Friday, May 31, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

চট্টগ্রামে বন্যায় ১৬ জনের মৃত্যু, ১৩৫ কোটি টাকার ক্ষতি

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় জেলায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয় ৬,৭৫৩ জনকে

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ১২:২১ পিএম

প্রায় এক সপ্তাহ ধরে টানা ভারি বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয় চট্টগ্রামে। এই বন্যার পানিতে ডুবে চট্টগ্রামে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার বেশি।

বৃহস্পতিবার (১০ আগস্ট) জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগ জানিয়েছে, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়ার। গত সোমবার রাত থেকে তিন দিন কার্যত পানির নিচে ছিল এসব এলাকা। জেলায় বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে ১৩৫ কোটি ১৫ লাখ টাকার।

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, বন্যায় জেলায় ৬ লাখ ৩৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েন। আশ্রয়কেন্দ্রে নেওয়া হয় ৬ হাজার ৭৫৩ জনকে।

গত সোমবার থেকে জেলার অনেক এলাকায় টানা ৩ দিন বিদ্যুত সংযোগ ছিন্ন ছিল। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেও বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মহাসড়কটিতে যান চলাচল শুরু হয়। তবে এখনো অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি বলে জানিয়েছেন জনপ্রতিনিধিরা।

বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত বন্যায় জেলার পাঁচ উপজেলা ও মহানগরীতে মোট ১৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন তিনজন।

মৃত্যুর সংখ্যা নিশ্চিত করে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সাফুল্লাহ মজুমদার জানান, নিহতদের মধ্যে সাতকানিয়ায় সাতজন, লোহাগাড়ায় চারজন, চন্দনাইশে দুইজন, বাঁশখালীতে একজন, রাউজানে একজন এবং চট্টগ্রাম মহানগরীতে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে লোহাগাড়ার আমিরাবাদ ও পদুয়া এলাকা থেকে দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তারা হলেন- কলেজছাত্র সাকিব ও অটোরিকশা চালক আব্দুল মাবুদ। এদিন সাতকানিয়ায় পাওয়া যায় আরও চারজনের মরদেহ। তারা হলেন- সাতকানিয়া পৌরসভার সাকিব, ইদ্রীস, বদিউল আলম ও আব্দুর রহিম।

এর আগে সোমবার চট্টগ্রাম সিটির ইসলামিয়াহাট বাদামতল এলাকায় জলাবদ্ধ সড়কে ডুবে মারা যান কলেজছাত্রী নিপা পালিত। পরদিন মঙ্গলবার লোহাগাড়ায় আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পথে পানিতে তালিয়ে জুনায়েদ ইসলাম জারিফ (২২) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রের মৃত্যু হয়।

বুধবার লোহাগাড়ায় ভেসে ওঠে কৃষক আসহাবের মরদেহ। একই দিন সাতকানিয়ায় শিশু জান্নাতুল ফেরদৌস, হেলাল, সোভা কারণ এবং চন্দনাইশে আবু সৈয়দ ও আনাস নামে দাদা-নাতির মরদেহ ভেসে ওঠে। রাউজানর হালদা নদী থেকে শাহেদ হোসেন বাবু নামের এক তরুণ উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

বন্যাকবলিত এলাকাগুলোর মধ্যে তিন দিন ধরে বিদ্যুৎহীন পুরো সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশের বিভিন্ন এলাকা। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকটসহ নানামুখী সমস্যায় পড়েন সেখানকার বাসিন্দারা। তবে বুধবার রাত থেকে এসব এলাকার পানি নেমে যাওয়া সাপেক্ষে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ ফিরতে শুরু করেছে।

চট্টগ্রাম পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক দীলিপ চন্দ্র চৌধুরী বলেন, “এখন পর্যন্ত সাতকানিয়া ছাড়া দক্ষিণের সব উপজেলায় বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। সাতকানিয়ায়ও কাজ চলছে, দ্রুতই সংযোগ দেওয়ার আশা করছি।”

পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের তথ্যানুযায়ী, চট্টগ্রামে আগস্ট মাসের প্রথম সপ্তাহে ৬৬৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ আগস্ট ৪২.৮ মিলিমিটার, ৫ আগস্ট ৬৪.২ মিলিমিটার, ৬ আগস্ট ২৩১.৫ মিলিমিটার এবং ৭ আগস্ট ২১৬.৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

About

Popular Links