Friday, June 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মামলা করার পর হিরো আলম: রিজভী বাপের বয়সী, তাকে মাফ করে দেওয়া হোক

অন্যদের সতর্ক করতেই মামলাটি করেছেন বলে জানান আলোচিত এই ইউটিউবার

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০২৩, ০২:০০ পিএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেছেন আলোচিত ইউটিউবার আশরাফুল আলম ওরফে হিরো আলম। 

সোমবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আসেন তিনি। এরপর তার আইনজীবী মুনসুর আলী রিপনের মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলামের আদালতে মামলার আবেদন করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন

তবে আদালত থেকে বের হয়ে হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, “রিজভী আমার বাপের বয়সী, তাকে মাফ করে দেওয়া হোক।” অন্যদের সতর্ক করতেই মামলাটি করেছেন বলে জানান তিনি।

হিরো আলম বলেন, “মানুষ মাত্রই ভুল হয়, এজন্য আমি মামলা করতে চাইনি। তবে ভবিষ্যতে যেন আওয়ামী লীগ-বিএনপির কোনো লোক আমাকে নিয়ে বকাবকি করে কথাবার্তা না বলে, তাই আমি আদালতে এসেছি। ভবিষ্যতে আমাকে গালিগালাজ করলে আমি কাউকেই ছাড় দিবো না।”

এর আগে হিরো আলমের আইনজীবী মুনসুর আলী রিপন আদালতে যুক্তি উপস্থাপন শুনানিতে বলেন, “একজন মৃত মানুষের বিপক্ষেও মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া উচিত না। আর হিরো আলম একজন পরিচিত মুখ। তিনি একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। তাকে মামলার আসামি (রিজভী) যেভাবে কটূক্তি করেছেন সেটা কোনোভাবেই উচিৎ হয়নি।”

এরপর আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্তের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন।

এর আগে, রবিবার দুপুর ১২টার দিকে রিজভীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাতে ডিবি কার্যালয়ে যান হিরো আলম। এ সময় হিরো আলম সাংবাদিকদের বলেন, “রিজভী আমাকে পাগল এবং অশিক্ষিত বলেছেন। তিনি আমাকে কেন পাগল ও অশিক্ষিত বলবেন? আমি কখনও বিএনপি কিংবা আওয়ামী লীগকে নিয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলিনি। তারা কেন আমাকে অবমাননা করে কথা বলবে? রিজভী আমাকে অবমাননা করে কথা বলেছেন। বিচার চাইতেই আমি ডিবি কার্যালয়ে এসেছি।”

দুপুর সোয়া ২টার দিকে ডিবি কার্যালয় থেকে বেরিয়ে ফের তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় রুহুল কবির রিজভীর বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ নিতে আদালতে যাবেন বলে জানান তিনি।

হিরো আলম বলেন, “বিএনপির সিনিয়র নেতা রুহুল কবির রিজভী আমাকে অশিক্ষিত বলে গালিগালাজ করেছিল। আমি ডিবিতে এ নিয়ে অভিযোগ করতে এসেছিলাম। কিন্তু তারা বলেছে এই বিষয়ে ডিবি সরাসরি কোনো মামলা নিতে পারে না। তাই এখন আমি কোর্টে মামলা করতে যাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “কোনো রাজনৈতিক দলের লোক কাউকে অর্ধ-পাগল কিংবা অশিক্ষিত বলতে পারে না। আমি তিনবার নির্বাচন করেছি। আমি যদি অর্ধ-পাগল হই তাহলে নির্বাচন কমিশন আমাকে যাচাই-বাছাই করে নির্বাচন করতে দিয়েছে, কোনো পাগলকে নির্বাচন করতে দেয়নি।”

ঘটনার সূত্রপাত সর্বশেষ ঢাকা-১৭ আসনের উপ-নির্বাচন নিয়ে। ওই নির্বাচনে স্বত্রন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোটযুদ্ধে নামেন হিরো আলম। তবে ভোটগ্রহণের দিন একটি কেন্দ্রে তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। যার ফলে পরাজিত হয়েও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে আসেন তিনি। তার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানান বিদেশি কূটনীনিকরা। সরকারের সমালোচনায় মেতে উঠে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো।

আর এই সমালোচনা করতে গিয়েই বেঁধেছে আরেক বিপত্তি। হামলার ঘটনায় সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে দেশের বিভিন্ন রাজনীতিবিদ তাকে হেয় করে মন্তব্য করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিরো আলম।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতাদের সমালোচনা করতে দেখা গেছে হিরো আলমকে।

সংবাদ সম্মেলনের আদলে করা ওই ভিডিওতে এক প্রশ্নের জবাবে হিরো আলম বলেন, “আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলতে চাই না। কিন্তু বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। গত কয়েকদিন ধরে দেখছি, বিএনপির বড় একজন নেতা রুহুল কবির রিজভী স্যার আমাকে পাগল বলেছেন। তিনি বলেছেন, হিরো আলাম অর্ধপাগল এবং অশিক্ষিত।”

রুহুল কবির রিজভীর এমন মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন হিরো আলম।

ভাইরাল ওই ভিডিও ক্লিপে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রসঙ্গ টেনে হিরো আলম বলেন, “মির্জা ফখরুল ইসলাস স্যার প্রায়ই বলেন, ‘হিরো আলমের মতো লোকও নির্বাচন করে, তাকেও আওয়ামী লীগ পিটাইছে।’ তার এই কথার মানে হলো হিরো চুনোপুঁটি, তাকে নিয়ে তুচ্ছ করে করে কথা বলা যায়।”

আরও পড়ুন:  হিরো আলম: আমি সেভেন পাশ, তাদের নেত্রীর চেয়ে এক ক্লাস কম

ক্ষোভের সুরে তিনি বলেন, “এমনকি অনেক আওয়ামী লীগ নেতা, জাতীয় পার্টির নেতা, রাজনীতিবিদ, বুদ্ধিজীবী হিরো আলমকে নিয়ে হেয় করে কথা বলে। নোংরামি করে, অপমান করে কথা বলছে।”

কেন আপনারা আমাকে অপমান করে কথা বলবেন, এই বলার অধিকার তো আপনাদের নেই। ভালো না লগলে আমার থেকে দশ হাত দূরে চলে যান বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিএনপি নেতারা মন্তব্য করেছেন, এমন প্রসঙ্গ টেনে হিরো আলম বলেন, “আমাকে বলা হয় অশিক্ষিত। সংবিধান স্বশিক্ষিত লেখার অধিকার দিয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখবেন নমিনেশন পেপারে স্বশিক্ষিত লেখার সুযোগ আছে।”

হিরো আলম বলেন, “আমাকে অশিক্ষিত বলে আপনার নিজেদেরও অশিক্ষিত বলে গালি দিচ্ছেন। কারণ, আপনার যে নেত্রীর দল করেন, আমাদের সাবেক মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদ জিয়া, তিনি কিন্তু এইট পাশ ছিলেন। এখন আপনারা লেখা পড়া শিখতে শিখতে পাশ হয়ে গেছেন, ঠিক না? তিনি এইট পাশ ছিলেন, আমি সেভেন পাশ। এক ক্লাশ নিচে।”

এ সময় নিজের টেবিলে রাখা বেশকিছু বই দেখিয়ে তিনি বলেন, “হিরো আলম এখন প্রচুর বই পড়ে, শিক্ষিত হওয়ার জন্য।”

তাকে নিয়ে হেয় করে কথা না বলার জন্য রাজনৈতিক নেতাদের প্রতি ভিডিওতে আহ্বান জানান হিরো আলম ।

অভিযোগের সুরে তিনি বলেন, “আপনার এখন লাশের খেলায় মেতে উঠেছেন। আওয়ামী লীগ চাইবে হিরো আলমকে মেরে ফেলে দাও, বিএনপি চাইবে হিরো আলমকে মেরে ফেলে দাও, তৃতীয় পক্ষ চাইবে হিরো আলমকে মেরে ফেলে দাও। কারণ, হিরো আলমকে মেরে ফেলে দিলে আপনারা আবার আরেকটা গেম খেলতে পারবেন। নাহলে আমাকে মাদক কিংবা নারী কেলেংকারীতে ফাঁসিয়ে দেবেন।”

সবার কাছে অনুরোধ আমাকে নিয়ে কোনো রাজনৈতিক খেলা খেলবেন না। কারণ হিরো আলম কোনো রাজনৈতিব দলের সঙ্গে জড়িত না। হিরো আলম নিজেই রাজনীতিবিদ। হিরো আলম নিজেই একটা দল। আমি জনগণের কথা বলতে চাই।”

About

Popular Links