Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ফিরে দেখা ২০২১: সাত মাসে ৫০০ জনেরও বেশি শ্রমিকের মৃত্যু

২০২০ সালেও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন সেখানে ২০২১ সালে সেই সংখ্যা ৫০০ ছাড়িয়ে গেছে

আপডেট : ১৩ মার্চ ২০২২, ০১:৫৪ পিএম

২০২১ সালে সারা দেশে কর্মস্থলে ৩৯৯টি দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ৫৩৯ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন বলে বেসরকারি শ্রম অধিকার সংস্থা সেফটি অ্যান্ড রাইটস সোসাইটির (এসআরএস) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। 

প্রতিবেদনের তথ্যানুসারে, ২০২০ সালে ৩৭৩টি দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন।

এসআরএসের নির্বাহী পরিচালক সেকেন্দার আলী মিনা জানান, আমরা ২০০৭ সাল থেকে ২৫টি জাতীয় ও স্থানীয় দৈনিক সংবাদপত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি এবং দুর্ভাগ্যবশত, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ এবং ধরন একই।

শ্রমিকদের অধিকারের দিকগুলো নিয়ে খুব সামান্য পরিবর্তন নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বেশিরভাগ মৃত্যু পরিবহন দুর্ঘটনা, নির্মাণ সাইট এবং বজ্রপাতের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে হয়েছে।

তিনি বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির দ্বিতীয় বছরে অনেক শ্রমিক ছাঁটাইসহ বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে ২০২১ সালের এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ মাস শ্রমিকরা কাজ করতে পারেনি, তারপরও কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে।

শ্রম খাতের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ঘটনাগুলোর মধ্যে একটি ছিল রূপগঞ্জের শেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ড, যেখানে ৫২ জন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা যান।

এছাড়া, সোয়ারিঘাটে রোমানা রাবার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ শ্রমিক এবং বগুড়ার সান্তাহারে প্লাস্টিক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে আরও পাঁচ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

বাসখালীতেও বিক্ষোভ চলাকালে সাত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।

প্রতিবেদনে কর্মক্ষেত্রের বাইরে বা কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় শ্রমিকদের মৃত্যুর ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কর্মরত শ্রমিকদের গণনা করা হয়েছে।

জরিপে দেখা গেছে, সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫০ জন পরিবহন শ্রমিক নিহত হয়েছেন, অর্থাৎ সবচেয়ে বেশি সংখ্যক শ্রমিকের মৃত্যু পরিবহন খাতে হয়েছে।

নির্মাণ খাতেও প্রায় ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ১১২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন পোশাক, প্লাস্টিক কারখানা, জাহাজ ভাঙা, স্টিল/রি-রোলিং মিল ইত্যাদি খাতে।

এছাড়া হোটেল, ওয়ার্কশপ, পাওয়ার সাপ্লাই প্রতিষ্ঠানসহ সেবা খাতে ৮৬ জন শ্রমিক নিহত এবং কৃষি খাতে ৫২ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

এসআরএস-এর নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, “টেকসই উন্নয়নের জন্য নিরাপদ কাজের পরিবেশ আবশ্যক এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রতিটি ব্যয়কে একটি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।”

About

Popular Links