Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

'তুমিও পালিয়ে গেছো, তাই বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করলাম'

বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ঘটনার দিন মামলার প্রথম আসামি দাইয়া মিয়া ওই তরুনীদের ঘরে টিভি দেখতে যান।

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০৫:৩৪ পিএম

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলায় এক তরুণীকে গণধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার আসামি ইউনুস মিয়াকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররের পর ইউনুস পিবিআইকে জানিয়েছে- ওই মামলার অপর দুই আসামির করা অপমান সইতে না পেরে বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী।  

তবে পুলিশ বলছে, ধর্ষণের পরও ওই তরুণীকে বিষপান করিয়ে হত্যা করা হতে পারে। 

গতকাল সোমবার বিকেলে কুমিল্লার ৬ নম্বর আমলী আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম শারমিন রীমার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ইউনুস। তিনি মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের বাসিন্দা। 

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন-দাইয়া মিয়া (৪৮) ও মো. ইউনুস (৩৫)।

নিহত তরুণীর মাসহ পরিবারের সদস্যরা জানায়, গত ১২ ডিসেম্বর রাতে ওই তরুণীকে  নিজ বাড়ির পাশের একটি পরিত্যাক্ত ঘরে নিয়ে গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। ওইদিন রাতে রক্তমাখা জামাকাপড়সহ তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। 

এ ঘটনায় পর ১৪ ডিসেম্বর ওই তরুণীর বাবা তার এক আত্মীয়কে নিয়ে থানায় মামলা করতে গেলে একটি অপমৃত্যুর মামলা নেয়।  

পরে চলতি বছরের ২ জানুয়ারি কুমিল্লার আদালতে গণধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে তিনজনকে অভিযুক্ত করে একটি মামলা দায়ের করেন তার ওই তরুণীর মা। পরে আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য পিবিআই কুমিল্লাতে প্রেরণ করার জন্য মনোহরগঞ্জ থানা নির্দেশ দেয়। আদালতের নির্দেশে ৭ জানুয়ারি মনোহরগঞ্জ থানায় মামলাটি এফআইআর করে তদন্তের জন্য পিবিআইতে পাঠানো হয়। 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই কুমিল্লার পুলিশ পরিদর্শক মো. মতিউর রহমান বলেন, 'আদালতের নির্দেশে আমরা গত ৯ জানুয়ারি মামলাটি তদন্ত শুরু করি। এরপর ১১ জানুয়ারি মামলার প্রথম আসামি দাইয়া মিয়াকে গ্রেপ্তার করি। পরে দুই দিন রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও সে কিছুই স্বীকার করেনি। সর্বশেষ গত রবিবার কুমিল্লা নগরীরর টমছমব্রিজ এলাকা থেকে প্রযুক্তির সাহায্যে মামলার দুই নম্বর আসামি ইউনুস মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।  পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন।' 

মো. মতিউর রহমান জানান, স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে ইউনুস জানিয়েছে,  নিহত তরুণীর বাবা ভ্যান চালিয়ে সংসার চালাতেন। তারা চট্টগ্রাম থাকতেন। তিন বছর আগে প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তাদের বাসায় বেড়াতে যান ইউনুস। সে সময় তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। 

গত ছয় মাস আগে ওই তরুণী কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে যান। ঘটনার দুই দিন আগে ১০ জানুয়ারি তার মা তার আরেক সন্তানসম্ভবা বোনকে দেখতে চট্টগ্রামে যান। বাড়িতে কেউ না থাকার সুবাদে ঘটনার দিন মামলার প্রথম আসামি দাইয়া মিয়া তাদের ঘরে টিভি দেখতে যান। এ সময় ইউনুস মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ওই তরুণীকে বাড়ির পাশের একটি পরিত্যাক্ত রান্না ঘরে ডেকে নিয়ে যান। এক পর্যায়ে ইউনুস তাকে ধর্ষণ করেন। এ সময় দাইয়া মিয়া এবং মামলার অপর আসামি ইউনুস সেখানে উপস্থিত হলে ইউনুস পালিয়ে যান। 

জবানবন্দিতে ইউনুস আরও বলেন, ঘটনার দিন রাতে ওই তরুণী তাকে ফোন করেন। ফোনে তিনি ইউনুসকে বলেন, ‘তুমি প্রেম করে আমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করেছ। এটা দাইয়া আর ইউনুস দেখে ফেলেছে। এ নিয়ে তারা আমাকে অনেক অপমান করেছে। আর এখন তুমিও (ইউনুস) পালিয়ে গেছ। তাই আমি বিষ খেয়ে নিজেকে শেষ করে দিলাম।'

কুমিল্লা জেলা পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ওসমান গনি বলেন, 'আমরা পিবিআইতে আসা প্রতিটি মামলার ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছি। এই ঘটনাটির ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। এই মামলাটি আমাদের হাতে আসার পর আমরা ব্যাপকভাবে তদন্ত শুরু করি এবং আসামিদের গ্রেপ্তার করি।' 

পুলিশের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, 'এই মামলার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আমরা এখনো হাতে পাইনি। আর মামলার আসামি ইউনুস আদালতে যেই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে, তাও আমরা তদন্ত করে দেখছি। কারণ এমনটাও হতে পারে ওই তরুণীকে ধর্ষণের পর তারাই বিষ খাইয়ে হত্যা করেছে। এ ছাড়া মামলার অপর আসামিকে গ্রেপ্তারে আমাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।'

About

Popular Links