Tuesday, May 21, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুদক কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয়ে ‘দুর্নীতি দমন’, গ্রেফতার ২

শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাস হলেও নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন আনিস

আপডেট : ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৬:৫৩ পিএম

বিভিন্ন সরকারি দফতরের প্রায় ৫০০ কর্মকর্তাকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন পরিচয়ে ভুয়া দুর্নীতি মামলার ভয় দেখিয়ে ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারক আনিসুর রহমান ও তার সহযোগী ইয়াসিন তালুকদার। শিক্ষাগত যোগ্যতা উচ্চ মাধ্যমিক পাস হলেও নিজেকে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিতেন আনিস।

শুক্রবার (১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর হাজারীবাগ থানাধীন ৪১/১ সনাতনগড় বৌ বাজার এলাকা থেকে প্রতারকচক্রের সদস্য আনিসুর রহমান ওরফে বাবুলকে (৩৬) গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী হাজারীবাগের নবীপুর এলাকা থেকে আটক করা হয় ইয়াসিন (২৩)-কে। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ২২টি মোবাইল ফোন ও ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করা ২৬টি সিমকার্ডও উদ্ধার করে র‍্যাব।

শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার (সিপিসি-৩) মহিউদ্দিন ফারুকী।

একাধিক সহযোগীর সহায়তায় তারা এ প্রতারণা করে আসছে বলে জিজ্ঞাসাবাদে র‍্যাবকে জানিয়েছে তারা। এ প্রতারণার শুরু ২০১৪ সালে মাদারীপুরের রাজৈর থানার এক প্রতারকের মাধ্যমে। দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পর সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের টার্গেট করে তারা ফন্দি আঁটে। তাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা প্রক্রিয়াধীন বা দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ হচ্ছে এমন তথ্য দিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ভয় দেখিয়ে তারা অর্থ আদায় করে।

এক্ষেত্রে, প্রাথমিকভাবে তারা সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে সশরীরে গিয়ে মোবাইল বা টেলিফোন নম্বর সংগ্রহ করতে শুরু করে। এতে করে বিভিন্ন দফতর থেকে ফোন নম্বর ও খুব বেশি তথ্য সংগ্রহ সম্ভব না হওয়ায় সরকারি টেলিফোন ডিরেক্টরির সহায়তা নেয় প্রতারকচক্রটি। 

এই চক্রের আরও ৭-৮ জন সদস্য পলাতক রয়েছে এবং একজন প্রধান হোতার বিষয়ে র‍্যাবের কাছে তথ্য দিয়েছে তারা। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‌্যাব-২ এর কোম্পানি কমান্ডার বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা আরও জানায়, তাদের ৭ থেকে ১০টি গ্রুপ রয়েছে। তারা দুর্নীতিগ্রস্ত কর্মকর্তাদের ভয়-ভীতি দেখিয়ে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বরগুনাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলে নেয়।

সিমের ভুয়া রেজিস্ট্রেশন, সিম সংগ্রহ ও বিকাশ অ্যাকাউন্ট তৈরির বিষয়ে আটক আনিসুর জানায়, বিভিন্ন দোকানে নিম্নবিত্ত মানুষ নতুন সিম কিনতে গেলে তাদের সিম ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করে এবং তাতে বিকাশ অ্যাকাউন্ট খুলতো। এছাড়াও বিভিন্ন সিম বিক্রির দোকান থেকে ভুয়া রেজিস্ট্রেশন করা সিম সংগ্রহ করে তা দিয়েই প্রতারণার কাজ চালাত। একটি সিম কয়েকবার ব্যবহারের পর ফেলে দিত এই প্রতারকরা।

About

Popular Links