Sunday, May 19, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

শরীয়তপুরে ছেলের হাতে বাবা খুন, মা জখম

নিহতের ছেলে মাদকাসক্ত এবং মানসিক ভারসাম্যহীন

আপডেট : ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ১০:৩৮ পিএম

শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় ছেলের হাতে খুন হয়েছেন রহিম বেপারী (৬০) নামক এক ব্যক্তি। তার ছেলে নাঈম ব্যাপারী (২৫) ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাকে হত্যা করে। এ ঘটনায় নাঈমের মা পিয়ারা বেগম গুরুতর জখম হয়েছেন।

রবিবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে নড়িয়া উপজেলার আনাখন্ড গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত রহিম বেপারী আনাখন্ড গ্রামের বাসিন্দা। তিনি এলাকায় ফেরী করে মাছ বিক্রি করতেন।

আহত পিয়ারা বেগমকে গুরুতর অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার মাথায় তিনটি কোপের জখম রয়েছে বলে জনিয়েছেন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. শফিকুর রহমান। 

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন দেওয়ান জানান, জেলার নড়িয়া উপজেলার আনাখন্ড গ্রামের আব্দুর রহিম বেপারীর (৫০) ও পিয়ারা বেমগ দম্পতির ৩ ছেলে ও এক মেয়ে। চার সন্তানের মধ্যে নাহিম বেপারী (২০) তাদের ২য় সন্তান। প্রায় ৫বছর আগে নাহিম মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত হওয়ার পরে ছেলেটি মানসিক ভারসম্য হারিয়ে ফেলে। গেল এক বছর যাবৎ নাঈম বেপারী মানসিক রোগে ভূগছিল। মাঝে মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের সাথে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ঝগড়া হতো। রবিবার বিকাল সারে চারটার দিকে  বাবা আব্দুর রহিম বেপারী দিন মজুরের কাজ করে বাড়ি ফিরলে নাঈমের সাথে বাক-বিতন্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে নাঈম বেপারী ধারালো বটি দিয়ে বাবা রহিম বেপারীর শরীরের বিভিন্ন অংশে কুপিয়ে জখম করে। এসময় মা পিযারা বেগম ছাড়ানোর চেষ্টা করলে তাকেও কুপিয়ে আহত করে। ঘটনা স্থলেই মারা যায় রহিম বেপারী। পাশের লোকজন ছুটে এসে পিয়ারা বেগমকে উদ্ধার করে গুরুতর আহত অবস্থায় শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছে।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে ঘাতক ছেলেটিকে আটক করে। নিহত আব্দুর রহিম বেপারীর মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নড়িয়া থানার ওসি মঞ্জুরুল হক আকন্দ বলেন, "মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ছেলে নাঈমকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে নাঈমকে ভারসাম্যহীন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে বলা যাবে কি কারণ এ ঘটনা ঘটেছে।"

About

Popular Links