Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

‘ভুল চিকিৎসায়’ রোগীর মৃত্যু, দুই চিকিৎসক পলাতক

বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

গোপালগঞ্জ শহরের পোস্ট অফিস এলাকার ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও হেলথ কেয়ার ক্লিনিকে নাকের পলিপাসের চিকিৎসা করাতে এসে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত দুই চিকিৎসক পলাতক রয়েছেন। ভুক্তভোগী ওই রোগীর নাম হাফিজুর চৌধুরী (৪২)। তিনি গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার রঘুনাথপুর ইউনিয়নের সিংগারকুল গ্রামের বাসিন্দা।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসকদের ভুল চিকিৎসায় হাফিজুর চৌধুরীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ বলছে, কর্তৃপক্ষের ভুলে নয়, চিকিৎসকের ভুলে এমনটি হয়েছে।

এদিকে, ৪ জুলাই রাতে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে শহরজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মারা যাওয়া রোগীর ছোট ভাই শহিদুল চৌধুরী জানান, ৩ জুলাই রাত ৮টার দিকে ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে ভর্তি হন হাফিজুর চৌধুরী। অপারেশনের জন্য তার ১১টি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। রিপোর্ট ঠিক থাকায় ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে চেতনানাশক ইনজেকশন পুশ করেন দুই চিকিৎসক. হিরম্ব রায় ও গোলাম সরোয়ার। তার জ্ঞান আর ফেরেনি।

তিনি বলেন, “বিষয়টি আমরা বুঝে উঠতে পারিনি। চিকিৎসার কথা বলে তারা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে আমার ভাইকে খুলনার একটি ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানকার চিকিৎসক মৃত বুঝতে পেরে তাকে ফেরত পাঠায়। পরে এ নিয়ে আমরা অভিযোগ তুললে ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রেশার বেড়ে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার প্রেশার ঠিক ছিল। তাদের ভুল চিকিৎসায় আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে।”

হাফিজুরের আরেক ছোট ভাই জিল্লাল চৌধুরী বলেন, “তারা বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য আমাদের মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দিয়েছে। কিন্তু আমরা সেটি নাকচ করেছি। এতে বোঝা যায় তাদের গাফিলতির কারণে আমার ভাইয়ের মৃত্যু হয়েছে। তদন্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।”

ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন ডা. গোলাম সরোয়ার ও ডা. হিরম্ব রায়। অপারেশন থিয়েটারে কী হয়েছিল, সে বিষয়ে জানতে তাদের মোবাইলে কয়েকবার চেষ্টা ফোল দিলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ক্ষুদে বার্তা পাঠিয়েও কোনো সাড়া মেলেনি।

এ বিষয়ে জানতে ক্লিনিকের মালিক অমর কান্তি রায়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে  কথা হলে তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “ফোনে কিছু বলা যাবে না, সাক্ষাতে সামনাসামনি বলতে হবে।” পরে তার সঙ্গে কথা বলতে ক্লিনিকে গেলে তিনি সাংবাদিকদের দেখে কৌশলে পালিয়ে যান।

তবে ক্লিনিকের ম্যানেজার শামিম বলেন, “অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ম্যানেজমেন্টের কোনো ভুল নেই, যা হয়েছে তা চিকিৎসকের ভুলে।”

যোগাযোগ করা হলে গোপালগঞ্জের সিভিল সার্জন নিয়াজ মোহাম্মদ ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “আমরা এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। সেটা শিগগিরই করা হবে।”

About

Popular Links