Saturday, May 25, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

হিসনা নদীর প্রাণ কেড়ে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে দখলদাররা

কুষ্টিয়া পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, হিসনা নদীটি দখল করে চাষাবাদসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। দখলদারের প্রকৃত সংখ্যা কত তা বলা মুশকিল। দখলদারের তালিকা প্রস্তুতের কাজে হাত দিয়েছি

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০২৩, ০৩:৫২ পিএম

সভ্যতার ক্রমবিকাশে নদীর কাছে চিরকালই ঋণী মানুষ। বাংলাদেশকে একসময় নদীমাতৃক দেশ বলা হলেও দখল, দূষণ আর শোষণে নদীর অবস্থা বর্তমানে বেশ নাজুক। অনেক নদী মরে গেছে, অনেক নদী খাল বা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। তেমনি একটি নদী কুষ্টিয়ার হিসনা নদী। জেলার ভেড়ামারা ও দৌলতপুরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা হিসনা নদীটি আজ অস্বিত্ব সংকটে। পদ্মা নদী থেকে উৎসারিত নদীটি মিশেছে মাথাভাঙ্গা নদীতে। এরমাঝে ৫৫ কিলোমিটার বয়ে চলেছে নদীটি।

নদীর জায়গা দখল করে গড়ে তোলা হয়েছে দোকানপাটসহ বহুতল ভবন। কোথাও কোথাও বাঁধ দিয়ে নদীতে মাছ চাষও করা হচ্ছে। আবার কেউ কেউ নদীর বুকে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের চাষাবাদ করছেন। দফায় দফায় পাল্টে দেওয়া হয়েছে নদীর গতিপথ। একসময়ের খরস্রোতা হিসনা এখন পরিণত হয়েছে মরা খালে। এতে পরিবেশসহ জীববৈচিত্র্য পড়েছে হুমকির মুখে।

ভেড়ামারা অংশে সরেজমিনে দেখা যায়, হিসনা ব্রিজ থেকে কাঠেরপুল পর্যন্ত নদীর দুই পাড় মাটি-বালুতে ভরাট করে গড়ে তোলা হচ্ছে বিভিন্ন স্থাপনা।

কাঠেরপুলের জামাল হোসেন নামে একজন বাসিন্দা বলেন, “আমি নিজে এই নদীতে পাল তোলা বড় বড় পণ্যবাহী নৌকা চলতে দেখেছি। সে সময় স্রোতের কারণে উজানে নৌকা চালানো কঠিন ছিল। বড় বড় পাট বোঝাই নৌকা এই নদী দিয়ে পদ্মা নদী হয়ে কলকাতাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় যেত। চলাচল ও পণ্য পরিবহনের অন্যতম মাধ্যম ছিল এই নদীটি।”

নদী দখল হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে ভেড়ামারা পৌরসভার মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুল ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “হিসনা নদীর পৌর এলাকার অংশ দখলমুক্ত করতে নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তাদের চাহিদা মতো নথিপত্র পাঠানো হয়েছে। শিগগিরই নদীটিকে দখলদার মুক্ত করা হবে।”

স্থানীয় দৌলতপুর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজ মন্ডল জানান, মাছ চাষের নামে লিজ দিয়ে হিসনা নদী দখল করা হয়েছে। দখলদাররা জায়গায় জায়গায় বাঁধ দিয়ে নদীতে মাছ চাষ করছে।

স্থানীয় পরিবেশকর্মী খলিলুর রহমান বলেন, “এভাবে দিনের পর দিন প্রভাবশালীরা নদীটিকে গিলে খাবে এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, নদীটিকে অবিলম্বে দখলমুক্ত করে খননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হোক।”

কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী রাশিদুর রহমান জানান, “হিসনা নদীটি দখল করে চাষাবাদসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। দখলদারের প্রকৃত সংখ্যা কত তা বলা মুশকিল। দখলদারের তালিকা প্রস্তুতের কাজে হাত দিয়েছি। তালিকা প্রস্তুত হওয়ার পর দখলদারদের উচ্ছেদ করতে অভিযান শুরু হবে।”

প্রসঙ্গত, দেশে দিনদিন কমে যাচ্ছে নদীর সংখ্যা। ১৯৬৩ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত দেশে নদ-নদীর সংখ্যা কত কমলো, সেই সংক্রান্ত একটি সমীক্ষা ২০১০ সালে প্রকাশ করে বাংলাদেশ দুর্যোগ ফোরাম। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল বিভাগের একদল গবেষক তালিকা তৈরির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সেখানে বলা হয়, দেশের ১১৫টি নদ-নদী শুকিয়ে মৃতপ্রায়।

অন্যদিকে নদী, পানি-প্রকৃতি নিয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করা বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন উত্তরণের সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০০০ থেকে ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত দেশে ৪৩টি নদী শুকিয়ে গেছে। 

দেশে ঠিক এই সময়ে কতটি নদী রয়েছে তার সঠিক সমীক্ষা নেই। একেটি সংগঠন ও সংস্থা একেক রকম তথ্য দিয়ে থাকে। এ বছরের ২৩ জানুয়ারি সিলেটে নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধৈুরী জানান, দেশে বর্তমানে নদীর সংখ্যা ৮৫৭টি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ২০১১ সালে বাংলাদেশের নদ-নদী শীর্ষক ছয় খণ্ডের একটি সমীক্ষা প্রকাশ করেছিল। তাতে বলা হয়, নদ-নদীর মোট সংখ্যা ৪০৫টি।

দেশে বেড়েছে নদী দখলদারের সংখ্যাও। নদী রক্ষা কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী দেশে নদী দখলদারের সংখ্যা ৬৮ হাজার। সংস্থাটির ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে দখলদারের সংখ্যা ৬৩,২৪৯ জন বলে জানানো হয়েছিল।

 

About

Popular Links