Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ভুল চিকিৎসায় মৃত্যু: চিকিৎসকদের ধর্মঘটে ঢাকা পড়ে মরদেহের সারি

বাংলাদেশে রোগীপ্রতি মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন চিকিৎসকরা। ৬৭টি দেশের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, রোগীপ্রতি সময় দিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের অবস্থান সবার নিচে

আপডেট : ২২ জুলাই ২০২৩, ০৭:০৯ পিএম

ঢাকার বেসরকারি সেন্ট্রাল হাসপাতালে নবজাতক ও প্রসূতির মৃত্যুতে দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে চিকিৎসকদের করা ধর্মঘট স্থগিত করা হয়েছে। ওই দুই চিকিৎসকের জামিন হওয়ার এই সিদ্ধান্ত নেয় আন্দোলনরত চিকিৎসকেরা।

তবে এই ঘটনায় আবার স্পষ্ট হলো, চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া খুব কঠিন। বাংলাদেশে চিকিৎসায় অবহেলা বা ভুলের কারণে প্রতিকার পাওয়ার আলাদা কোনো আইন নেই। ক্ষতিপূরণ বা ফৌজদারি মামলা করলে তা থেকে প্রতিকার পাওয়া কঠিন। কারণ, চিকিৎসকরা এর বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে অবস্থান নেন। রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘটসহ নানা কর্মসূচি দেন। আর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিলেও (বিএমডিসি) অভিযোগ করে তেমন প্রতিকার পাওয়া যায় না।

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার পর তারা গ্রেপ্তার হলে চিকিৎসকরা মাঠে নেমে যান। তারা চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে, রোগীদের জিম্মি করে- যা চান তা আদায় করে নেন। এর ফলে পরিস্থিতি এখন চিকিৎসক আর রোগীরা যেন পরস্পরের প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন। অথচ সম্পর্কটি সেবা দেওয়া আর নেওয়ার।

যা ঘটেছে সেন্ট্রাল হাসপাতালে

সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তা সাহার (গাইনি) অধীনে গত ৯ জুন ভর্তি হন মাহাবুবা রহমান আঁখি। কিন্তু সেদিন ডা. সংযুক্তা হাসপাতালেই ছিলেন না। পরে তার দুই সহযোগী ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা ও ডা. মুনা সাহা আঁখির ডেলিভারি করানোর চেষ্টা করেন। এতে আঁখির সন্তানের জটিলতা দেখা দেওয়ায় তাকে এনআইসিইউতে রাখা হয়। একই সঙ্গে আঁখির অবস্থার অবনতি হলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

গত ১০ জুন বিকেলে আঁখির সন্তানের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় আঁখির স্বামী ইয়াকুব আলী ধানমন্ডি থানায় অবহেলাজনিত মৃত্যুর একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ডা. শাহজাদী মুস্তার্শিদা সুলতানা, ডা. মুনা সাহা, ডা. মিলি, সহকারী জমির, এহসান ও হাসপাতালের ম্যানেজার পারভেজের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকেও আসামি করা হয়। ১৫ জুন রাতে ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা সাহাকে হাসপাতাল থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর গত ১৮ জুন দুপুরে ল্যাবএইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাহবুবা রহমান আঁখিও মারা যান।

গ্রেপ্তারের পর গত ১৫ জুন ডা. শাহজাদী ও ডা. মুনা দায় স্বীকার করে আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গত ১৬ জুন আদালত সেন্ট্রাল হাসপাতালে সব ধরনের অপারেশন বন্ধের নির্দেশ দেন।

হাসপাতাল/মাহমুদ হোসেন অপু/ঢাকা ট্রিবিউন

গত তিন মাস ধরে সেন্ট্রাল হাসপাতালের গাইনি ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. সংযুক্তা সাহার অধীনে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন মাহবুবা রহমান আঁখি। এ সময় তার শারীরিক অবস্থা “স্বাভাবিক” ছিল বলেও চিকিৎসক জানিয়েছিলেন। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমেই সন্তান প্রসব সম্ভব বলে আশ্বস্তও করেছিলেন ডা. সংযুক্তা সাহা।

৯ জুন দিবাগত রাত একটার দিকে সেন্ট্রাল হাসপাতালে ডা. সংযুক্তার অধীনে মাহবুবাকে ভর্তি করা হলেও ওই সময় ডা. সংযুক্তা সাহা দেশেই ছিলেন না। অথচ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ রোগীর স্বজনদের জানায়, সংযুক্তা সাহা আছেন এবং ওটিতে (অপারেশন থিয়েটার) কাজ করছেন।

এই পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুলাই থেকে দুই দিন বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখা বন্ধ এবং চেম্বার ও হাসপাতালে রোগী দেখা ও অস্ত্রোপাচার বন্ধের কর্মসূচি পালন শুরু করেন গাইনি চিকিৎসকরা। এর আগে ১৬ জুলাই তারা সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। তবে ১৮ জুলাই দুপুরের পর দুই চিকিৎসকের জামিন হওয়ায় তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।

আরও কিছু ‘প্রশ্নবিদ্ধ' মৃত্যু ও ধর্মঘট

রোগীদের “জিম্মি” করে দাবি আদায়ের প্রবণতা নতুন নয়। ২০১৮ সালে চট্টগ্রামে ২০ রোগীর চোখের ভুল চিকিৎসার কারণে আদালত ২০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দেন। তখন আদালত বলেন, “একজন পুলিশ, অপরজন আইনজীবী এবং ডাক্তার। তিনটি পেশার যদি কিছু কিছু দুর্বৃত্তের কারণে ধ্বংস হয়, তবে মানুষ বিপদে পড়বে। ডাক্তাররা দেবতা নন। আমাদের ভুল হবে বলে আমাদের একটা উচ্চ আদালত রয়েছে। ভুলটা অন্যায় নয়। কিন্তু ভুলটা জাস্টিফাই করার জন্য যদি ধর্মঘট ডাকা হয়, তবে তা অন্যায়।”

তখন আদালত ভুল চিকিৎসায় চট্টগ্রামে শিশু রাইফার মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখ করেন। ২০১৮ সালের আগস্টে ওই মৃত্যুর ঘটনায়ও চার চিকিৎসককে আটক করা হয়েছিল। কিন্তু চট্টগ্রামে বেসরকারি হাসপাতালের মালিক ও চিকিৎসকদের টানা ধর্মঘটের কারণে তাদের জামিন দেওয়া হয়।

এর আগে ২০১৬ সালেও চট্টগ্রামের চিকিৎসকরা টানা চারদিন ধর্মঘট করেন। ওই বছরের জানুয়ারি মাসে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসায় অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুতে তিন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা করায় চিকিৎসকরা ধর্মঘট করেন।

আর এই ভুল চিকিৎসার অভিযোগে প্রায়ই রোগীদের স্বজন এবং চিকিৎসকদের মধ্যে মারামারির ঘটনাও ঘটে। ২০১৭ সালের মার্চে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ করলে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা রোগীর এক আত্মীয়কে মারপিট করেন। সেই ঘটনায় চারজন ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হলে বগুড়ার চিকিৎসকরা ধর্মঘটে যান। পরে শাস্তি প্রত্যাহার করলে তারাও ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।

ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তখনকার স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম বলেছিলেন, “রোগীকে সেবা দেওয়ার দায়িত্বে রয়েছেন চিকিৎসকরা। রোগীর স্বজনরা যদি আহত হয়, লাঞ্ছিত হয় এবং রোগী অবহেলায় মৃত্যুবরণ করে, এটা তো উপেক্ষা করা সম্ভব না। এর প্রতিবাদে যদি চিকিৎসকরা কর্মবিরতি করে, সেটাও তো দুঃখজনক। রোগীকে জিম্মি করে তো কোনো চিকিৎসক এভাবে ধর্মঘট করতে পারে না। এটা শুধু বেআইনি-ই নয়, অমানবিক।”

চিকিৎসকদের ধর্মঘট/সংগৃহীত

অভিযোগ আছে, প্রতিকার নেই

বাংলাদেশে চিকিৎসার অবহেলার ব্যাপারে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) অভিযোগ করা যায়। কিন্তু ওখানে অভিযোগ করলে শক্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এমন নজির নেই। যারা ওখানে অভিযোগের নিষ্পত্তি করেন তারা সবাই চিকিৎসক। ফলে রোগীর স্বজনরা হাসপাতালেই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান।

বিএমডিসি আইনের ২০১০-এর ধারা-২৩ অনুসারে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত চিকিৎসকের নিবন্ধন বাতিল করার ক্ষমতা আছে। আরও কিছু আইনে চিকিৎসা ও ওষুধ সংক্রান্ত অপরাধের প্রতিকারের বিধান আছে, যেমন: ড্রাগস অ্যাক্ট, ফার্মেসি অর্ডিন্যান্স, ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক প্র্যাকটিশনার্স অর্ডিন্যান্স, মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯, নিরাপদ রক্ত সঞ্চালন আইন ইত্যাদি।

তবে ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং আইনগত প্রতিকারের জন্য দেশে একক কোনো আইন কার্যকর নেই। ২০১৬ সালে “রোগী এবং স্বাস্থ্যসেবা দানকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান সুরক্ষা আইন” নামে একটি আইন প্রস্তাব করে সরকার। কিন্তু এ আইনটি এখনো কার্যকর হয়নি। আইনটির খসড়া প্রকাশের পরই সেটা নিয়ে সমালোচনা হয়। কারণ, প্রস্তাবিত আইনে রোগী নয়, বরং চিকিৎসকদের সুরক্ষার দিকে বেশি নজর দেওয়া হয়েছে। খসড়ায় বলা হয়েছে চিকিৎসকের ভুলের অভিযোগ উঠলে চিকিৎসক বা অন্য সেবাদানকারীদের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার করা যাবে না। অন্যদিকে কোনো ব্যক্তি স্বাস্থ্য সেবাদানকারীদের প্রতি সহিংস আচরণ করলে এবং প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর করলে তা জামিন অযোগ্য অপরাধ হবে বলে গণ্য হবে।

বাংলাদেশে চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের অন্ত নেই। এর মধ্যে অন্যতম হলো ভুল চিকিৎসা বা চিকিৎসায় অবহেলা। সম্প্রতি ঢাকার একটি “স্বনামধন্য” হাসপাতালে এক রোগীকে তিন মাস ধরে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু পরে দেখা গেছে তার যক্ষ্মাই হয়নি। কিন্তু তার অবস্থা এখন গুরুতর। আবার অপারেশনের পর পেটে ব্যান্ডেজ রেখেই সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ আছে। আছে ডান পায়ের অপারেশন বাম পায়ে করার অভিযোগ। সময় নিয়ে রোগী না দেখা, বেসরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত ফি নেওয়া, রোগীর মৃত্যুর পরও তার চিকিৎসা চলছে দেখিয়ে বিল আদায়ের মতো অভিযোগও আছে। আর কমিশনের লাভ পেকে অপ্রয়োজনীয় টেস্ট, পছন্দের ব্র্যান্ডের ওষুধ প্রেসক্রাইব করার অভিযোগ তো আছেই। আছে মেডিকেল টেস্টের মান নিয়ে অভিযোগ। তিন জায়গায় তিন রকম টেস্টের রেজাল্ট আসার ঘটনাও আছে।

ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে রোগীপ্রতি মাত্র ৪৮ সেকেন্ড সময় দেন চিকিৎসকরা। ৬৭টি দেশের ওপর পরিচালিত এক জরিপে দেখা যায়, রোগীপ্রতি সময় দিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকদের অবস্থান সবার নিচে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসেন বলেন, “চিকিৎসকদের দাবি আদায়ে এই ধর্মঘট অমানবিক এবং অন্যায়। ধর্মঘটের কারণে চিকিৎসা না পেয়ে কোনো রোগী যদি মারা যান তার দায় কে নেবে? তাদের বুঝতে হবে এটা ট্রাক চালক বা সাধারণ কোনো ব্যবসা নয়।”

তার কথা, “মানুষ যখন প্রতিকার পায় না, তখন ক্ষুব্ধ হয়ে বেআইনি কাজ করে। চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে মামলা করলে তারা রোগীদের জিম্মি করে, ধর্মঘট করে মামলা প্রত্যাহার করায়, কোনো চিকিৎসককে আটক করলে একইভাবে তাকে ছাড়িয়ে নেয়। তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিকার চাইতে মানুষ থানায়, আদালতে যেতে পারবেন না? আর বিএমডিসি একটা অকার্যকর প্রতিষ্ঠান। তারা কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাহলে মানুষ যাবে কোথায়?”

সরকারের নতুন আইনের উদ্যোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “রোগী ও চিকিৎসক উভয়ের সুরক্ষা প্রয়োজন। কিন্তু নতুন আইনটি চিকিৎসক সুরক্ষা আইন হচ্ছে। যদিও নাম দেওয়া হয়েছে রোগী ও চিকিৎসক সুরক্ষা আইন।”

সমাধান কোথায়?

চিকিৎসকদের এমন ধর্মঘটকে বেআইনি ঘোষণার জন্য হাইকোর্টে একটি রিট শুনানির অপেক্ষায় আছে। ২০১৬ সালে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশের পক্ষে রিটটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মনজিল মোরশেদ।

তিনি বলেন, “আদালত রুলও দিয়েছেন। কর্তব্য পালনকালে চিকিৎসক ও নার্সদের ধর্মঘট কেন বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হবে না-এই মর্মে রুল দেওয়া হয়।”

তিনি বলেন, “রোগী মারা গেলেই যেমন সেটা চিকিৎসকের অবহেলা নয়, আবার চিকিৎসকের অবহেলায়ও রোগী মারা যান। ফলে চিকিৎসায় অবহেলা আবার চিকিৎসকের ওপর হামলা দুইটিরই প্রতিকার প্রয়োজন। ফৌজদারি আইনে তো মামলা করা যায়। কিন্তু রোগীদের জিম্মি করে এর বিরুদ্ধে ধর্মঘট করলে তো আর সেটা এগোয় না। বিএমডিসি যদি দায়িত্ব পালন করতো, তাহলেও হতো। তারা যদি লাইসেন্স বাতিল করতো, তাহলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসতো।”

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) স্ট্যান্ডিং রিকগনিশন কমিটির চেয়ারম্যান ও স্বাচিপের সাবেক মহাসচিব অধ্যাপক ডা. এম এ আজিজ বলেন, “আমরা তো রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতেই চাই। তবে চিকিৎসার পরিবেশ ভালো করতে পারলে রোগীদের সঙ্গে দূরত্ব কমবে। কে কোথায় চিকিৎসা নেবেন তার ওপরও অনেক কিছু নির্ভর করে। এখন আউটডোরে একজন চিকিৎসককে ৫০ জন রোগী দেখতে হয়। তখন তিনি হয়তো রোগীদের প্রতি ঠিকমতো মনোযোগ দিতে পারেন না। আবার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে যদি পকেট থেকে টাকা দিতে হয়, তাহলে এটাও রোগীর মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসকরা একটা অংশ। পুরো ব্যবস্থাপনা তাদের হাতে নেই৷ কিন্তু দায় তাদের ওপরই পড়ে।”

তার কথা, “কোনো চিকিৎসক যদি ফৌজদারি অপরাধ করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে মামলা করায় তো কোনো বাধা নেই। প্রতিকার পেতে যে কেউ মামলা করতে পারেন। আবার বিএমডিসিতেও অভিযোগ করতে পারেন। অভিযোগ প্রমাণ হলে আমরা চিকিৎসকের লাইসেন্স বাতিলসহ আরও অনেক ব্যবস্থা নিই। আর সরকার নতুন একাটি আইন তৈরির শেষ পর্যায়ে আছে। সেটা হলে আমরা মনে হয় সেই আইনেও প্রতিকার পাওয়া যাবে।”

তিনি মনে করেন, “সবার উপরে চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা, হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা উন্নত করা অনেক জরুরি। সেটা হলে অনেক জটিলতা কমে যাবে। সরকার কিছু উদ্যোগ নিচ্ছে। যেমন: ফি বেঁধে দেওয়া, হাসপাতালগুলোর মান অনুযায়ী এ, বি, সি এরকম বিভিন্ন ক্যাটাগরি করে দেওয়ার কাজ চলছে। এগুলো হলে রোগীরা বুঝতে পারবেন যে তিনি কোথায় চিকিৎসা নেবেন।”

About

Popular Links