Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

লেবুর চারা বিক্রি করে বছরে কোটি টাকা আয় সামাউলের

সামাউল জানান, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, মালয়েশিয়ায় তার বাগানের লেবুর চারা রপ্তানি করা হচ্ছে। এছাড়া তার বাগানের চারায় দেশে অন্তত ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক লেবুর বাগান গড়ে উঠেছে

আপডেট : ১৮ জুলাই ২০২৩, ১১:৪৪ এএম

১৬ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ ও চারা উৎপাদন করে বছরে কোটি টাকা আয় করছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার কদমপুর গ্রামের সামাউল ইসলাম (৫৫)। তার লেবু বাগানে ১২ হাজার লেবু গাছ রয়েছে। প্রতিটি গাছ থেকে গুটি কলমের মাধ্যমে বছরে ২৫ থেকে ৩০টি করে লেবুর চারা উৎপাদন করেন সামাউল। প্রতিটি চারা ৩০ থেকে ৩৫ টাকায় বিক্রি করেন। এতে বছরে প্রায় কোটি টাকা আয় হয় তার।

সামউলের বাগানে দেখা গেছে, বারোমাসি বারি লেবু-৪ জাতের প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় লেবু ধরেছে। এখান থেকে তিনি প্রতিদিন লেবু সংগ্রহ করেন। এছাড়া প্রতিটি গাছে গুটি কলম করেছেন। এই গুটি কলম থেকেই হচ্ছে চারা। এই চারা রোপনের ৩ মাসের মধ্যেই ফল পাওয়া যায়। তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে বাগান করে অনেকেই লাভবান হয়েছেন। 

জেলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের সহযোগিতায় জমি লিজ নিয়ে বাগান করেছেন সামাউল। তার লেবু বাগানের বয়স তিন বছর। প্রথম বছর থেকেই তিনি ফলন পাচ্ছেন। এখন সেই ব্যবসা কোটি টাকার ঘরে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

সামাউল ইসলামের সঙ্গে কথঅ হয় ঢাকা ট্রিবিউনের। তিনি জানান, তার বাগানে ১২ হাজার লেবু গাছ রয়েছে। সারা বছরই ফলন পাওয়া যায়। তবে ফাল্গুন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে লেবুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। আর চারাও সারা বছর বিক্রি করেন। তবে বর্ষায় চারার চাহিদা বেশি।

দেশের গণ্ডি পেরিয়ে দেশের বাইরেও সামাউলের লেবুর চারা রপ্তানি করা হচ্ছে। তিনি জানান, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার, মালয়েশিয়ায় তার বাগানের লেবুর চারা রপ্তানি করা হচ্ছে। এছাড়া তার বাগানের চারায় অন্তত ৩০টিরও বেশি বাণিজ্যিক লেবুর বাগান গড়ে উঠেছে।

১৫ বছর আগে যশোর থেকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এসে বসবাস শুরু করেন সামাউল। এর আগে কলা, পেয়ারা, মাল্টা, কুল চাষ করে সাফল্য পেয়েছিলেন তিনি। তিনি এখন পুরো উপজেলার অনেক কৃষকের অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছেন বলে জানালেন কদমপুর গ্রামের কৃষক ওবায়দুর রহমান (৫২)।

ওবায়দুর রহমান বলেন, “একই জমিতে বারবার এক জাতীয় ফসল চাষ করেন না সামাউল। তাকে আমাদের এলাকার অনেক কৃষক অনুকরণ করে লাভবান হচ্ছেন।” 

সামাউলকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছে জেলা কৃষি গবেষণা কেন্দ্র। চারা উৎপাদনে সহায়তা, সার প্রয়োগ, ছত্রাকনাশক প্রয়োগসহ তাকে নানা রকমের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়ার কথা জানান কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. এম এম কামরুজ্জামান।

কৃষি গবেষণা কেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এইচ এম খায়রুল বাশার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই জাতের একটি গাছ থেকে বছরে গড়ে ৫০০ থেকে ৬০০টি লেবু পাওয়া যায়। প্রতিটি গাছ থেকে দৈনিক ২টি লেবু সংগ্রহ করা যায়। এই হিসেবে সামাউল দিনে ২৪ হাজার লেবু সংগ্রহ করতে পারেন। সারাদেশে এই লেবুর চাহিদা বেশি থাকায় লাভবান হয়েছেন সামাউল।”

About

Popular Links