Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বিয়ের আশ্বাসে শারীরিক সম্পর্ক, পিতৃপরিচয় দাবি করায় মা ও সন্তানকে হত্যা!

১৫ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ থানার খালাশপীর এলাকায় আখ ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত (৩০) নারী ও নবজাতক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৩, ০৪:৪০ পিএম

ঢাকার আশুলিয়ার একটি পোশাক কারখানায় অপারেটর হিসেবে চাকরি করতো মাসুদ মিয়া (৩৫)। সেখানে শান্তনা নামে এক নারীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাসে ওই নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে সে। ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হন। একসময় সন্তানের পিতৃপরিচয় দাবি করলে প্রেমিকার গলা ও পেটে আঘাত করে মাসুদ। এতে অন্তঃসত্ত্বা শান্তনার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং উভয়েই ঘটনাস্থলে মারা যান।

সোমবার (১৮ জুলাই) দিবাগত রাতে গাজীপুর থেকে মাসুদকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই দাবি করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। রাজধানীর কাওরান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।

র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ জানায়, ২০২২ সালে একই গার্মেন্টসে চাকরি নেন শান্তনা। চাকরির সুবাদে একে অপরের সঙ্গে পরিচয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গ্রেপ্তার মাসুদের তথ্যমতে, অন্য একজনের সঙ্গে শান্তনার আগে বিয়ে হয়েছিল। পরবর্তীতে ছাড়াছাড়ি হয়। মাসুদ ও শান্তনা স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে আশুলিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতেন। একপর্যায়ে ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হন। এরপর মাসুদকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন শান্তনা। তখন সমস্যার কথা বলে বলে শান্তনাকে ঢাকায় রেখে গ্রামের বাড়ি রংপুরের যায় মাসুদ। মাসুদের আগের বিয়ের বিষয়ের জানতেন না শান্তনা।”

কমান্ডার মঈন বলেন, “গত ১২ জুলাই মাসুদের গ্রামের বাড়ি রংপুরে যান শান্তনা। সেখানে গিয়ে তিনি জানতে পারেন মাসুদ বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। সেখানে গর্ভজাত সন্তানের স্বীকৃতি এবং তাকে বিয়ের জন্য মাসুদকে চাপ দিতে শুরু করেন শান্তনা। মাসুদের প্রথম স্ত্রী এতে অস্বীকৃতি জানান। একপর্যায়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে শান্তনাকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেয় মাসুদ। ঢাকায় ফিরে আগের মতো ঘর ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করে। ১৩ জুলাই মাসুদের খালা শান্তনাকে ঢাকার গাড়িতে উঠিয়ে দেন। এরপর শান্তনাকে ফোনে গাড়ি থেকে নেমে বাড়িতে ফিরে আসতে বলে মাসুদ। গাড়ি থেকে নেমে মাসুদের সঙ্গে ফিরছিলেন শান্তনা। পথে একটি প্রকৃতির ডাকে সাড়া দেওয়ার কথা বলে আখ ক্ষেতে যায় মাসুদ। কৌশলে শান্তনাকেও সেখানে নিয়ে যায়। পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী পেছন থেকে শান্তনার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ এবং গলা ও পেটে আঘাত করে। এতে শান্তনার সন্তান ভূমিষ্ঠ হয় এবং উভয়ই ঘটনাস্থলেই মারা যায়।”

তিনি বলেন, “১৫ জুলাই রংপুরের পীরগঞ্জ থানার খালাশপীর এলাকায় আখ ক্ষেত থেকে অজ্ঞাত (৩০) নারী ও নবজাতক কন্যাশিশুর লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এ ঘটনায় পীরগঞ্জ থানা-পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করে। অভিযুক্তকে ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ায় র‌্যাব। এরই ধারাবাহিকতায় ১৭ জুলাই রাতে গাজীপুরের তারগাছ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাসুদকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত হত্যার কথা স্বীকার করেছে।”

তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

About

Popular Links