Friday, May 24, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দা

গত ২৯ জুলাই বিকেলে তেঁতুলতলা গ্রামে চার নারী ফুটবলারকে মারধর করেন স্থানীয় কয়েকজন

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০২৩, ০৬:২৭ পিএম

নারী ফুটবলারদের ওপর হামলার ঘটনায় ৪৫ বিশিষ্ট নাগরিকের নিন্দাখুলনার বটিয়াঘাটায় চার নারী ফুটবলারের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়েছেন দেশের ৪৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা, বিচার ও নারী ফুটবলারদের পূর্ণ নিরাপত্তার দাবি জানান তারা।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ দাবি জানানো হয়।

বিবৃতিতে তারা প্রশ্ন তুলে বলেন, নারী ফুটবলারদের ওপর হামলা ও অ্যাসিড নিক্ষেপ করার সাহস কেউ কীভাবে পেল? এ ব্যাপারে প্রশাসন ও পুলিশ কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।

বিশিষ্টজনরা হলেন, মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল, গণ স্বাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে. চৌধুরী, নিজেরা করি সমন্বয়কারী খুশী কবির, অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, মানবাধিকার কর্মী ড. হামিদা হোসেন, সেন্ট্রাল উইমেন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর ড. পারভীন হাসান, ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আলী ইমাম মজুমদার, অ্যাড. জেড আই খান পান্না, রাণা দাশগুপ্ত, শামসুল হুদা, অধ্যাপক আনু মোহাম্মদ, ড. ইফতেখারুজ্জামান, অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস, অধ্যাপক ড. সুমাইয়া খায়ের, ড. বীনা ডি. কস্তা, অধ্যাপক শাহনাজ হুদা, অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, কাজল দেবনাথ, তবারক হোসেইন, সাবেক অধ্যাপক ড. আজিজুর রহমান, অধ্যাপক ড. আবুল বারকাত, কবি রাহনুমা আহমেদ, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, আলোকচিত্রী ড. শহিদুল আলম, জাকির হোসেন, সংবাদকর্মী সাঈদা গুলরুখ কামাল, গবেষক রোজিনা বেগম, জাকির হোসেন, নুর খান, শিরীন হক, অধ্যাপক ড. নাঈমা হক, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিম উদ্দিন খান, ব্যারিস্টার আশরাফ আলী, এ্যাড. মিনহাজুল হক চৌধুরী, ব্যারিস্টার শাহাদাত আলম, ব্যারিস্টার শুভ্র চক্রবর্তী, এ্যাড. সাইদুর রহমান, রেজাউল করিম চৌধুরী, দীপায়ন খীসা, জোবাইদা নাসরীন কণা, মুক্তাশ্রী চাকমা, হানা শামস আহমেদ ও তাসনীম সিরাজ মাহবুব।

এদিকে এ ঘটনায় করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ফুটবল খেলার জন্য স্থানীয় কয়েকজন অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবলার সাদিয়া নাসরিনকে দীর্ঘদিন ধরে হয়রানি করে আসছে। ২৭ জুলাই নুপুর খাতুন ফুটবল খেলোয়াড় সাদিয়া নাসরিনের খেলার সময় তার ছবি ধারণ করে এবং অশ্লীল মন্তব্যসহ ছবিগুলো সাদিয়ার পরিবার ও আত্মীয়দের কাছে পাঠায়।

গত ২৯ জুলাই বিকেলে তেঁতুলতলা গ্রামে চার নারী ফুটবলারকে মারধর করেন স্থানীয় কয়েকজন। ফুটবলাররা তেঁতুলতলা সুপার কুইন ফুটবল একাডেমির খেলোয়াড়। একাডেমির এক সদস্যের ছবি তার পরিবারের সদস্যদের দেখানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের মারধর করা হয়। এতে আহত হয় চার নারী ফুটবলার মঙ্গলী বাগচী, সাদিয়া নাসরিন, হাজেরা খাতুন ও জুঁই মণ্ডল।

এ ঘটনার পরদিন নূপুর খাতুন, তার বাবা নুর আলম, ভাই সালাউদ্দিন ও মা রঞ্জি বেগমকে আসামি করে থানায় মামলা করে সাদিয়া। ওই মামলায় নুর আলমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। মামলার পরদিন সাদিয়াকে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন নূপুর, তার মা ও ভাই। একই সঙ্গে সাদিয়া ও তার একাডেমির খেলোয়াড়দের শরীরে অ্যাসিড নিক্ষেপের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সরকার বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনের মাধ্যমে কিশোরীদের ফুটবলে অংশগ্রহণে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগাচ্ছে। সে সময় এ ধরনের ঘটনা এবং পুলিশ প্রশাসনের আচরণ কেবল অনাকাঙ্ক্ষিই নয়, খেলাধুলায় অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারীর অগ্রযাত্রার ওপর একটি আঘাত বলে আমরা মনে করি।

বিবৃতিদাতারা আরও বলেন, ২০২২ সালে আমাদের নারী ফুটবলাররা সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবে দক্ষিণ এশিয়ার সেরা হয়ে জাতির জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন। তবে এখনো নারী ফুটবলারদের যেসব প্রতিবন্ধকতা মুখোমুখি হতে হয় সেগুলো দূর করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে নারী ফুটবলারদের ওপর হামলাকারীদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সেটি না হলে সারা দেশে নারীদের খেলাধুলায় অংশ নেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অংশগ্রহণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, তা আমরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারি না। আমরা হামলাকারীদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত আইনগত ব্যবস্থা, যথাযথ বিচার নিশ্চিত করা এবং অবিলম্বে আক্রান্ত নারী ফুটবলারদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধানের জোর দাবি জানাই।

About

Popular Links