Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

গবেষণা: বিএসএমএমইউতে অন্য রোগের চিকিৎসায় ভর্তি ৪৮.৪% ভুগছেন মানসিক রোগে

  • মানসিক রোগের প্রভাবে বিলম্বিত হতে পারে অন্য রোগের সুস্থতা
  • অন্য রোগের প্রভাবেও দেখা দিতে পারে মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
  • এমবিবিএস পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে অর্ন্তভুক্ত করার জোর দাবি
আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ০১:১৭ পিএম

দেশে মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা বাড়ছে বলে বারবার সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। ২০১৯ সালে পরিচালিত সর্বশেষ জাতীয় পর্যায়ের জরিপে দেখা গেছে, দেশের প্রায় ১৭% মানুষ কোনো না কোনো মানসিক রোগ ভুগছেন। করোনভাইরাস মহামারির পর সেই হার আরও বেড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর মধ্যেই উঠে এলো আরেক উদ্বেজনক তথ্য; দেশে অন্যান্য শারীরিক রোগে আক্রান্তদের মধ্যে আশঙ্কাজনকভাবে রয়েছে মানসিক রোগের প্রকোপ।

সম্প্রতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) মনোরোগবিদ্যা বিভাগ পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসপাতালে অন্য রোগে ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪৮.৪% মানসিক রোগেও আক্রান্ত। যার মধ্যে মেডিসিন অনুষদের হার ৫৫.৩ % এবং সার্জারি অনুষদের রোগীদের হার ৩৯.৩%।

শ‌নিবার (১৪ অক্টোবর) বিএসএমএমইউতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হ‌য়, গতবছর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়টির মনোরোগবিদ্যা বিভাগের পক্ষ থেকে এই গবেষণার উদ্যোগ নেওয়া হয়। গবেষণায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন ও সার্জারি অনুষদের ২৯টি বিভাগে ভর্তি রোগীদের মধ্যে মানসিক রোগের হার নিয়ে উপাত্ত সংগ্রহ করা হয়।

৩৪৭ জন রোগীর ওপর পরিচালিত গবেষণায় দেখা গেছে, তাদের মধ্যে ১৬৮ জন অর্থাৎ ৪৮.৪% রোগী কোনো না কোনো মানসিক রোগে ভুগছেন। তাদের মধ্যে ৫৪.৮% পুরুষ ও ৪৫.২% নারী। এদের মধ্যে ৩৩.৩% এর বয়স ৫১-৬৫ বছর এবং ১৯% এর বয়স ৩১-৪০ বছর।

আক্রান্তদের মধ্যে মাত্র ১.৭% রোগীকে মানসিক চিকিৎসার জন্য অন্য বিভাগ থেকে মনোরোগবিদ্যা বিভাগে পাঠানো হয়। আর গবেষণায় অংশ নেওয়া মোট রোগীদের ক্ষেত্রে এই হার ১.৭%।

বিষয়টিকে উদ্বেগজনক হিসেবেই দেখছেন প্রধান গবেষক অধ্যাপক ডা. সালাহ্‌উদ্দিন কাউসার বিপ্লব। তার ভাষ্য, মানসিক রোগ অন্য যেকোনো শারীরিক রোগকে প্রভাবিত করে এবং এর ফলে রোগীর সুস্থতা বিলম্বিত হতে পারে। এজন্য অন্য বিভাগের রোগীদের কোনো মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা আছে কি-না সেটি নিরুপণ করার ওপর গুরত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিএসএমএমইউ’র মনোরোগবিদ্যা বিভাগের এই সাবেক বিভাগীয় প্রধান।

একই চিত্র দেশের অন্যান্য হাসপাতালে বলেও মনে করেন তিনি। ঢাকা ট্রিবিউনের এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে, অন্যান্য চিকিৎসকদেরর মানসিক রোগ বিষয়ে ধারণা থাকা এবং প্রয়োজনে অন্য রোগীদের মানসিক রোগ সংক্রান্ত বিভাগে পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। আর এক্ষেত্রে এমবিবিএস পর্যায়ের শিক্ষাক্রমে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে অর্ন্তভুক্ত করা এবং পোস্ট গ্রাজুয়েশন পর্যায়ের সব বিভাগের চিকিৎসকদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টি সম্পর্কে বিশেষ কোর্স রাখার প্রতিও জোর দোবি জানান তিনি।

কেনো কোনো ক্ষেত্রে অন্যান্যা শারীরিক রোগের কারণেও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে উল্লেখ করে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে সর্বস্তরে সচেতনতা বাড়ানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করেন মানসিক স্বাস্থ্যের বিশেষায়িত পত্রিকা “মনর খবর” এর এই সম্পাদক।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, “এ গবেষণার মাধ্যমে রোগীসহ রোগীর চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা সচেতন হবেন। চিকিৎসকরা হাসপাতালে ভর্তিকৃত রোগীর সেবার মান আরও বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনানুযায়ী দ্রুত অন্য বিভাগের চিকিৎসার জন্য রেফারেল দেবেন। রেফারেলকৃত রোগীরা যাতে দ্রুত সেবা পায়, সেদিকে সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে হবে।”

মনোরোগবিদ্যা বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. নাহিদ মাহাজাবিন মোর্শেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. ছয়েফ উদ্দিন আহমদ, সার্জারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হোসেন, নার্সিং অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. দেবব্রত বণিক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মুহিত কামাল, চর্মরোগ বিভাগের অধ্যাপক ডা. হরষিত কুমার পালসহ মনোরোগবিদ্যা বিভাগের বিভিন্ন স্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

About

Popular Links