Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

সপরিবারে মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন বরখাস্ত সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান

এমরান আহমেদ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়ায় তিনি সপরিবারে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যান

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৯:৩১ পিএম

বরখাস্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়া পরিবারসহ ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে আশ্রয় চেয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

শুক্রবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তিনি দূতাবাস প্রাঙ্গণে আশ্রয় নেন।

এমরান আহমেদ ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে হুমকি দেওয়ায় তিনি সপরিবারে ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে যান। 

সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে যোগাযোগ করা হলে মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ব্রায়ান শিলার ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এ বিষয়ে তাদের কাছে কোনো তথ্য নেই।”

“এই সময়ে, আমাদের কাছে জানানোর মতো কোন তথ্য নেই।”

এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়াকে তার পদ থেকে বরখাস্তের ঘোষণা দেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া জংশন রেলস্টেশনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ ঘোষণা দেন।

বৃহস্পতিবার, নোবেল বিজয়ী ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস সম্পর্কে একটি বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের কাছে মন্তব্য করায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান আহমেদ ভূঁইয়াকে তার পদ থেকে বরখাস্ত করে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। 

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা অনুযায়ী বরখাস্ত করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তা প্রকাশ করা হয়। 

গত ৪ সেপ্টেম্বর, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এমরান নোবেল বিজয়ী ড. ইউনূসের বিচার সংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আমি মনে করি, ড. ইউনূস একজন সম্মানিত ব্যক্তি। তার সম্মানহানি করা হচ্ছে এবং এটি বিচারিক হয়রানি।”

শতাধিক নোবেলজয়ীর ওই খোলাচিঠির বিপরীতে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় থেকে প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে, এমন দাবি করে এমরান আহম্মদ বলেন, “অ্যাটর্নি জেনারেল অফিসে কর্মরত সবাইকে এতে স্বাক্ষর করার জন্য নোটিশ করা হয়েছে। আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, এ বিবৃতিতে স্বাক্ষর করব না।”

পরেরদিন এমরানের অবস্থানের বিষয়ে তার সমালোচনা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি চিঠিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করার বিষয়টি প্রকাশ্যে ঘোষণা করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ড. ইউনূস সম্পর্কে গণমাধ্যমে কথা বলার আগে তার পদত্যাগ করা উচিত ছিল বা অ্যাটর্নি জেনারেলের অনুমতি নেওয়া উচিত ছিল।

এদিকে, অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন সে সময় বলেন, “নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে পাল্টা বিবৃতি দেওয়ার জন্য তার কার্যালয় থেকে কোনো নির্দেশনা আসেনি।”

তিনি বলেন, “ডিএজি এমরান “কাউকে খুশি করার জন্য” মিডিয়ার সাথে কথা বলেছেন।”

“গতকাল তার ছুটির দিন ছিল, তার কোনো অফিসিয়াল ডিউটি ছিল না। তবুও তিনি একটি স্যুটে হাজির হয়ে একটি ব্রিফিং পরিচালনা করেছিলেন। আমি আপনাকে (সাংবাদিকদের) তার ব্রিফিংয়ের পিছনের উদ্দেশ্যটি তদন্ত করে আবিষ্কার করার জন্য অনুরোধ করছি, তিনি কাকে খুশি করতে চেয়েছিলেন এবং কেন?”

২৮ আগস্ট ১০০ টিরও বেশি নোবেল বিজয়ীসহ বিশ্ব নেতারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলা চিঠি পাঠান। এতে তারা ইউনূসকে বিচারিক হয়রানি করা হচ্ছে জানিয়ে তা বন্ধের দাবি জানান।

ইউনূসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ স্থগিত করার জন্য বিশ্ব নেতাদের আহ্বানের প্রতিক্রিয়ায়, বাংলাদেশের ১৭১ জন উল্লেখযোগ্য নাগরিক, বুদ্ধিজীবী ও পেশাজীবী ২ সেপ্টেম্বর একটি যৌথ বিবৃতি দেন।

স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে ছিলেন শিক্ষাবিদ, অর্থনীতিবিদ, আইনজীবী, সাংবাদিক, অভিনেতা, লেখক ও নাট্যব্যক্তিত্ব।

About

Popular Links