Sunday, May 26, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন: কম খরচে বিলাসবহুল ভ্রমণের প্রতিশ্রুতি

আংশিকভাবে চালু হচ্ছে সেপ্টেম্বরে। জনপ্রতি নন-এসি সিটের প্রস্তাবিত ভাড়া ৭০০ এবং এসি ১,৫০০ টাকা। ভবিষ্যতে এই রেললাইনকে বর্ধিত করা হবে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৩, ০৪:০৭ পিএম

চালুর অপেক্ষায় বহুল প্রত্যাশিত ঢাকা-কক্সবাজার রেললাইন। এই রুটে ট্রেনের নন-এসি কোচে জনপ্রতি ভাড়া ধরা হয়েছে ৭০০ টাকা এবং এসি কোচে ১,৫০০ টাকা। পাস হয়ে গেলে এটিই হতে যাচ্ছে রাজধানী থেকে দেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে ভ্রমণের সবচেয়ে সাশ্রয়ী মাধ্যম।

ঢাকা থেকে কক্সবাজারে যেতে বর্তমানে নন-এসি বাসে প্রতি সিটের খরচ ১,১০০ টাকা এবং এসি বাসে তা ২,০০০ টাকার আশেপাশে। আর বিমানে যেতে পাঁচ থেকে দশ হাজার টাকা গুনতে হয় যাত্রীদের।

ট্রেনের এসি কোচে বর্তমানে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যেতে লাগে ১,১৭৯ টাকা এবং নন-এসি কোচে ৩৪৫ টাকা।

আবার একজন যাত্রীকে চট্টগ্রাম থেকে এসি বাসে চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে যেতে খরচ হয় ৩৫০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত। নন-এসি বাসে এই খরচ ২৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে। তবে এই দূরত্বে ট্রেনের প্রস্তাবিত ভাড়া নন-এসি কোচে ১০০ টাকা এবং এসি কোচে ৪০০ টাকা।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে বহুল প্রত্যাশিত ট্রেন সার্ভিস আংশিক চালু হচ্ছে আগামী সেপ্টেম্বরে। আর এ বছরের শেষদিকে বাণিজ্যিক সেবা চালুর আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এই প্রকল্পের মাধ্যমে একই সঙ্গে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন পরিষেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্টদের আশা- সময় ও অর্থের সাশ্রয় এবং নিরাপদ যাত্রার নিশ্চয়তা থাকায় এই রুটে প্রচুর পরিমাণ যাত্রী পাবে রেল।


আরও পড়ুন- ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথের প্রধান প্রতিবন্ধকতাগুলো


সম্প্রতি প্রকল্প এলাকায় কথা হয় দোহাজারী-কক্সবাজার রেল লাইন প্রকল্পের অতিরিক্ত পরিচালক আবুল কালাম চৌধুরীর সঙ্গে। ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে আমরা একটি পরীক্ষামূলক সেবা চালু করতে পারব বলে আশা করি।”

ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রেলসেবা চালু থাকায় তাদের এখন মূল মনোযোগ দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে। এই প্রকল্প কর্মকর্তা জানান, এই রেললাইনটির গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। সে কারণে শতবর্ষী কালুরঘাট সেতু এবং দোহাজারী থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত ৫০ কিলোমিটার রেল লাইনের বেহাল দশা মেরামতে বিশেষ মনোযোগ দেওয়া হচ্ছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, কালুরঘাট রেল সেতুর মেরামতে লেগে যাবে কম-বেশি পাঁচ বছর। এই সময়ের মধ্যে রেল পার হবে ফেরিতে।

ট্যুরিস্ট ট্রেন আংশিক চালুর জন্য সেতু এবং জরাজীর্ণ সড়ক মেরামতে কর্তৃপক্ষ ৬০ কোটি টাকা খরচের কথা ভাবছে। এদিকে, শতবর্ষী ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে ধীরগতিতে ট্রেন চালানোর বিষয়টি বিশেষজ্ঞরা খুব একটা ইতিবাচকভাবে দেখছেন না।

ট্যুরিস্ট রেলওয়ের অগ্রগতি

২০১০ সালে ট্যুরিস্ট রেলওয়ে প্রকল্প অনুমোদন পায় আর কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালে। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬,০৩৪ কোটি টাকা। পরবর্তীতে সংশোধনী ব্যয় দাঁড়ায় ১৮,০৩৪ কোটি টাকায়।

২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে এই প্রকল্পে দেড় বিলিয়ন ডলার তহবিলের ঘোষণা দেয় এশিয়ান ডেভলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)।

প্রকল্প বিবরণী বলছে, এই রেলওয়ে ট্র্যাকের দৈর্ঘ্য ১০২ কিলোমিটার। ডুয়াল গেজ এই রেললাইনে থাকবে ৯টি স্টেশন। এসব স্টেশনে থাকবে রিলে ব্যাটারি, জেনারেটর রুম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সুবিধা এবং সৌর বিদ্যুতের মতো জ্বালানি সাশ্রয়ী সুবিধা।

স্টেশনগুলোতে থাকছে আধুনিক সুবিধা/ঢাকা ট্রিবিউন

এই রেলপথে নারী, শিশু, বৃদ্ধ এবং স্বাভাবিক চলাচলে অক্ষম ব্যক্তিদের জন্য থাকছে বিশেষ সুবিধা। এছাড়া, ঘুরতে যাওয়ার সময় পর্যটকরা তাদের মালামাল রাখতে পারবেন রেলওয়ে লকারে। প্রায় ৫০০ পর্যটককে একত্রে এই সুবিধা দিতে পারবে রেলওয়ে লকার।

এই প্রকল্পে ৩৯টি সেতু এবং ১৪৪টি কালভার্ট নির্মাণ করবে রেলওয়ে। এখন পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি ৮৭%। ৮৪ কিলোমিটার রেল লাইন দৃশ্যমান। কাজ শেষ হয়েছে দুটি স্টেশনের এবং সাতটির কাজ শেষের দিকে।

প্রথম পর্যায়ে এই রুটে চলবে ১০টি ট্রেন। ঢাকা থেকে কক্সবাজার যেতে সময় লাগবে সাড়ে সাত ঘণ্টা। প্রতিদিন ট্রেনগুলো এক লাখ যাত্রী পরিবহনে সক্ষম। পাশাপাশি এতে থাকবে মাছ, শুঁটকি, লবণ ইত্যাদি পরিবহনের ব্যবস্থা।

প্রকল্পের পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, “এটি পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার সূচনা করবে। পর্যটকরা কম খরচে বিলাসবহুল ট্রেনে করে পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য দেখতে যেতে পারবেন।”

প্রকল্প বিবরণী বলছে, এই রেল লাইন ট্রান্স-এশিয়ান রেলওয়ে নেটওয়ার্কের অন্তর্ভুক্ত যা একসময় মিয়ানমার হয়ে আরও দূরে বিস্তৃত হবে।

এই রেললাইনকে ক্রমান্বয়ে মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত বর্ধিত করা হবে। এছাড়া, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পর্যন্তও একে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

About

Popular Links