Monday, May 20, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবির অধিনায়ক বলেন, জানতে পেরেছি নুরুজ্জামান ভারত থেকে গরু চোরাকারবারীর মাধ্যমে গরু আনতে যান। এ সময় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০১:১৯ পিএম

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফর গুলিতে ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে নুরুজ্জামান (৪৫) নামে এক বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (২৩ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার আমজানখোর ইউনিয়নের রত্নাই এলাকার পশ্চিম সোনামতি ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে।

নুরুজ্জামান আমজানখোর ইউনিয়নের দক্ষিণ মেদ্যাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার মরদেহ এখন ভারতীয় সীমান্তের মধ্যে আছে।

ঠাকুরগাঁও ব্যাটালিয়ন (৫০ বিজিবি) অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল তানজীর আহম্মদ ঢাকা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, “জানতে পেরেছি নুরুজ্জামান ভারত থেকে গরু চোরাকারবারীর মাধ্যমে গরু আনতে যান। এ সময় বিএসএফের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। পরবর্তীতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক হচ্ছে।”

আমজানখোর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকালু বলেন, “নুরুজ্জামান গরু চোরাকারবারীর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। সোমবার ভোরে তাকে ভারত সীমান্তের মধ্যে গুলি করে বিএসএফের সদস্যরা। মরদেহ ভারতের বিএসএফ ১৫২ সোনামতি ক্যাম্পে রয়েছে।”

প্রসঙ্গত, ভারতীয় সীমান্তে বাংলাদেশিদের হত্যা নিয়ে প্রায়ই আলোচনা তৈরি হলেও এর কোনো সুষ্ঠু সমাধান আসেনি। ২০১৭ সাল থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় বছরে সীমান্তে মোট ১৬৪ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এই সময়ে আহত হয়েছেন ১৪০ জন। অপহৃত হয়েছেন ১১৯ জন।

সীমান্ত হত্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি বাবার ব্যক্ত করেছে ভারত। দেশটির সর্বোচ্চ পর্যায় থেকেও বারবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিশ্রুতিই রাখছে না তারা।

সীমান্ত হত্যা বন্ধ না হওয়ার পেছনে বাংলাদেশের জোরালো ভূমিকা না নেওয়াকে দায়ী করেছেন ভারতের মানবাধিকার সংগঠন মানবাধিকার সুরক্ষা মঞ্চের (মাসুম) সচিব কিরীটি রায়।

তিনি সংবাদমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, “সীমান্ত হত্যা নিয়ে বাংলাদেশ কোনো জোরালো প্রতিবাদ করে না। তারা জো হজুর, জ্বি হুজুর করে। এভাবে করলে তো পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হবে না। আর ভারত সরকার তো হিন্দুত্ববাদী মনোভাব থেকে মুসলিমদের টাইট দেওয়ার কাজে ব্যস্ত।”

বাংলাদেশের জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান মনে করেন, “বাংলাদেশকে চাপের মুখে রাখতে ভারত সীমান্ত হত্যাকে একটা কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে। বিএসএফ অব্যাহতভাবে সীমান্ত হত্যা চালিয়ে যাচ্ছে। এটা ভারতীয় নীতিরই প্রতিফলন। তারা মুখে সীমান্ত হত্যা কমিয়ে আনার যত কথাই বলুক না কেন বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন নেই।”

ড. মিজানুর রহমানের ভাষ্য, “সীমান্তে হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিএসএফ যে কারণ দেখায় তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ চোরাকারবারি বা অপরাধী হলেও তাকে বিনাবিচারে হত্যা করা আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন। কোনো সিভিলিয়ানকে এভাবে হত্যা করা যায় না। বিএসএফ আইন ও মানবাধিকারের লঙ্ঘন করে যাচ্ছে অব্যাহতভাবে। এর বিরুদ্ধে ভারত সরকার কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।”

About

Popular Links