Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা: যুক্তরাষ্ট্র থেকে ঢাকায় আসছেন তিন চিকিৎসক

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. হামিদ আহমেদ আব্দুর রব, ডা. ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ও ডা. জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন ঢাকায় আসছেন

আপডেট : ২৪ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:৪৯ পিএম

চিকিৎসাধীন বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় দেশে আসছেন যুক্তরাষ্ট্রের তিন চিকিৎসক। গত ৯ আগস্ট থেকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন খালেদা জিয়া। এরই মধ্যে বেশ কয়েকবার সিসিইউতে নেওয়া হয় তাকে।

বিদেশ থেকে চিকিৎসক নিয়ে আসার বিষয়ে ইতোমধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী এক-দুদিনের মধ্যে চিকিৎসকদের ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিএনপি সূত্রের বরাতে এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে অনলাইন সংবাদমাধ্যম বাংলা ট্রিবিউন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসক ডা. হামিদ আহমেদ আব্দুর রব, ডা. ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ও ডা. জেমস পিটার অ্যাডাম হ্যামিলটন বাংলাদেশে আসছেন।

এদের মধ্যে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রফেসর হামিদ রব জন হপকিন্স কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট প্রোগ্রামের পরিচালক এবং মেডিসিন বিশেষজ্ঞ; অধ্যাপক ক্রিসটোস স্যাভাস জর্জিয়াডেস ইন্টারভেনশনাল অনকোলজি বিভাগের পরিচালক এবং রেডিওলোজি অ্যান্ড রেডিওলোজিকাল বিশেষজ্ঞ; জেমস পিটার হ্যামিলট একই বিশ্ববিদ্যালয়ের হেপাটোলোজি বিভাগের পরিচালক ও মেডিসিন বিশেষজ্ঞ।

এ বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপার্সনের মিডিয়া উইং সদস্য শায়রুল কবির খান সংবাদমাধ্যমটিকে বলেন, “খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তার বিদেশে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বারবার সরকারের কাছে বলার পরও কোনো ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তিনি ২ মাসের অধিক সময় ধরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিয়ে আসার চেষ্টা করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যেতে হয় সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে। পরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায়ও তার সাজার রায় আসে।

দেশে করোনাভাইরাস মহামারি শুরুর পর খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ তাকে নির্বাহী আদেশে সাময়িক মুক্তি দেয় সরকার। শর্ত দেওয়া হয়, তাকে দেশেই থাকতে হবে।

কারাগার থেকে বেরিয়ে খালেদা জিয়া গুলশানের বাসা ফিরোজায় ওঠেন, এখনো তিনি সেখানেই থাকছেন। ২০২১ সালের এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর অসুস্থতার কারণে খালেদা জিয়াকে কয়েক দফায় ঢাকার বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়েছে।

খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালিতে ব্লক, আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। এর আগে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তার “পরিপাকতন্ত্রে” রক্তক্ষরণ এবং লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হওয়ার কথাও জানান চিকিৎসকেরা।

খালেদা জিয়াকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসার জন্য বারবার সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে তার পরিবার। খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে নিয়মিত কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি।

বিএনপি বলছে, খালেদা জিয়াকে হত্যা করতে চায় সরকার। এ জন্য তাকে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে বিদেশে যাওয়ার অনুমিত দেওয়ারে বিষয়টি আইনি জটিলতা। তাকে বিদেশে যেতে হলে আবার কারাগারে গিয়ে আবেদন করতে হবে।

About

Popular Links