Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কালুরঘাট রেলসেতুর সংস্কারকাজে বন্ধ থাকবে যান চলাচল, প্রস্তুত ফেরি

সংস্কারকাজে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি টাকা। সংস্কারকাজ শুরু হতে আরও ৮-১০ দিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বুয়েটের পরামর্শক দলের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৩, ০৯:৪২ এএম

দোহাজারী-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল করতে ৯২ বছর বয়সী কালুরঘাট সেতু সংস্কার করা হচ্ছে। প্রায় তিন মাস ধরে হতে যাওয়া এই সংস্কারকাজের সময় সেতু দিয়ে ট্রেন ও যান চলাচল বন্ধ থাকবে। এ সময় দুই ফেরিতে করে কর্ণফুলী নদী পারাপার করা হবে যানবাহন।

রেলওয়ে সূত্রের বরাতে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন জানায়, সংস্কারকাজে ব্যয় হবে ৫৫ কোটি টাকা। সংস্কারকাজ শুরু হতে আরও ৮-১০ দিন সময় লাগতে পারে। ইতোমধ্যে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পরামর্শক দলের সুপারিশ অনুযায়ী সংস্কার করা হচ্ছে। 

বর্তমানে সেতু দিয়ে চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে ১০ টন ভারী ইঞ্জিন চলাচল করে। সেতু পার হওয়ার সময় গতি থাকে সর্বোচ্চ ১০ কিলোমিটার। তবে কক্সবাজারগামী ইঞ্জিনের ওজন হবে ১২-১৫ টন। ট্রেনের গতি হবে ৮০-১০০ কিলোমিটার। এ কারণে সংস্কার ছাড়া দোহাজারী-কক্সবাজার রেল যোগাযোগের সুফল মিলবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।   

এ বিষয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, “কালুরঘাট রেলসেতুর সংস্কারকাজ শিগগিরই শুরু হচ্ছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় মালামাল আনার কাজ শুরু করেছে। ৮-১০ দিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। কারণ সংস্কারকাজ শুরু হলে সেতু দিয়ে যানবাহন ও ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকবে। কাজ শেষ হতে তিন মাস লাগতে পারে। এই সময়ে ফেরি দিয়ে যানবাহন পারাপার করা হবে।”

সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী পিন্টু চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সংস্কারকাজ চলা অবস্থায় ফেরি সার্ভিস চালু থাকবে। ইতোমধ্যে দুটি ফেরি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ফেরিতে কোনো ধরনের যানবাহন থেকে কত টাকা ভাড়া রাখা হবে, তা এখনো ঠিক হয়নি। সেতু মন্ত্রণালয় থেকে টোলের হার নির্ধারণ করার পর ফেরি সার্ভিস চালু হবে।”

দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার রেললাইন প্রকল্পের পরিচালক মফিজুর রহমান বলেন, “সেপ্টেম্বরের মধ্যে দোহাজারী-কক্সবাজার রেললাইনের চলমান কাজ শেষ করে ট্রেন চলাচল শুরুর চিন্তা করছি। ১০০ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে ৮২ কিলোমিটার রেললাইন বসানোর কাজ শেষ। প্রকল্পের অগ্রগতি ৮৬%। রেললাইনের ওপর থাকা ছোট-বড় ব্রিজ-কালভার্টের কাজও শেষ হয়েছে। এখন মেকানিক্যালের কাজ চলমান আছে।”  

২০১১ সালের ৩ এপ্রিল দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার ও রামু-ঘুমধুম পর্যন্ত মিটারগেজ রেলপথ নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে চট্টগ্রামের দোহাজারী থেকে রামু পর্যন্ত ৮৮ কিলোমিটার এবং রামু থেকে কক্সবাজার ১২ কিলোমিটার। 

প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধনের প্রায় সাত বছর পর ২০১৮ সালে ডুয়েল গেজ এবং সিঙ্গেল ট্র্যাক রেললাইন প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়। দোহাজারী থেকে কক্সবাজার রামু পর্যন্ত ১০০ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে প্রথমে ব্যয় ধরা হয় এক হাজার ৮৫২ কোটি টাকা। ২০১৬ সালে প্রকল্প প্রস্তাব সংশোধন করে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এতে অর্থায়ন করেছে এশিয়ান উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও বাংলাদেশ সরকার।

১৯৩১ সালে কর্ণফুলী নদীর ওপর কালুরঘাট সেতু নির্মাণ করে ব্রুনিক অ্যান্ড কোম্পানি নামের সেতু নির্মাণকারী একটি প্রতিষ্ঠান। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর মিয়ানমারের সঙ্গে সরাসরি রেল যোগাযোগের জন্য এই সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল। এর আগে ২০০৪ সালের আগস্টে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুর সংস্কারকাজ করা হয়েছিল। এরপর ২০১২ সালে আরেক দফা সংস্কার করা হয়েছিল। 

৬৩৮ মিটার দীর্ঘ এই সেতুটি ২০০১ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছিল। ২০০৪ ও ২০১২ সালে দুই দফায় সেতুটি সংস্কার করেছিল রেলওয়ে। সেতুটির ওপর দিয়ে ট্রেনের পাশাপাশি দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ও পটিয়াগামী গাড়িও চলাচল করে।

About

Popular Links