Saturday, May 18, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কুষ্টিয়ার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই সাপে কাটার প্রতিষেধক

চলতি মাসে জেলায় সাপের কামড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৫:১৫ পিএম

কুষ্টিয়া জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে নেই সাপে কামড়ানো রোগীর চিকিৎসার ওষুধ অ্যান্টিভেনম। চলতি মাসে জেলায় সাপের কামড়ে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন হাসপাতালে এসেও প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম টিকা পাননি।

জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের ইব্রাহিম ফারাজির স্ত্রী আয়েশা খাতুন (২৫) ও তার সাত মাসের শিশুসন্তান নুসরাত জাহানকে বিষাক্ত সাপে কামড় দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই শিশুটির মৃত্যু হয়, আয়েশাকে ভর্তি করা হয় কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে। কিন্তু হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম টিকা না থাকায় আয়েশার মৃত্যু হয়। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কিত স্থানীয়রা।

এছাড়াও চলতি মাসে সাপের কামড়ে মারা যান কুমারখালি শিলাইদহের মাঝগ্রামের নববধূ মিতু আক্তার ও দৌলতপুর রামকৃষ্ণপুরের মোহাম্মদপুরের বুলবুল বিশ্বাস। গত ১৮ আগস্ট খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঁচ নারী-পুরুষ সাপের কামড়ে অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

গত ২১ আগস্ট সদর উপজেলার জগতি বিআইডিসি বাজার এলাকায় মুকুল হোসেন নামে এক চায়ের দোকানিকে বিষধর গোখরা সাপে কামড় দেয়। সকালে নিজ দোকানের চায়ের চুলায় বস্তা থেকে গোবরের জ্বালানি বের করতে গেলে হঠাৎ ডান হাতে আঘাত হানে। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক গোখরা সাপটিকে মেরে আহত মুকুল হোসেনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করলেও ওষুধ পাননি।

এর আগে গত ১২ আগস্ট কুমারখালির গড়াই নদীতে জেলের জালে ধরা পড়ে বিষধর রাসেল ভাইপার। উপজেলার কয়া ইউনিয়নের বানিয়াপাড়া এলাকার আতিয়ার মোড়-সংলগ্ন গড়াই নদীতে এক জেলে মাছ ধরার সময় জালে বিষধর সাপটি ধরা পড়ে। এলাকাবাসী বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের কুষ্টিয়া টিম ও বন বিভাগকে খবর দেয়। তারা সাপটিকে উদ্ধার করে নিয়ে যায়। এছাড়া চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে গড়াই নদী থেকে কয়েক দফায় সাতটি রাসেল ভাইপার সাপ উদ্ধার করা হয়।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্র জানায়, চলতি মাসে অন্তত ১০ জন সাপে কাটা রোগী চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছেন। এর আগের মাসেও এসেছেন কয়েকজন। জেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীদের কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু এখানেও অ্যান্টিভেনম টিকা না থাকায় রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া যাচ্ছে না। গত জুন মাস থেকে হাসপাতালে অ্যান্টিভেনম নেই। বিষাক্ত রাসেল ভাইপারসহ গোখরা সাপের কামড়ে আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে বেশি আসছেন।

মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পীযূষ কুমার সাহা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কয়েকটি অ্যান্টিভেনম ছিল। কিন্তু গত জুন মাসে এগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। এরপর আর আমাদের অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি। এখন রোগী এলে আমরা কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেই।”

সাপে কাটা রোগীর সংখ্যা বেড়েছে উল্লেখ করে এই চিকিৎসক বলেন, “রোগীদের চিকিৎসায় অ্যান্টিভেনম টিকার বিকল্প ওষুধ নেই। কিন্তু দেশে একটি মাত্র ওষুধ কোম্পানি এটি উৎপাদন করে। সেটিও এখন জেলার ফার্মেসিগুলোতে পাওয়া যাচ্ছে না। বলা চলে অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নেই।”

কুষ্টিয়ার ওষুধ বিক্রেতা নাহিদ হাসান পিয়াস বলেন, “সাপে কাটা রোগীদের প্রতিষেধক অ্যান্টিভেনম শুধুমাত্র ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালস তৈরি করে থাকে। তবে এটিও সব ওষুধের দোকানে পাওয়া যায় না। গত কয়েক মাস ধরে জেলায় অ্যান্টিভেনমের সরবরাহ নেই। চাহিদা দিয়েও পাচ্ছি না।” 

বাংলাদেশ জীব বৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এসআই সোহেল বলেন, “এই অঞ্চলে চার ধরনের বিষধর সাপের বিস্তার রয়েছে। বর্ষা মৌসুমে সকাল-সন্ধ্যায় সাপে বেশি ছোবল দেয়। সাপের কামড়ে যত দ্রুত সম্ভব অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা প্রয়োজন, তাহলেই মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। এ কারণে উপজেলা ও জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রাখা প্রয়োজন। অথচ কোথাও নেই অ্যান্টিভেনম।”

জেলার হাসপাতালগুলোতে যেসব অ্যান্টিভেনম ছিল, সেগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ বলে জানিয়েছেন কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) তাপস কুমার সরকার।

তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে, এখনও পাওয়া যায়নি। মূলত ভারত থেকে আমাদের দেশে অ্যান্টিভেনম আসে। সম্প্রতি সে দেশেও অ্যান্টিভেনমের চাহিদা বেড়ে গেছে। তাই আসতে দেরি হচ্ছে হয়তো।”

এই চিকিৎসা কর্মকর্তা বলেন, “সাপে কামড়ানো স্থান তাৎক্ষণিক পরিষ্কার করে ব্যান্ডেজ কিংবা সুতি কাপড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। যাতে ধুলাবালি না লাগে। সাপে কাটলে এক সেকেন্ডও সময় নষ্ট না করে সরকারি হাসপাতালগুলোতে আসা উচিত রোগীদের। তবে অ্যান্টিভেনম না থাকলে চিকিৎসা দেওয়া যায় না, এটাও সত্য।”

কবে নাগাদ জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে অ্যান্টিভেনম টিকা আসবে জানতে চাইলে জেলা সিভিল সার্জন এইচ এম আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “বিষধর সাপের কামড়ের প্রতিষেধক টিকার চাহিদা কুষ্টিয়ায় ২০০ ডোজ। চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অ্যান্টিভেনম টিকা আসতে পারে।”

About

Popular Links