Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দেড় বছরে সরকারি দপ্তরে হাজার চিঠি দুদকের, ‘ব্যবস্থা নেন না’ সংশ্লিষ্টরা

দুদক সচিব বলেন, দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম তাদের পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ চূড়ান্ত করলে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে সেটি জানানো হয়। তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের

আপডেট : ১২ আগস্ট ২০২৩, ০৫:১৮ পিএম

দেশের ৫০ বছরের ইতিহাসে অন্যতম প্রধান সমস্যা দুর্নীতি। দেশের প্রায় প্রতিটি সেক্টরেই এই রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে। এর চিকিৎসা হিসেবে বা প্রতিরোধক হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

তবে প্রতিদিন দুদক হটলাইন নম্বর ১০৬-এ অসংখ্য অভিযোগ পেলেও সব অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে পারে না সংস্থাটি। মোট অভিযোগের প্রায় ১০ ভাগ আমলে নেয় তারা। বাকি ৯০ ভাগ থেকে যায় আড়ালে।

কিছু কিছু অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ পাঠায় তারা। তবে সেই দপ্ত এ বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে তার কোনো খোজ নেয় না সংস্থাটি।

দুদক কর্মকর্তারা জানান, প্রাপ্ত অভিযোগের দশ ভাগও দুদকের অনুসন্ধানে আসে না। বাকি ৯০ ভাগ অভিযোগই আমলে নেওয়া হয় না। এতে বেশিরভাগ দুর্নীতিবাজই ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যান। জনবল সংকটও এর অন্যতম কারণ। এছাড়া অভিযোগকারী সঠিকভাবে অভিযোগ দিতে পারেন না। ফলে দুদক এসব অভিযোগ আমলে নিতে পারে না।

অভিযোগ সেল

অভিযোগ সেলটি দুদকের এনফোর্সমেন্ট শাখার অংশ। এ শাখা থেকেই সাধারণত অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে চিঠি পাঠানো হয় সরকারি দপ্তরগুলোতে। দু-একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান দুদকের চিঠির গুরুত্ব দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই গুরুত্ব দিতে চায় না বলে অভিযোগ দুদক কর্মকর্তাদের। তবে এ ক্ষেত্রে প্রায়ই সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন দুদক কর্মকর্তারা।

তবে সংস্থাটির পক্ষ থেকে প্রায়ই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে তাগাদা দেওয়া হয় দ্রুত তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দিতে। প্রতিবেদন পাওয়ার পর দুদক থেকে পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়।  

দেড় বছরে হাজারের বেশি চিঠি

২০২২ সালে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ৯১৩টি চিঠি পাঠিয়েছে দুদক। এ বছরের প্রথম ছয় মাসে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে পাঠানো হয় ১৮৫টি চিঠি। তবে এসব চিঠির হালনাগাদ (আপডেট) কোনো তথ্য নেই দুদকের কাছে।

দুদক সূত্র বলছে, এ বছরের জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত প্রথম তিন মাসে দুদক অভিযোগ কেন্দ্র ১০৬ ও অন্যান্য উৎস থেকে ৫০৪টি অভিযোগ বাছাই করে। এর মধ্যে অভিযোগের বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে ১৪৪টি চিঠি পাঠানো হয়। দুদক আইনের তফসিল বহির্ভূত হওয়ায় পরিসমাপ্ত বা সংযুক্তকৃত অভিযোগের সংখ্যা ৩৮টি। আর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯৯টি অভিযান পরিচালনা করে সংস্থাটি। অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করে মাত্র ১৩টি।

পরবর্তী তিন মাসে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ২২৫টি অভিযোগের বিষয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করে দুদক। এরমধ্যে বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয় ৪১টি। পরিসমাপ্ত বা সংযুক্তকৃত অভিযোগের সংখ্যা ৭৪টি। অভিযান চালানো হয় ৮৭টি। অনুসন্ধানের জন্য গ্রহণ করা হয় মাত্র ১৫টি।

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম

দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম আছে ২৫টি। সরকারের মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর ও অধিদপ্তরগুলোতে দুর্নীতি দূর করতে দুদকের এসব প্রাতিষ্ঠানিক টিম কাজ করে। এসব টিমের সুপারিশ বাস্তবায়নে দিক নির্দেশনা চেয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগেও অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে নিজেদের অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধ ও স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কাজের গতিশীলতা আনতেও একটি কমিটি রয়েছে দুদকের।

কমিটিগুলোর কর্মপরিধির মধ্যে রয়েছে- অনুসন্ধান ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কাজে দীর্ঘসূত্রতার কারণ চিহ্নিতকরণ ও সমাধানের সুপারিশ; অনুসন্ধান ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দক্ষতা, যোগ্যতা, ভাবমূর্তি ও জবাবদিহিতার ক্ষেত্র পর্যালোচনা করে সুপারিশ বা মতামত দেওয়া।

এ বিষয়ে দুদক সচিব মো. মাহবুব হোসেন এই প্রতিবেদককে বলেন, “দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম আছে ২৫টি। যেসব দপ্তরের সেবা বেশি গুরুত্বপূর্ণ যেমন- পাসপোর্ট অফিস, গ্যাস, বিদ্যুৎ, রাজউক- এসব বিষয়ে দুদকের প্রাতিষ্ঠানিক টিম কাজ করে। তাদের পর্যবেক্ষণ বা সুপারিশ চূড়ান্ত হলে দুদকের কমিশনার পর্যায়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগকে জানানো হয়। সেটা বাস্তবায়নের দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওপর বর্তায়। এসব সুপারিশ বাস্তবায়ন করছে কিনা সেজন্য মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। বৈঠক করার পর সেটা যাতে বাস্তবায়ন হয় সে লক্ষ্যে আমরা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাই।”

 

About

Popular Links