Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে ১০ বছর ধরে পরিত্যক্ত ভবনে বেচাকেনা, ছাদ রক্ষায় বাঁশের খুঁটি

কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনীর চাউল ব্যবসায়ী মালেক মালিথা বলেন, প্রত্যেক দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হই ঠিকই। কিন্তু রাতে বাড়িতে ফিরতে পারবো কিনা কেউই জানি না। জীবনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৩, ১০:০২ পিএম

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের প্রধান হাট চাঁদনী। এই হাটটির ছাদের একটি অংশ ভেঙে ২০১০ সালে চাউল ব্যবসায়ী অজয় কুমারের মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পরপরই হাটটির পুনঃনির্মাণের দাবি তোলেন ব্যবসায়ীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৩ সালে হাটটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে প্রশাসন।

তবে, নিরাপত্তার প্রশ্নটি প্রশাসনের ঘোষণাতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। এখনো হাটে পুরোদমে চলে বেচাকেনা। প্রায় দুই শতাধিক দোকানের হাটটিতে প্রতিদিনই আনাগোণা হয় হাজার হাজার ক্রেতার। যেকোনো সময় ছাদ ভেঙে ঘটতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

ক্রেতা ও নিজেদের নিরাপত্তায় ছাদের ভাঙন ঠেকাতে দোকানদাররা ছাদের নিরাপত্তায় তৈরি করেছেন বাঁশের চাটাই। তবুও শঙ্কা রয়েছেই। জীবিকার তাগিদে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে চলা হাটটির বর্তমান পরিস্থিতি আরও নাজুক। এ অবস্থায় কঠোর পদক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকার সচেতন নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীরা।

হাট চাঁদনিটিতে ২০ বছর ধরে ব্যবসা করেন মিজানুর রহমান। তার সঙ্গে কথা হয় ঢাকা ট্রিবিউনের। তিনি বলেন, “বাঁশের চাটাই আর খুটি দিয়ে ছাদের ভাঙন ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। একসময় পরিত্যক্ত ভবন ঘোষণা করে সাইন বোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সাইনবোর্ডও জং ধরে ক্ষয়ে গেছে। তবে ব্যবসায়ীদের ভাগ্য পরিবর্তন হয়নি।”

হাটের প্রবীন চাউল ব্যবসায়ী মালেক মালিথা বলেন, “প্রত্যেক দিন সকালে বাড়ি থেকে বের হই ঠিকই। কিন্তু রাতে বাড়িতে ফিরতে পারবো কিনা কেউই জানি না। জীবনটা হাতের মুঠোয় নিয়ে ব্যবসা করছি। যেকোনো সময় ভবনটি ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৮ সালে প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে হাটের ভবন নির্মাণ করা হয়। এই ভবনে ১৫২টি দোকান রয়েছে। যার বেশির ভাগই কাঁচা সবজি, চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, গুড় ও মুদি দোকান। এর দুই পাশে রয়েছে আরও দুটি টিনশেড ভবন। ভবন দুটির একটিতে আটা-ময়দা, অপরটিতে মাছ-মাংস বিক্রি হয়। একসময় উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও ভবনটির দায়িত্ব এখন কালীগঞ্জ পৌরসভার।

ব্যবসায়ীরা জানান, বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকি নিয়ে তাদের ব্যবসা করতে হচ্ছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে। ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। ব্যবসায়ীরা নিজেদের বাঁচাতে ছাদের নিচে বাঁশ ও বাঁশের চাটাই দিয়ে রেখেছে। ভবনের ফাটল ধরা ছাদও বাঁশ দিয়ে প্যালা (খুঁটি) দিয়ে রাখা হয়েছে। অনেক সময় কেউ কেউ নিজ অর্থায়নে রাজমিস্ত্রি এনে বিভিন্ন ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করছেন। তবে সেসবও টেকসই কিছু না।

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ পৌরসভা মেয়র আশরাফুল আলম বলেন, “২০১৩ সালে তারা একটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন। ভবনটি ভেঙে পুনঃনির্মাণের জন্য মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে।”

About

Popular Links