Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

অফিসে বাঘের আনাগোনা, ভয়ে কাঠ বনরক্ষী

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের সুপতি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তিনটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে ঘোরাঘুরি করছিল

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৩, ০১:২০ পিএম

সুন্দরবনে বন বিভাগের অফিসের বাইরে বাঘের আনাগোনা দেখা গেছে। এ ঘটনার ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বনরক্ষী মোস্তাক আহমেদ।

বুধবার (১০ আগস্ট) বাগেরহাটের কচিখালী বন অফিসের বাইরে বাঘটি দেখা যায়। 

১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, বাঘটি ব্যারাকের সামনে ঘোরাফেরা করছে। কিছুক্ষণ পর মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে প্রাণীটি গহীন বনের দিকে চলে যায়।

কচিখালী অভয়ারণ্য অফিসের বনরক্ষী মোস্তাক আহমেদ বলেন, ‘‘প্রতিদিনের মতো ডিউটি শেষে ৯ আগস্ট রাতে ঘুমিয়ে পড়ি। ১০ আগস্ট সকালে উঠে দেখি, কেন্দ্রের বাইরে একটি বাঘ দাঁড়িয়ে রয়েছে। হঠাৎ করে এ ঘটনা দেখে হতভম্ব হয়ে যাই। ভয়ে ভয়ে মোবাইল ফোন দিয়ে ভিডিও করতে শুরু করি। একটু পরে বাঘটি বনের দিকে চলে যায়।’’

এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি সুন্দরবনের সুপতি স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় তিনটি রয়েল বেঙ্গল টাইগার প্রায় ২৪ ঘণ্টা ধরে ঘোরাঘুরি করছিল। এ কারণে বন অফিসের পাঁচ কর্মী ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন। 

৩ ফেব্রুয়ারি দুপুর থেকে ৪ ফেব্রুয়ারি সকাল পর্যন্ত বাঘগুলো সুপতি অফিসের বাঘগুলো ওই এলাকায় ছিল। ৪ ফেব্রুয়ারি সকালের পর তারা একটু দূরে সরে যায়। সেবার প্রথমে দুটি বাঘ একত্রে আসে। তারা পুকুরপাড়ে ঘোরাঘুরি করছিল। একপর্যায়ে আরও একটি বাঘ চলে আসে। বাঘ দেখে বনরক্ষীরা টিন পিটিয়ে বাঘগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু বাঘগুলো তা আমলে না নিয়ে নিজেদের মতো ঘোরাঘুরি করতে থাকে। 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মাহাবুব হোসেন বলেন, ‘‘এর আগেও এলাকায় তিনটি বাঘের আনাগোনা দেখা গেছে। এর মধ্যে একটি বাচ্চা, দুটি পরিণত। অভয়ারণ্য এলাকায় সব ধরনের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাঘগুলো অবাধে বিচরণ করতে পারছে। এ কারণেই সেখানে বাঘ দেখা যাচ্ছে। আমরা তাদের সতর্ক থাকতে বলেছি।’’

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “বাঘ সংরক্ষণে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে বিশেষ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রকল্পের আওতায় সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগে বাঘ গণনার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে, পূর্ব বন বিভাগে অবশিষ্ট কার্যক্রম যথাসময়ে শুরু হবে।”

তিনি আরও বলেন, “বাঘের নিরাপত্তা, বিশ্রাম ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের সুযোগ করে দিতে সুন্দরবনে পর্যটক প্রবেশ সীমিত করতে হবে। বাঘ সংরক্ষণে বন বিভাগ যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছে, স্মার্ট পেট্রোলিং করছে। সবাই মিলে বন অধিদপ্তরের পাশে দাঁড়াতে হবে। গননা শেষে বাঘের প্রকৃত চিত্র জানা যাবে। প্রায়ই সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাঘ দেখার খবর জানা যাচ্ছে।”

About

Popular Links