Monday, May 27, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সিরিজ বোমা হামলার দেড় যুগ, এখনো শেষ হয়নি ৪১ মামলার বিচার

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের উপ-কমিশনার বলেন, পুরোনো জেএমবি কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক তাদের কিছু তৎপরতা রয়েছে। আমরা তাদের নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রেখেছি

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০২৩, ০৯:৫৭ এএম

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ (জেএমবি)। সেই ঘটনার দেড় যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো সেই ঘটনায় হওয়া মামলার বিচার শেষ হয়নি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জেএমবির সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় দুই জন নিহতসহ আহত হয়েছিলেন ১০৪ জন। একযোগে হামলার মাধ্যমে দেশে নিজেদের সংঘবদ্ধ উপস্থিতির ঘোষণা করেছিল জঙ্গিরা। হামলার সময় জেএমবির পক্ষ থেকে একটি লিফলেটও ছড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ১৯৯৮ সালে কার্যক্রম শুরু করে জেএমবি।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ওই ঘটনায় সারাদেশে ১৫৯টি মামলা হয়েছিল। এরমধ্যে ১৪২টি মামলায় অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ ও ১৭টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তদন্ত শেষে এসব মামলায় ১,১৩১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়। বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হয় ১,০২৩ জনকে। গত ১৮ বছরে ১১৮টি মামলার রায় হয়েছে। এসব রায়ে বিভিন্ন মেয়াদে ৩২২ জনকে সাজা দেন আদালত। খালাস পেয়েছেন ৩৫৮ জন। জেএমবির আমির শায়খ আবদুর রহমান, শীর্ষ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম ওরফে বাংলা ভাই ও আতাউর রহমান সানিসহ ১৫ শীর্ষ জঙ্গির ফাঁসি কার্যকর করা হয়। এখনো ৪১ মামলার বিচার শেষ হয়নি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলছেন, সাক্ষী না পেয়ে গত কয়েক বছর ধরে বেশ কিছু মামলার কার্যক্রম থমকে আছে। আবার বিভিন্ন বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে শতাধিক আপিল শুনানি চলছে।

ঢাকা মহানগর আদালত সূত্র জানায়, ঢাকা মহানগর এলাকায় ওই বোমা হামলার ঘটনায় ১৮টি মামলা হয়। এই ১৮টি মামলায় পুলিশ ও র‌্যাব ৯১ জনকে গ্রেপ্তার করে। ৫৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশ চার্জশিট দেয়। ১৪টি মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হলেও বর্তমানে ৪টি মামলা বিচারাধীন। এগুলো সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিচারাধীন মামলাগুলোতে যারা সাক্ষী ছিলেন তাদের অনেককে আগের সেই ঠিকানায় খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেকে মারা গেছেন, কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এ জন্য পুরোনো এসব মামলার সাক্ষীদের আদালতে হাজির করাটা চ্যালেঞ্জিং।

এখনো তৎপর জেএমবি

শায়খ আব্দুর রহমানের হাত ধরে ১৯৯৮ সালে গঠিত হওয়া জেএমবি এখনো তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। শুরুর দিকে নিষিদ্ধ এই সংগঠনটি বাংলাদেশের ছয়টি অঞ্চলকে ভাগ করে তাদের কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর প্রথম দুই বছর দাওয়াতি কার্যক্রম চালিয়ে কর্মী সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

২০০০ সাল থেকে বিভিন্ন এনজিওতে ডাকাতি করে অর্থ সংগ্রহ শুরু করে। ২০০১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর তারা সাতক্ষীরার একটি সিনেমা হলে বোমা হামলা চালায়। পরের বছর ২০০২ সালের পয়লা মে নাটোরের আরেকটি সিনেমা হলে এবং ৭ ডিসেম্বর ময়মনসিংহের চারটি সিনেমা হলে একযোগে বোমা হামলা করে।

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানান, ২০০৫ সালের সিরিজ বোমা হামলার পর নড়েচড়ে বসে তৎকালীন সরকার। সে সময় অভিযান চালিয়ে জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমানসহ শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তারপরও গোপনে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছিলো সংগঠনটি। মাওলানা সাইদুর রহমানকে ঘোষণা করা হয় নতুন আমির। ২০১০ সালে মাওলানা সাইদুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পর জেএমবির নেতৃত্ব নিয়ে অন্তর্দ্বন্দ্ব শুরু হয়।

২০১৪ সালে জেএমবির একটি পক্ষ আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের অনুসারী হয়ে “নিও জেএমবি” গঠন করে। ওই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি ময়মনসিংহের ত্রিশালে প্রিজন ভ্যানে হামলা চালিয়ে জেএমবির শীর্ষ তিন নেতা সালাউদ্দিন সালেহীন, মিজানুর রহমান ওরফে বোমা মিজান ও হাফেজ মাহমুদকে ছিনিয়ে নেয় তারা। এ ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ওই দিন রাতেই টাঙ্গাইলে হাফেজ মাহমুদ পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হন। সালেহীন ও বোমা মিজান পালিয়ে চলে যান ভারতে। ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে ভারতে গ্রেপ্তার হন বোমা মিজান। তবে এখনো আত্মগোপনে রয়েছেন সালাউদ্দিন সালেহীন।

ঢাকার কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানান, আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সালেহীন পুরোনো সঙ্গীদের নিয়ে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছিলেন। রেজাউল হক নামে একজনকে দেশে কার্যক্রম চালানোর জন্য দায়িত্ব দিয়েছিলেন। ২০২১ সালে সেই রেজাউল হককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এখনো বিচ্ছিন্নভাবে তারা তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের উপ-কমিশনার এস এম নাজমুল হক বলেন, “আমাদের অভিযানের কারণে পুরোনো জেএমবি কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। আত্মগোপনে থেকে সালেহীন সংগঠনকে পুনর্গঠিত করার চেষ্টা করছে। উত্তরবঙ্গকেন্দ্রিক তাদের কিছু তৎপরতা রয়েছে। আমরা তাদের নিয়মিত নজরদারির মধ্যে রেখেছি।”

 

About

Popular Links