Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

কাজী শাহেদ আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল

জেমকন গ্রুপের কর্পোরেট অফিসে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৭:০৪ পিএম


বাংলাদেশের আধুনিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক ও জেমকন গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা কাজী শাহেদ আহমেদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি-২৭ এলাকায় জেমকন গ্রুপের কর্পোরেট অফিসে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন কাজী শাহেদ আহমেদের স্ত্রী বিশিষ্ট রবীন্দ্রসঙ্গীত শিল্পী আমিনা আহমেদ ও তিন ছেলে কাজী নাবিল আহমেদ, কাজী আনিস আহমেদ এবং কাজী ইনাম আহমেদ।

দোয়া মাহফিলে তাদের পরিবার সদস্যবৃন্দ ছাড়াও ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সোবহান, ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ইমরান রাহমানসহ জেমকন গ্রুপ ও সহপ্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৮ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন কাজী শাহেদ আহমেদ। পরদিন জোহরের নামাজের পর ধানমন্ডি ৭ নম্বর সড়কের বায়তুল আমান মসজিদে প্রথম জানাজা, এরপর আবাহনী মাঠে দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। আসরের নামাজের পর গুলশান আজাদ মসজিদে তার তৃতীয় জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

কাজী শাহেদ আহমেদকে বলা হয় বাংলাদেশের আধুনিক সাংবাদিকতার পথপ্রদর্শক। দেশের অসংখ্য বরেণ্য সাংবাদিকদের অনুপ্রেরণা তিনি।  “দৈনিক আজকের কাগজ”এর প্রকাশক ও সম্পাদক তিনি। বাংলাদেশের আধুনিক সাংবাদিকতায় মুক্তবুদ্ধি ও মুক্তচেতনার যে উপস্থিতি তা কাজী শাহেদ আহমেদের হাত ধরেই শুরু। “খবরের কাগজ”এরও  প্রকাশক ছিলেন তিনি।

১৯৪০ সালের ৭ নভেম্বর যশোরে জন্মগ্রহণ করেন কাজী শাহেদ আহমেদ। ইঞ্জিনিয়ারিং পাসের পর তিনি ১৪ বছর সেনাবাহিনীতে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ মিলিটারি অ্যাকাডেমির প্রতিষ্ঠাকালীন প্লাটুন কমান্ডারদের একজন।

১৯৭৯ সালে “জেমকন গ্রুপ” প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে তার ব্যবসায়িক জীবন শুরু। প্রকাশক ও সম্পাদক ছিলেন “খবরের কাগজ” ও “আজকের কাগজ”-এর। বাংলাদেশে প্রথম অর্গানিক চা বাগানের প্রতিষ্ঠাতা তিনি। তার অলাভজনক উদ্যোগের মধ্যে আছে “ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ” ও “কাজী শাহেদ ফাউন্ডেশন”।

একাধারে কাজী শাহেদ ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠকও। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ঢাকা আবাহনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দীর্ঘদিন যাবৎ। ১৯৭৫ পরবর্তী সময়ে ক্লাবের দুর্দিনে তিনি হাল ধরেন। ১৯৯১ থেকে ক্লাব লিমিটেড হওয়ার পর ডিরেক্টর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

সাহিত্য পরিমণ্ডলেও কাজী শাহেদ আহমেদ সুপরিচিত। তার প্রথম গ্রন্থ “আমার লেখা” প্রকাশিত হয় ১৯৯৫ সালে। সে বছরই “ঘরে আগুন লেগেছে” নামে তার দ্বিতীয় বই প্রকাশিত হয়। ২০১৩ সালে ৭৩ বছর বয়সে তিনি রচনা করেন তার প্রথম উপন্যাস “ভৈরব”। আত্মজীবনী “জীবনের শিলালিপি” প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালে। একই বছর প্রকাশিত হয় উপন্যাস “পাশা”। ২০১৭ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাস “দাঁতে কাটা পেনসিল”। ২০১৮ সালে প্রকাশিত হয় উপন্যাস “অপেক্ষা”। ইতোমধ্যে ইংরেজিতে অনূদিত হয়েছে “ভৈরব”।

কাজী শাহেদ আহমেদ ও আমিনা আহমেদ দম্পতির বড় ছেলে কাজী নাবিল আহমেদ যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য, মেজো ছেলে কাজী আনিস আহমেদ অনলাইন নিউজ পোর্টাল বাংলা ট্রিবিউন ও ইংরেজি দৈনিক ঢাকা ট্রিবিউনের প্রকাশক এবং ছোট ছেলে কাজী ইনাম আহমেদ জেমকন গ্রুপের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

About

Popular Links