Tuesday, May 28, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

পাঁচ মাস ওষুধ খাওয়ার পর রোগী জানলেন তার যক্ষ্মা হয়নি

ভুল চিকিৎসায় জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে সাংবাদিক ইব্রাহীম রনি 

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৩, ০১:২৮ পিএম

রক্ত পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, সিটিস্ক্যান করার পর যক্ষ্মা রোগ শনাক্ত না হলেও এক রোগীকে যক্ষ্মার ওষুধ দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। সাড়ে পাঁচ মাস ওষুধ খাওয়ার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় আবারও ওই একই চিকিৎসকের কাছে যান রোগী। চিকিৎসক তাকে জানান, ওই ওষুধে কাজ হচ্ছে না। সঙ্গে তাকে আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে দেন।

তবে কোনো রোগ ধরা না পড়ায় চিকিৎসক রোগীকে জিজ্ঞাসা করেন ‘আপনাকে যক্ষ্মার ওষুধ দিয়েছিল কে? এটা আসলে যক্ষ্মা না।”

চিকিৎসকের এ কথায় হতবাক হয়ে পড়েন রোগী ও তার স্বজনরা। কারণ, এর আগে ওই একই চিকিৎসককেই দেখিয়েছিলেন ভুক্তভোগী, তিনিই তাকে এই ওষুধ দিয়েছিলেন। এ কথা জানার পর কিছুটা অস্বস্তিতে পড়েন ওই চিকিৎসক।

এমন ভুল চিকিৎসার শিকার হয়েছেন দীপ্ত টিভি ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউনের চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি সাংবাদিক ইব্রাহীম রনি। আর ইব্রাহীম রনিকে সাড়ে পাঁচ মাস যক্ষ্মার চিকিৎসা দিয়েছেন ল্যাবএইড হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. আলী হোসেন। 

চিকিৎসক আলী হোসেনের সঙ্গে সবশেষ এই কথোপকথনের অডিও রয়েছে রনির কাছে। ভুল চিকিৎসায় এখন জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি রয়েছেন।

রনির স্বজন ও সহকর্মীদের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার ফুসফুস দুটি অস্বাভাবিকভাবে ক্ষত হয়ে গেছে। দীর্ঘসময় ধরে যক্ষ্মার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ায় এমনটি হয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে। দিন দিনই তার ওজন কমে যাচ্ছে। কাশি দিলেই বুকে ব্যথা হচ্ছে। দুর্বলতায় নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছেন এই সাংবাদিক।

স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসক আলী হোসেনের ভুল চিকিৎসার কারণে এখন মৃত্যুর মুখে রয়েছেন তিনি।

এ বিষয়ে ডা. আলী হোসেনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল দিলেও রিসিভ করেননি তিনি। তবে ল্যাবএইড হাসপাতালের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার (৯ জুলাই) ওই চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানাবেন তারা। 

রনির চিকিৎসার বিষয়ে একাধিক চিকিৎসক জানিয়েছেন, রোগীর উপসর্গ দেখে যক্ষ্মার ওষুধ দেন অনেক চিকিৎসক। কিন্তু এটা ঠিক নয়। ছয় মাসের কোর্স দেওয়া মানে পূর্ণ ওষুধ। এমন ভুল চিকিৎসা দেওয়া উচিত হয়নি।

চাঁদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক (মেডিসিন) ডা. সালেহ আহমেদ প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালসহ বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে সিনিয়র কনসালট্যান্ট হিসেবে চিকিৎসা দিচ্ছেন। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যক্ষ্মা রোগ তো বটেই, আরও যেসব জটিল রোগ আছে, সেগুলোর ধরন দেখে একজন চিকিৎসক চিকিৎসা দিতে পারেন। কিন্তু সেটি রোগ নির্ণয়ের আগ পর্যন্ত সাময়িক কয়েকটা দিন হতে পারে, কখনও পরীক্ষা ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি ওষুধ দিতে পারেন না। এখানে যে চিকিৎসকের কথা বলা হচ্ছে, তিনি এই ধরনের বড় ভুল করবেন; আবার বলবেন ভুল হয়েছে—তা হতে পারে না। তার মতো চিকিৎসকের কাছে এমন ভুল আশা করা যায় না।”'

যক্ষ্মার চিকিৎসার বিষয়ে জানতে চাইলে জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামের কর্মকর্তা এমবিডিসি-এর অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর ডা. আফজালুর রহমান বলেন, “যক্ষ্মা নির্ণয়ের জন্য কফের মাইক্রোস্কোপিক টেস্ট, জিন এক্সপার্ট টেস্ট করা হয়। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে এক্স-রেসহ আরও কিছু পরীক্ষা করাতে পারেন। ওই রোগীর জন্য কী কী প্রযোজ্য হতে পারে—এটি চিকিৎসক নির্ধারণ করবেন।”

যক্ষ্মা পজিটিভ না হওয়া সত্ত্বেও চিকিৎসক এমন চিকিৎসা দিতে পারেন কি-না জানতে চাইলে আফজালুর রহমান বলেন, “এটি ওই চিকিৎসক বিচার-বিবেচনা করবেন। জীবাণু না পেলেও যদি ক্লিনিক্যালি অন্যান্য বিচার-বিশ্লেষণে তার মনে হয়, যক্ষ্মার চিকিৎসা শুরু করতে পারেন। তবে রোগী সম্পর্কে ভালোভাবে না জেনে এক্ষেত্রে এই জাতীয় মন্তব্য করা ঠিক হবে না।”

এদিকে, ভুল চিকিৎসায় সাংবাদিক রনির এমন করুণ অবস্থার বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না চাঁদপুরের সাংবাদিকরা। চাঁদপুর প্রেসক্লাবসহ সাংবাদিক সংগঠনগুলো ক্ষুব্ধ ও নিন্দা জানিয়েছেন। আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবছেন বলে জানিয়েছেন তার সহকর্মীরা।

About

Popular Links