসে ধর্ষণের ঘটনায় দেওয়া দুই ধরনের বক্তব্যে অনড় রয়েছে র‌্যাব ও পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ ডিসেম্বর) একইদিনে এক ঘণ্টার ব্যবধানে দুই বাহিনীর প্রেস ব্রিফিংয়ে নারী পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় দেওয়া পূর্বের বক্তব্যে অনড় রয়েছে তারা।

কক্সবাজারে হোটেলে দুইদিন ধরে স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর মামলার প্রধান আসামি মোহাম্মদ আশিককে গ্রেপ্তারের বিষয়ে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক লে.কর্ণেল খায়রুল ইসলাম সরকার র‌্যাবের আগের বক্তব্যে অনড় থাকার কথা জানান।

নারী পর্যটক ধর্ষণ মামলার ৩ নম্বর আসামি ইসরাফিল হুদা জয়কে (২৭) গ্রেপ্তারের বিষয়ে প্রেস ব্রিফিংকালে ট্যুরিস্ট পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্চের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোসলেম উদ্দিন বলেন, “একজন নারী যাতে সঠিক বিচারটি পাই, সে লক্ষ্যে কাজ করে করছে পুলিশ। মামলায় ব্যাপক তদন্ত করে কল রেকর্ড থেকে শুরু করে সব প্রমাণাদি পুলিশের হাতে এসেছে। আশা করছি, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন হবে। পুলিশ মামলার তদন্তে সঠিক পথে রয়েছে।”  

এর আগে, গত ২৪ ডিসেম্বর নারী পর্যটক ধর্ষণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী ৯৯৯-এ ফোন করে সেবা পাননি বলে করা অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এসপি (এসপি) মো. হাসানুজ্জামান। তিনি দাবি করেছিলেন, ওই নারী সাহায্য চেয়ে ৯৯৯-এ ফোন করেননি। একই সঙ্গে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী নারীর পূর্ব পরিচিত বলে দাবি করছে তদন্ত কর্মকর্তারা।

একই কথা বলেছিলেন ট্যুরিস্ট পুলিশ কক্সবাজার জোনের পুলিশ সুপার মো. জিল্লুর রহমান। তার দাবি ছিল- ঢাকার যাত্রাবাড়ীর জুরাইন এলাকায় থাকার কথা বললেও ওই দম্পতি তাদের সন্তানসহ তিন মাস ধরে কক্সবাজারের বিভিন্ন হোটেলে থাকছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন নাম ব্যবহার করতেন। ওই নারী পুলিশের কাছে বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

জিল্লুর রহমান আরও বলেছিলেন, ওইদিন রাতে ভিকটিম নারী আসামি আশিকুল ইসলাম আশিকের মোটরবাইকের পিছনে বসে হোটেল জিয়া গেস্ট ইন-এ যান। এ সময় অসংখ্য লোকজন ছিল। কিন্তু, ভিকটিম নারী কোন ধরনের চিৎকার বা উচ্চবাচ্য করেননি। এছাড়া ভিকটিমকে যখন আসামি আশিক নিয়ে যান, তখন ভিকটিম শহরের চিটাগাং হোটেলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তার স্বামী ছিল অন্য একটি হোটেলে।

এদিকে, সোমবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, “ধর্ষণ মামলার মূল আসামি আশিক ভিকটিমের সঙ্গে দুইদিন আগে পরিচয় হয়। আশিক ও তার সহযোগীরা ভূক্তভোগী নারী ও তার পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। কিন্তু চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে লাবণী বিচ এলাকার রাস্তা থেকে ভুক্তভোগী নারীকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে তুলে নিয়ে যায় তারা। পরে আশিকুল ওই নারীকে ধর্ষণ ও জিয়া গেস্ট ইন হোটেলে আটকে রেখে তার স্বামীর কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। এরপর ভুক্তভোগী নারীকে হোটেলে আটকে রেখেই আশিক হোটেল থেকে বের হয়ে যায়। বিষয়টি ব্যাপকভাবে স্থানীয় পর্যায়ে ও বিভিন্ন মাধ্যমে জানাজানি হলে সে আত্মগোপনে চলে যায়। বেশভুষা পরিবর্তন করে ঘটনার দুদিন পর কক্সবাজার থেকে একটি এসি বাসযোগে ঢাকায় আসে। পরে ঢাকা থেকে পটুয়াখালী যাওয়ার পথে মাদারীপুরের মোস্তাফাপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে গ্রেপ্তার হয়।”

তিনি আরও বলেছিলেন-ভুক্তভোগী ওই নারী স্বামী-সন্তানসহ কক্সবাজারের একটি হোটেলে বেশ কিছুদিন অবস্থান করছিলেন। তাদের সঙ্গে আট মাস বয়সের একটি শিশুসন্তান রয়েছে। শিশুটির জন্মগতভাবে হার্টে ছিদ্র থাকায় তার চিকিৎসায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। শিশুর চিকিৎসার টাকা সংগ্রহের আশায় স্বামীসহ কক্সবাজারে অবস্থান করছিল পরিবারটি। তারা বিত্তবান পর্যটকদের কাছ থেকে টাকা সাহায্য চাইত। এ সময় ওই নারী অপহরণ ও ধর্ষণের শিকার হন। অপহরণের ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর স্বামী র‌্যাব-১৫-এর কাছে সহায়তা চান। এরপর র‌্যাব ভুক্তভোগীর স্বামীকে নিয়ে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালায় ও একপর্যায়ে ওই নারীকে উদ্ধার করে।

উল্লেখ্য,  গত ২২ ডিসেম্বর রাতে স্বামী-সন্তান নিয়ে কক্সবাজার বেড়াতে আসা নারী পর্যটক ধর্ষণের শিকার হন। ওই নারী জানান, তিনি স্বামী-সন্তান নিয়ে ওইদিন সকালে ঢাকা থেকে কক্সবাজারে পৌঁছান। উঠেন শহরের হলিডে সী-ল্যান্ডের ২০১নং কক্ষে। ওই দিন বিকেলে স্বামী-সন্তানকে নিয়ে লাবণী বিচে যান। রাতে হোটেলে ফেরার পথে এক যুবকের সঙ্গে তার স্বামীর ধাক্কা লাগে। এতে স্বামীর সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এক যুবকের। বাধা দিলে তার সঙ্গেও তর্কে জড়ায় যুবক। ওই সময় আরও দুই যুবক ঘটনাস্থলে এসে হাজির হয়। তারা স্বামী-সন্তানকে ইজিবাইকে তুলে দিয়ে ওই নারীকে আলাদা করে ফেলে। পরে ওই এলাকার একটি ঝুপড়ি ঘরে নিয়ে তিনজনে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর স্বামী-সন্তানকে হত্যার ভয় দেখিয়ে শহরের জিয়া গেস্ট ইন নামের একটি হোটেলে নিয়ে যায়। 

এ ঘটনায় ধর্ষিতা নারীর স্বামী মামুন মিয়া বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আশিকুল ইসলাম আশিক, বাবু, জয় ও রিয়াজ উদ্দিনের নাম উল্লেখ করে আরো দুই তিন জনকে অজ্ঞাত আসামি দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব পৃথক অভিযান চালিয়ে ৬ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

About

Popular Links