Thursday, May 30, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দুর্গাপূজা: চিনিগুঁড়া ধানে তৈরি হলো ১৮ প্রতিমা

প্রতিমাগুলো মনে হচ্ছে স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। পুঁথির মতো একটা একটা করে ধান দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমাগুলো

আপডেট : ১৩ অক্টোবর ২০২৩, ১০:৫২ এএম

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। আগামী ২০ অক্টোবর শুরু হবে এই পূজা। শেষ হবে ২৪ অক্টোবর। দুর্গার পূজা উপলক্ষে সারাদেশের হিন্দু ধর্মালম্বীরা প্রতিমা তৈরি করেছেন। প্রতিমার রূপে বৈপরিত্য আনতে নানা ধরনের উপাদান ও রঙ ব্যবহার করা হয়।

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার মুরারিকাটি উত্তর পালপাড়া মন্দিরে এবার ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধানের শৈল্পিক কারুকাজে নির্মাণ হয়েছে ১৮টি প্রতিমা।

পূজা শুরুর এখনো ১০ দিন বাকি থাকলেও ধান দিয়ে নির্মাণ করা প্রতিমা দেখতে মানুষের ভিড় বেড়েই চলেছে। যেন উৎসবের আগেই উৎসবের আমেজ।

সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো মনে হচ্ছে স্বর্ণ দিয়ে মোড়ানো হয়েছে। পুঁথির মতো একটা একটা করে ধান দিয়ে গেঁথে তৈরি করা হয়েছে এ প্রতিমা, যা অপরূপ সৌন্দর্য বর্ধন করেছে।

প্রতিমা তৈরির কারিগর শিল্পী পল্লত বিশ্বাস বলেন, “১৮টি প্রতিমা পূর্ণাঙ্গভাবে তৈরি করতে সম্পূর্ণ এক মাস সময় লেগেছে। এই মণ্ডপে দুর্গা, কার্তিক গণেশ, সরস্বতী, লক্ষ্মী, অসুরসহ আনুষঙ্গিক ১৮টি প্রতিমা তৈরির জন্য প্রথমে কাঠ, বাঁশ, পাট, নকশী কাপড় পা ও বিচুলির ফ্রেম বা কাঠামো, মাটি ও বিশেষ শৈল্পিক কারুকাজ হিসেবে ব্যয়বহুল চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে। কিছু কিছু অংশে ব্যয়বহুল রং স্প্রে করা হয়েছে। যার কারণে প্রতিমাগুলোর সৌন্দর্য আরও বর্ধিত হয়েছে।”

মুরারিকাটি পালপাড়া পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, “প্রতি বছর ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরি করা হয় এ পূজা মণ্ডপের প্রতিমাগুলো। এ বছর প্রায় ১০০ কেজি চিনিগুঁড়া ধান ব্যবহার করা হয়েছে এ প্রতিমা তৈরিতে। প্রতিমা তৈরির পূর্ণাঙ্গ কাজ শেষ হয়েছে আরও কয়েকদিন আগে এরই মধ্যে ধানের প্রতিমা দেখতে ভিড় করছেন অনেকে।”

স্থানীয় বাসিন্দা শ্যামাপদ পাল বলেন, “এবার যুব কমিটির আয়জনে ১ লাখ টাকার মতো খরচ করে ধানের প্রতিমা নির্মাণ হয়েছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে অচেনা মানুষের ভিড়ে মুখর হচ্ছে পূজা মণ্ডপ। পূজা শুরু হলে আমাদের যেসব স্বেচ্ছাসেবক আছে, তা দিয়ে শৃঙ্খলা কতটুকু রক্ষা করা যাবে জানি না। তাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ সহযোগিতা চাই।”

মণ্ডপে আসা অঞ্জলি পাল বলেন, “পালপাড়ায় ৪০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করে। এবার এ দুর্গাপূজা উদযাপনে এই প্রথম এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করেছে যুব কমিটি, যা সত্যি প্রশংসিত।”

মণ্ডপে আসা অঞ্জলি পাল বলেন, “পালপাড়ায় ৪০টি সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবার বসবাস করে। এবার এ দুর্গাপূজা উদযাপনে এই প্রথম এত সুন্দর প্রতিমা তৈরি করেছে যুব কমিটি, যা সত্যি প্রশংসিত।”

কলরোয়া পূজা উদযাপন পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক সন্দিপ রায় বলেন, “এবার কলারোয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় ৪৮টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপন হবে। শারদীয়া দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি ও সব প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে। আশা করছি শান্তি ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা শেষ হবে।”

কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “দুর্গাপূজা যাতে সবাই শান্তি-শৃঙ্খলার সঙ্গে উদযাপন করতে পারে এ জন্য প্রতিটি মণ্ডপে বাড়তি নজরদারি রাখা হবে। মণ্ডপে আনসার, গ্রাম পুলিশসহ পুলিশের কয়েকটি টিম গঠন করা হয়েছে। যারা শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে।”

About

Popular Links